০৯:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও শেয়ারবাজারে চমক, বিনিয়োগকারীদের আয়ে বড় ধাক্কা নয় বেইলি রোড অগ্নিকাণ্ডে বিল ফাঁকিতে গেট বন্ধ রাখার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ — দুই বছর পর তদন্তে চমক ২১ এপ্রিল শুরু এসএসসি পরীক্ষা — রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৭৭ হাজার পরীক্ষার্থী প্রস্তুত অ্যান্টার্কটিকায় বিপদের সংকেত: জলবায়ু পরিবর্তনে সম্রাট পেঙ্গুইনসহ বন্যপ্রাণী ঝুঁকিতে বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির যৌথ বিবৃতি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা ১০ জনের মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায়, হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পদ্মা নদী থেকে রিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার রংপুরে জ্বালানির লাইনে দাঁড়িয়ে শিক্ষকের মৃত্যু ফার্নেস অয়েলে লিটারে ২৪.৫৯ টাকা বৃদ্ধি, শিগগিরই বাড়তে পারে বিদ্যুতের খরচ শিরীন শারমিন জামিনে মুক্ত, কাশিমপুর কারাগার থেকে বের হলেন সাবেক স্পিকার

“এটা তো আমাদের মেয়েও হতে পারত”—ধর্ষণ-হত্যার শিকার তরুণীর মাকে ঘিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রায় ২০ মাস আগে আর.জি. কর হাসপাতালের যে তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন, যাকে অনেকে ‘অভয়া’ নামে চেনেন, তার মা রত্না দেবনাথ এখন ন্যায়বিচারের দাবিতে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, বিশেষ করে নারীদের কাছ থেকে, অন্যদিকে তেমনই সমালোচনাও তৈরি করেছে।

নির্বাচনী প্রচারে আবেগঘন পরিবেশ
পানিহাটির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়ে রত্না দেবনাথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগপূর্ণ পরিবেশ। অনেক মা তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন, কেউ চোখের জল মুছেছেন আঁচলে। জনতার মধ্যে বারবার উঠে এসেছে একটি অনুভূতি—“এটা তো আমাদের মেয়েও হতে পারত।”
তিনি ভোটারদের কাছে হাতজোড় করে সমর্থন চেয়ে বলেছেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং যেন আর কোনও ‘অভয়া’র ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা।

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রচারের সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ের ঘটনার জন্য রাজ্য সরকার দায়ী। তাঁর পাশে থেকে বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানিও তাঁর সাহসের প্রশংসা করে বলেন, একজন মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে সবাইকে পাশে দাঁড়ানো উচিত।

প্রচারে বাধা ও উত্তেজনা
দরজায় দরজায় প্রচারের সময় একাধিক জায়গায় প্রতিবাদের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিছু স্থানীয় মানুষ তাঁর উপর আক্রমণ চালায় এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলে। যদিও তাদের হাতে কোনও রাজনৈতিক পতাকা ছিল না, তবুও এই ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করে।
এই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে কেউ কেউ আতঙ্কিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাঁকে সরিয়ে দিলে হয়তো মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি থেমে যাবে—এমন ভাবনাও থাকতে পারে।

সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া
আর.জি. কর আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁরা ওই তরুণীকে নিজেদের মেয়ে হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু এখন রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সমাজের একাংশ দ্বিধায় রয়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ব্যক্তি চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, এই আন্দোলন ছিল দলনিরপেক্ষ নৈতিক প্রতিবাদ। কিন্তু এখন যদি এটি কোনও নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে আন্দোলনের মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু ধর্ষণকাণ্ড এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে তিনি এটাও বলেন, একজন শোকাহত মায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বিচার করা উচিত নয়, কিন্তু আন্দোলনের মূল দাবি—ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও ব্যবস্থাগত সংস্কার—এগুলো যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়।

ভিন্ন মতও রয়েছে
আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী স্মৃতিপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, কেউ যদি মনে করেন রত্না দেবনাথের রাজনীতিতে আসা আন্দোলনকে দুর্বল করেছে, তা অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কোনও ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া।

আরেক অংশগ্রহণকারী সুমেধা দে বলেন, একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার পেতে যে কোনও পথ বেছে নিতে পারেন—তা আন্দোলন হোক বা রাজনীতি। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সিদ্ধান্ত কি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি কোনও রাজনৈতিক চাপের ফল—এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে নারী নিরাপত্তা ও নারী সংক্রান্ত ইস্যু রাজনৈতিক ইশতেহারের অংশ হয়। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষে বাস্তব পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে একদিকে যেমন একজন মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াই সামনে এসেছে, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রত্যাশার জটিল সম্পর্কও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।-

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার মাঝেও শেয়ারবাজারে চমক, বিনিয়োগকারীদের আয়ে বড় ধাক্কা নয়

“এটা তো আমাদের মেয়েও হতে পারত”—ধর্ষণ-হত্যার শিকার তরুণীর মাকে ঘিরে নির্বাচনী রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

০৭:৪৩:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় ২০ মাস আগে আর.জি. কর হাসপাতালের যে তরুণী ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন, যাকে অনেকে ‘অভয়া’ নামে চেনেন, তার মা রত্না দেবনাথ এখন ন্যায়বিচারের দাবিতে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, বিশেষ করে নারীদের কাছ থেকে, অন্যদিকে তেমনই সমালোচনাও তৈরি করেছে।

নির্বাচনী প্রচারে আবেগঘন পরিবেশ
পানিহাটির বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে গিয়ে রত্না দেবনাথকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগপূর্ণ পরিবেশ। অনেক মা তাঁকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছেন, কেউ চোখের জল মুছেছেন আঁচলে। জনতার মধ্যে বারবার উঠে এসেছে একটি অনুভূতি—“এটা তো আমাদের মেয়েও হতে পারত।”
তিনি ভোটারদের কাছে হাতজোড় করে সমর্থন চেয়ে বলেছেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং যেন আর কোনও ‘অভয়া’র ঘটনা না ঘটে তা নিশ্চিত করা।

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রচারের সময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ের ঘটনার জন্য রাজ্য সরকার দায়ী। তাঁর পাশে থেকে বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানিও তাঁর সাহসের প্রশংসা করে বলেন, একজন মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে সবাইকে পাশে দাঁড়ানো উচিত।

প্রচারে বাধা ও উত্তেজনা
দরজায় দরজায় প্রচারের সময় একাধিক জায়গায় প্রতিবাদের মুখেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিছু স্থানীয় মানুষ তাঁর উপর আক্রমণ চালায় এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলে। যদিও তাদের হাতে কোনও রাজনৈতিক পতাকা ছিল না, তবুও এই ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করে।
এই প্রসঙ্গে রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে কেউ কেউ আতঙ্কিত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তাঁকে সরিয়ে দিলে হয়তো মেয়ের জন্য ন্যায়বিচারের দাবি থেমে যাবে—এমন ভাবনাও থাকতে পারে।

সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া
আর.জি. কর আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন দেখা গিয়েছিল। বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন, তাঁরা ওই তরুণীকে নিজেদের মেয়ে হিসেবেই দেখেছিলেন। কিন্তু এখন রত্না দেবনাথের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সমাজের একাংশ দ্বিধায় রয়েছে।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ্য ব্যক্তি চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী বলেন, এই আন্দোলন ছিল দলনিরপেক্ষ নৈতিক প্রতিবাদ। কিন্তু এখন যদি এটি কোনও নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তাহলে আন্দোলনের মূল চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতের কিছু ধর্ষণকাণ্ড এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে বিজেপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

তবে তিনি এটাও বলেন, একজন শোকাহত মায়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তকে বিচার করা উচিত নয়, কিন্তু আন্দোলনের মূল দাবি—ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও ব্যবস্থাগত সংস্কার—এগুলো যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়।

ভিন্ন মতও রয়েছে
আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী স্মৃতিপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, কেউ যদি মনে করেন রত্না দেবনাথের রাজনীতিতে আসা আন্দোলনকে দুর্বল করেছে, তা অহংকারের বহিঃপ্রকাশ। তাঁর মতে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা কোনও ব্যক্তির প্রতি অনুগ্রহ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক মানবিক প্রতিক্রিয়া।

আরেক অংশগ্রহণকারী সুমেধা দে বলেন, একজন মা তাঁর সন্তানের জন্য ন্যায়বিচার পেতে যে কোনও পথ বেছে নিতে পারেন—তা আন্দোলন হোক বা রাজনীতি। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই সিদ্ধান্ত কি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি কোনও রাজনৈতিক চাপের ফল—এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে নারী নিরাপত্তা ও নারী সংক্রান্ত ইস্যু রাজনৈতিক ইশতেহারের অংশ হয়। বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচন শেষে বাস্তব পরিবর্তন খুব কমই দেখা যায়।

এই পুরো ঘটনাপ্রবাহে একদিকে যেমন একজন মায়ের ন্যায়বিচারের লড়াই সামনে এসেছে, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সামাজিক প্রত্যাশার জটিল সম্পর্কও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।-