অবশেষে অপেক্ষার অবসান। নতুন দলে যোগ দেওয়ার পর টানা ব্যর্থতার পর এবার বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে জ্বলে উঠলেন সঞ্জু স্যামসন। তার অপরাজিত সেঞ্চুরি আর জেমি ওভারটনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভর করে চেন্নাই সুপার কিংস পেল চলতি আসরের প্রথম জয়।
চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে নামার পর শুরুটা ধীর হলেও দ্রুত ছন্দে ফেরেন স্যামসন। ৫৬ বলে অপরাজিত ১১৫ রানের ঝলমলে ইনিংসে ছিল চার ও ছয়ের বৃষ্টি। শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটওয়ার্ক আর নিখুঁত শট নির্বাচনে প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি।
ম্যাচের শুরুতে দলের হয়ে শক্ত ভিত গড়ে দেন আয়ুশ মহাত্রে। ৩৬ বলে ৫৯ রানের ইনিংসে স্যামসনের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১১৩ রানের বড় জুটি। এই জুটির ওপর ভর করেই নির্ধারিত ওভারে দুই উইকেটে ২১২ রান তোলে চেন্নাই।
পাওয়ারপ্লে থেকেই আক্রমণ
ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন স্যামসন। পেসারদের বিপক্ষে কাট, ফ্লিক আর সোজা ব্যাটে ড্রাইভে তুলে আনেন একের পর এক বাউন্ডারি। স্পিনারদেরও ছাড় দেননি। ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে এসে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেন ম্যাচের।
বিশেষ করে এক ওভারে ফুলটস বলকে ছক্কায় পরিণত করার পর থেকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। শেষ পর্যন্ত ইনিংসটি পৌঁছায় ব্যক্তিগত চতুর্থ শতকে।

ক্যাপিটালসের ভালো শুরু, কিন্তু ভাঙন দ্রুত
২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত করে দিল্লি ক্যাপিটালস। পাথুম নিসাঙ্কার দ্রুত ৪১ রানে দল দ্রুত এগিয়ে যায়। তবে এরপরই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন চেন্নাইয়ের বোলাররা।
খালিল আহমেদের বাউন্সারে আউট হন কেএল রাহুল। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। আনশুল কাম্বোজও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিয়ন্ত্রণে আনেন রানরেট।
ওভারটনের বিধ্বংসী স্পেল
জেমি ওভারটনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। প্রথম দুই ওভারেই দুই গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন তিনি। পরে ফিরে এসে আরও আঘাত হানেন, শেষ পর্যন্ত চার উইকেট শিকার করেন।
ট্রিস্টান স্টাবস লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে সঙ্গ না পাওয়ায় লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি ক্যাপিটালস। শেষ দিকে ওভারটনের হাতে স্টাবস আউট হওয়ায় নিশ্চিত হয় চেন্নাইয়ের জয়।
নতুন শুরুর ইঙ্গিত
এই জয়ে স্বস্তি ফিরেছে চেন্নাই শিবিরে। স্যামসনের ফর্মে ফেরা এবং বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা দলটির জন্য বড় ইতিবাচক দিক। এই পারফরম্যান্স কি নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত, সেটাই এখন দেখার।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















