১২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস রাহুলের প্রত্যাবর্তন, প্রিয়াঙ্কাও পথে—পশ্চিমবঙ্গ ভোটে কংগ্রেসের নতুন জোর

বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক

“মনে হচ্ছিল বইটি যেন নিজের ঘরেই ফিরে এসেছে”—এভাবেই বর্ণনা করেন বেলজিয়ান ইতিহাসবিদ ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক। জাকার্তার তামান ইসমাইল মারজুকির থিয়েটার বেসারে ভরপুর দর্শকের সামনে তাঁর বই ‘রেভোলুসি: ইন্দোনেশিয়া অ্যান্ড দ্য মেকিং অব দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড’-এর ইন্দোনেশীয় অনুবাদ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল এমনই আবেগঘন।

পরদিন এক আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম আধুনিক বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে এবং কেন সেই বিপ্লবী চেতনা আজও গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্দোনেশিয়ার বিপ্লব কীভাবে আধুনিক বিশ্বকে গড়ে তুলেছে

রেইব্রুকের মতে, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের সব স্বাধীনতা সংগ্রামের এক আদর্শ উদাহরণ। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার উত্থান বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান ছিল এবং সুকর্ণো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পান।

তিনি বলেন, আজকের তরুণদের অনেকেই বুঝতে পারে না যে বিশ্বমঞ্চে তাদের দেশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের হাতেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশটি গড়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক ইতিহাসে ইন্দোনেশিয়ার বিপ্লবের গুরুত্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা ঘোষণা করা প্রথম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক উপনিবেশমুক্তির সূচনা করে। তখন বিশ্বের দক্ষিণাংশের অধিকাংশ অঞ্চলই ছিল উপনিবেশ।

ইন্দোনেশিয়া দেখিয়ে দেয় কীভাবে একটি উপনিবেশ দ্রুত, সম্পূর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে এবং পূর্ণ রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে পারে। নাসের, নক্রুমাহ ও লুমুম্বার মতো নেতারা বান্দুংয়ের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হন।

সাক্ষীদের খোঁজে এক বছরের ভ্রমণ

২০১৫ সালের দিকে বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রেইব্রুক বুঝতে পারেন, ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের স্মৃতি জানার জন্য তাঁকে দ্রুত কাজ করতে হবে। তিনি এক বছর ধরে ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও নেপাল ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে বের করেন।

The Bodley Head Ltd Revolusi Indonesia and the Birth of the Modern World.: David  Van Reybrouck: 9781847927040: Amazon.com: Books

দূরবর্তী গ্রামে গিয়ে গুর্খা সৈনিকদের খুঁজে বের করা ছিল কঠিন কাজ। অনেকের কণ্ঠস্বর আগে কখনও শোনা বা নথিভুক্ত হয়নি। অনেক সময় যাঁরা নিজেদের গল্পহীন ভাবতেন, তাঁরাই সবচেয়ে গভীর স্মৃতি তুলে ধরেছেন। যেমন টোগিয়ান দ্বীপের এক নারী ১৯২৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব স্থানীয় বাণিজ্যে কীভাবে পড়েছিল, তা স্মরণ করেন।

ঔপনিবেশিক মানসিকতার সীমাবদ্ধতা

ডাচ ভাষার নানা নথি ঘেঁটে রেইব্রুক দেখেন, উপনিবেশিক শাসকরা বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা মনে করত স্থানীয় মানুষ তাদের নিয়ে সন্তুষ্ট, আর কেবল কিছু “খারাপ মানুষ” সমস্যার সৃষ্টি করছে।

কিন্তু বাস্তবে ত্যোক্রোআমিনোতো, সেমাউন ও সুকর্ণোর মতো নেতারা সহজেই জনগণকে সংগঠিত করতে পারছিলেন—যা স্পষ্ট করে দেয় মানুষের অসন্তোষের গভীরতা। একই সঙ্গে ডাচ সমাজও ছিল বিভক্ত—কেউ যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছে, কেউ আবার পক্ষ বদলেছে।

আফ্রিকার মুক্তি সংগ্রামে প্রভাব

১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলন ও ১৯৬০ সালের স্বাধীনতার ঢেউয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এক বছরে ১৮টি দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, যাদের অনেকেই বান্দুং সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল।

নাসের কায়রো ফিরে গিয়ে কিসোয়াহিলি ভাষায় রেডিও সম্প্রচার শুরু করেন, যার মাধ্যমে সাব-সাহারান আফ্রিকায় বান্দুংয়ের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। কারাগারে বসে নেলসন ম্যান্ডেলা এই সম্মেলনের নেতাদের “বান্দুংয়ের দৈত্য” বলে উল্লেখ করেন।

আজকের বিশ্বে বান্দুংয়ের চেতনা কতটা প্রয়োজন

রেইব্রুক মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব বহু মেরুকেন্দ্রিক হলেও সহযোগিতামূলক নয়। বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্র নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বান্দুংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল একসঙ্গে অগ্রগতি অর্জন করা। অথচ আজ জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব বিভক্ত হয়ে পড়ছে।

নতুন ধরনের উপনিবেশ: ভবিষ্যৎ দখল

রেইব্রুক সতর্ক করে বলেন, উপনিবেশবাদ কেবল অতীতের বিষয় নয়। আজ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একই ধরনের লোভ, স্বার্থপরতা ও দূরদর্শিতার অভাব দিয়ে প্রভাবিত করছি।

আগে উপনিবেশ ছিল ভূখণ্ডের ওপর, এখন তা সময়ের ওপর। আমাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন। ফলে আমরা এক অর্থে ভবিষ্যৎকে দখল করছি, আর সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক

০৮:৩০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

“মনে হচ্ছিল বইটি যেন নিজের ঘরেই ফিরে এসেছে”—এভাবেই বর্ণনা করেন বেলজিয়ান ইতিহাসবিদ ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক। জাকার্তার তামান ইসমাইল মারজুকির থিয়েটার বেসারে ভরপুর দর্শকের সামনে তাঁর বই ‘রেভোলুসি: ইন্দোনেশিয়া অ্যান্ড দ্য মেকিং অব দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড’-এর ইন্দোনেশীয় অনুবাদ প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল এমনই আবেগঘন।

পরদিন এক আলাপচারিতায় তিনি তুলে ধরেন, কীভাবে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম আধুনিক বিশ্বকে প্রভাবিত করেছে এবং কেন সেই বিপ্লবী চেতনা আজও গুরুত্বপূর্ণ।

ইন্দোনেশিয়ার বিপ্লব কীভাবে আধুনিক বিশ্বকে গড়ে তুলেছে

রেইব্রুকের মতে, ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ের সব স্বাধীনতা সংগ্রামের এক আদর্শ উদাহরণ। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার উত্থান বিশ্বজুড়ে দৃশ্যমান ছিল এবং সুকর্ণো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক স্বীকৃতি পান।

তিনি বলেন, আজকের তরুণদের অনেকেই বুঝতে পারে না যে বিশ্বমঞ্চে তাদের দেশের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অথচ ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণদের হাতেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম দেশটি গড়ে উঠেছে।

বৈশ্বিক ইতিহাসে ইন্দোনেশিয়ার বিপ্লবের গুরুত্ব

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা ঘোষণা করা প্রথম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক উপনিবেশমুক্তির সূচনা করে। তখন বিশ্বের দক্ষিণাংশের অধিকাংশ অঞ্চলই ছিল উপনিবেশ।

ইন্দোনেশিয়া দেখিয়ে দেয় কীভাবে একটি উপনিবেশ দ্রুত, সম্পূর্ণ ভূখণ্ডজুড়ে এবং পূর্ণ রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হতে পারে। নাসের, নক্রুমাহ ও লুমুম্বার মতো নেতারা বান্দুংয়ের চেতনা থেকে অনুপ্রাণিত হন।

সাক্ষীদের খোঁজে এক বছরের ভ্রমণ

২০১৫ সালের দিকে বইটি লেখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর রেইব্রুক বুঝতে পারেন, ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের স্মৃতি জানার জন্য তাঁকে দ্রুত কাজ করতে হবে। তিনি এক বছর ধরে ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও নেপাল ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শীদের খুঁজে বের করেন।

The Bodley Head Ltd Revolusi Indonesia and the Birth of the Modern World.: David  Van Reybrouck: 9781847927040: Amazon.com: Books

দূরবর্তী গ্রামে গিয়ে গুর্খা সৈনিকদের খুঁজে বের করা ছিল কঠিন কাজ। অনেকের কণ্ঠস্বর আগে কখনও শোনা বা নথিভুক্ত হয়নি। অনেক সময় যাঁরা নিজেদের গল্পহীন ভাবতেন, তাঁরাই সবচেয়ে গভীর স্মৃতি তুলে ধরেছেন। যেমন টোগিয়ান দ্বীপের এক নারী ১৯২৯ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব স্থানীয় বাণিজ্যে কীভাবে পড়েছিল, তা স্মরণ করেন।

ঔপনিবেশিক মানসিকতার সীমাবদ্ধতা

ডাচ ভাষার নানা নথি ঘেঁটে রেইব্রুক দেখেন, উপনিবেশিক শাসকরা বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তারা মনে করত স্থানীয় মানুষ তাদের নিয়ে সন্তুষ্ট, আর কেবল কিছু “খারাপ মানুষ” সমস্যার সৃষ্টি করছে।

কিন্তু বাস্তবে ত্যোক্রোআমিনোতো, সেমাউন ও সুকর্ণোর মতো নেতারা সহজেই জনগণকে সংগঠিত করতে পারছিলেন—যা স্পষ্ট করে দেয় মানুষের অসন্তোষের গভীরতা। একই সঙ্গে ডাচ সমাজও ছিল বিভক্ত—কেউ যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছে, কেউ আবার পক্ষ বদলেছে।

আফ্রিকার মুক্তি সংগ্রামে প্রভাব

১৯৫৫ সালের বান্দুং সম্মেলন ও ১৯৬০ সালের স্বাধীনতার ঢেউয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এক বছরে ১৮টি দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে, যাদের অনেকেই বান্দুং সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল।

নাসের কায়রো ফিরে গিয়ে কিসোয়াহিলি ভাষায় রেডিও সম্প্রচার শুরু করেন, যার মাধ্যমে সাব-সাহারান আফ্রিকায় বান্দুংয়ের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে। কারাগারে বসে নেলসন ম্যান্ডেলা এই সম্মেলনের নেতাদের “বান্দুংয়ের দৈত্য” বলে উল্লেখ করেন।

আজকের বিশ্বে বান্দুংয়ের চেতনা কতটা প্রয়োজন

রেইব্রুক মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব বহু মেরুকেন্দ্রিক হলেও সহযোগিতামূলক নয়। বিভিন্ন শক্তিকেন্দ্র নিজেদের রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বান্দুংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল একসঙ্গে অগ্রগতি অর্জন করা। অথচ আজ জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো বড় সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব বিভক্ত হয়ে পড়ছে।

নতুন ধরনের উপনিবেশ: ভবিষ্যৎ দখল

রেইব্রুক সতর্ক করে বলেন, উপনিবেশবাদ কেবল অতীতের বিষয় নয়। আজ আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একই ধরনের লোভ, স্বার্থপরতা ও দূরদর্শিতার অভাব দিয়ে প্রভাবিত করছি।

আগে উপনিবেশ ছিল ভূখণ্ডের ওপর, এখন তা সময়ের ওপর। আমাদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন। ফলে আমরা এক অর্থে ভবিষ্যৎকে দখল করছি, আর সবচেয়ে কম দায়ী দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।