০২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি আইডাহোর ব্যস্ত বিপণি এলাকায় বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩, আহত অন্তত ৭ হরমুজ খুলে দেওয়ার শর্তে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত? ইরানে নতুন হামলা স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের পার্লামেন্ট ঘেরাওয়ের পরও ছয় দিন ধরে চলেছে পাথর নিক্ষেপ, দিল্লিতে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক সরকারি সরঞ্জাম গুপ্তচরের ছায়াযুদ্ধ আবারও বিশ্বমঞ্চে, মৃত্যুকে সঙ্গী করে ফিরলেন জো সালদানা—শুরু ‘লায়নেস’-এর সবচেয়ে বিস্ফোরক মৌসুম পাতলা গড়ন, শক্তিশালী প্রযুক্তি—আইফোন এয়ার ২-এ বড় পরিবর্তনের আভাস মৃত্যুর খেলায় কিশোরেরা! ইউরোপ কাঁপাচ্ছে ‘ফক্সট্রট’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই চলছে খুনি নিয়োগের গোপন অভিযান ট্রাম্প আপাতত ইরানে নতুন হামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাব্য সমঝোতার দাবি বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে মাঠে ফিরলেন মেসি, জয় পেল না ইন্টার মায়ামি ‘লাভ আইল্যান্ড ইউকে’ কি জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে? দর্শকদের অভিযোগ—‘প্রেমের চেয়ে নাটকই বেশি’

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

ইউরোপের রাজনীতিতে এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অগাধ আস্থা ছিল। বিশেষ করে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই অনেকটা “মুক্ত বিশ্বের নেতা” হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন—শুধু প্রশংসা বা তোষামোদ করে আর কিছু অর্জন করা যাবে না।

প্রকাশ্যে সমালোচনার পথে ইউরোপ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রতিদিন অবস্থান বদলানো নেতৃত্বের লক্ষণ নয়। তার এই বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক সময় ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন মাক্রোঁ। কিন্তু এখন সেই সম্পর্কের জায়গায় এসেছে খোলামেলা বিরোধিতা।

ইরান ইস্যুতে দূরত্ব আরও স্পষ্ট

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘাতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া অনেক দেশের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। অনেক নেতা সরাসরি জানিয়ে দেন, এটি তাদের যুদ্ধ নয়।

আগের কৌশল ব্যর্থ

এক সময় ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করত, প্রশংসা আর সম্মান দেখিয়ে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করা সম্ভব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝতে পারে, এই কৌশল স্থায়ী ফল দেয় না।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দাবি এবং হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তাদের চোখে ট্রাম্প একজন অনির্দেশ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ নেতা হিসেবেই বেশি প্রতিভাত হচ্ছেন।

European leaders sign treaty establishing Ukraine war damages body – as it  happened | Ukraine | The Guardian

ন্যাটো নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে মিত্র দেশগুলোকে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে ইউরোপীয় নেতারা এতে নতি স্বীকার করেননি। যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলো নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও পরিচিত কিছু নেতা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নতুন বাস্তবতায় ইউরোপ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বাস্তববাদী হয়ে উঠেছে। তারা এখন আর আবেগ বা ঐতিহ্যগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে না। বরং নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা ও হঠাৎ সিদ্ধান্ত এখন ইউরোপীয়দের কাছে নতুন কিছু নয়। ফলে তার বক্তব্যে আগের মতো তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে অনেক সময় তারা বিষয়টি উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মস্কোর রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: ‘পর্দার আড়ালে সিআইএ, এমআইসিক্স ও মোসাদ’—সাবেক মার্কিন সেনা কর্মকর্তার দাবি

ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা

০৯:১৩:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ইউরোপের রাজনীতিতে এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অগাধ আস্থা ছিল। বিশেষ করে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আমেরিকাকেই অনেকটা “মুক্ত বিশ্বের নেতা” হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ইউরোপীয় নেতারা এখন স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন—শুধু প্রশংসা বা তোষামোদ করে আর কিছু অর্জন করা যাবে না।

প্রকাশ্যে সমালোচনার পথে ইউরোপ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রতিদিন অবস্থান বদলানো নেতৃত্বের লক্ষণ নয়। তার এই বক্তব্য মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এক সময় ট্রাম্পের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলেন মাক্রোঁ। কিন্তু এখন সেই সম্পর্কের জায়গায় এসেছে খোলামেলা বিরোধিতা।

ইরান ইস্যুতে দূরত্ব আরও স্পষ্ট

ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংঘাতে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ না করেই যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়া অনেক দেশের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দেয়নি। অনেক নেতা সরাসরি জানিয়ে দেন, এটি তাদের যুদ্ধ নয়।

আগের কৌশল ব্যর্থ

এক সময় ইউরোপীয় দেশগুলো মনে করত, প্রশংসা আর সম্মান দেখিয়ে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করা সম্ভব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা বুঝতে পারে, এই কৌশল স্থায়ী ফল দেয় না।
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে দাবি এবং হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন তাদের চোখে ট্রাম্প একজন অনির্দেশ্য ও ঝুঁকিপূর্ণ নেতা হিসেবেই বেশি প্রতিভাত হচ্ছেন।

European leaders sign treaty establishing Ukraine war damages body – as it  happened | Ukraine | The Guardian

ন্যাটো নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে মিত্র দেশগুলোকে সমালোচনা করেছেন এবং তাদের ‘কাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে ইউরোপীয় নেতারা এতে নতি স্বীকার করেননি। যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ইতালির মতো দেশগুলো নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেও পরিচিত কিছু নেতা দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নতুন বাস্তবতায় ইউরোপ

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই বাস্তববাদী হয়ে উঠেছে। তারা এখন আর আবেগ বা ঐতিহ্যগত সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে না। বরং নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক ভাষা ও হঠাৎ সিদ্ধান্ত এখন ইউরোপীয়দের কাছে নতুন কিছু নয়। ফলে তার বক্তব্যে আগের মতো তীব্র প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে অনেক সময় তারা বিষয়টি উপেক্ষা করেই এগিয়ে যাচ্ছে।