০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

  • Sarakhon Report
  • ০১:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • 10

চীনের একটি কারখানায় কাজ করতে করতেই ঘড়ি মেরামত শেখা—সেখান থেকেই শুরু। আর আজ সেই অভিজ্ঞতা তাকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। স্বশিক্ষিত ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াও প্রথমবারের মতো জেনেভার একটি বড় ঘড়ি প্রদর্শনীতে নিজের তৈরি ঘড়ি উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

কারখানা থেকে সৃজনশীলতার পথে

দক্ষিণ চীনের দোংগুয়ান শহরের নিজের কর্মশালায় বসে কিয়ান নতুন একটি ঘড়ির কাজ শেষ করছিলেন। এটি একটি হাতে ঘোরানো যান্ত্রিক ঘড়ি, যার নকশা ও অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। এই মডেলের সঙ্গে থাকবে বিশেষ সংস্করণ, যা সীমিত সংখ্যায় তৈরি হবে এবং আগ্রহীরা আগাম অর্ডার দিতে পারবেন।

প্রথমবার জেনেভার মঞ্চে

এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কিয়ানের জন্য বড় এক মাইলফলক। এটি এমন একটি আয়োজন, যেখানে ছোট ও স্বতন্ত্র ঘড়ি নির্মাতারা নিজেদের কাজ তুলে ধরেন। এর আগে তিনি কখনো জেনেভায় নিজের কাজ প্রদর্শন করেননি।

নকশায় ভিন্নতা, ভাবনায় নতুনত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিয়ানের ঘড়ির নকশা প্রচলিত ইউরোপীয় ধারার সঙ্গে মেলে না। বরং এতে রয়েছে একধরনের নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা। ঘড়ির যন্ত্রাংশের বিন্যাস, ডায়ালের গঠন—সবকিছুতেই আলাদা স্বাক্ষর ফুটে ওঠে।

চীনা ঘড়িশিল্পে নতুন ধারা

একসময় চীনের ঘড়িশিল্প ছিল মূলত সস্তা ও ব্যাপক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র নির্মাতাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে। কিয়ান সেই নতুন প্রজন্মের একজন, যারা নিজের চিন্তা ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলছেন।

He Taught Himself Watchmaking and Left the Factory Floor Behind - The New  York Times

সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার গল্প

কারখানায় কাজ করার সময় নিজের ঘড়ি ঠিক করতে গিয়ে কিয়ানের আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর সহকর্মীদের ঘড়ি মেরামত করতে করতে কাজের চাপ এত বেড়ে যায় যে, তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে নিজের ঘড়ি তৈরি শুরু করেন।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সম্ভাবনা

চীনে ঘড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থা এখনো ইউরোপের মতো উন্নত নয়। তাই অনেক যন্ত্রাংশই কিয়ানকে নিজেই তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করাও সহজ নয়। তবুও এই সীমাবদ্ধতাকেই তিনি সৃজনশীলতার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

উচ্চপ্রযুক্তির শহরে থাকলেও কিয়ানের কাজের ধরণ বেশ ঐতিহ্যনির্ভর। তিনি এখনও কাগজে পেন্সিল দিয়ে নকশা আঁকেন, তারপর তা বাস্তবে রূপ দেন। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও নতুন উপাদান ব্যবহার করে ঘড়ির নকশায় বৈচিত্র্য আনা।

সামনে এগোনোর স্বপ্ন

কিয়ান চান, তার কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ সেই পথকে সহজ করবে বলেই তার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তিনি ঘড়ি মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে চান, কারণ সেটিই তার যাত্রার শুরু এবং এখনো তার আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

০১:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

চীনের একটি কারখানায় কাজ করতে করতেই ঘড়ি মেরামত শেখা—সেখান থেকেই শুরু। আর আজ সেই অভিজ্ঞতা তাকে নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। স্বশিক্ষিত ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াও প্রথমবারের মতো জেনেভার একটি বড় ঘড়ি প্রদর্শনীতে নিজের তৈরি ঘড়ি উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন।

কারখানা থেকে সৃজনশীলতার পথে

দক্ষিণ চীনের দোংগুয়ান শহরের নিজের কর্মশালায় বসে কিয়ান নতুন একটি ঘড়ির কাজ শেষ করছিলেন। এটি একটি হাতে ঘোরানো যান্ত্রিক ঘড়ি, যার নকশা ও অভ্যন্তরীণ যন্ত্রাংশ তিনি নিজেই তৈরি করেছেন। এই মডেলের সঙ্গে থাকবে বিশেষ সংস্করণ, যা সীমিত সংখ্যায় তৈরি হবে এবং আগ্রহীরা আগাম অর্ডার দিতে পারবেন।

প্রথমবার জেনেভার মঞ্চে

এই প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কিয়ানের জন্য বড় এক মাইলফলক। এটি এমন একটি আয়োজন, যেখানে ছোট ও স্বতন্ত্র ঘড়ি নির্মাতারা নিজেদের কাজ তুলে ধরেন। এর আগে তিনি কখনো জেনেভায় নিজের কাজ প্রদর্শন করেননি।

নকশায় ভিন্নতা, ভাবনায় নতুনত্ব

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিয়ানের ঘড়ির নকশা প্রচলিত ইউরোপীয় ধারার সঙ্গে মেলে না। বরং এতে রয়েছে একধরনের নতুনত্ব ও সৃজনশীলতা। ঘড়ির যন্ত্রাংশের বিন্যাস, ডায়ালের গঠন—সবকিছুতেই আলাদা স্বাক্ষর ফুটে ওঠে।

চীনা ঘড়িশিল্পে নতুন ধারা

একসময় চীনের ঘড়িশিল্প ছিল মূলত সস্তা ও ব্যাপক উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখন ধীরে ধীরে স্বতন্ত্র নির্মাতাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে। কিয়ান সেই নতুন প্রজন্মের একজন, যারা নিজের চিন্তা ও কারিগরি দক্ষতা দিয়ে আলাদা পরিচয় গড়ে তুলছেন।

He Taught Himself Watchmaking and Left the Factory Floor Behind - The New  York Times

সংগ্রাম ও সৃজনশীলতার গল্প

কারখানায় কাজ করার সময় নিজের ঘড়ি ঠিক করতে গিয়ে কিয়ানের আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর সহকর্মীদের ঘড়ি মেরামত করতে করতে কাজের চাপ এত বেড়ে যায় যে, তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করেন। পরে ধীরে ধীরে নিজের ঘড়ি তৈরি শুরু করেন।

সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সম্ভাবনা

চীনে ঘড়ি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থা এখনো ইউরোপের মতো উন্নত নয়। তাই অনেক যন্ত্রাংশই কিয়ানকে নিজেই তৈরি করতে হয়। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করাও সহজ নয়। তবুও এই সীমাবদ্ধতাকেই তিনি সৃজনশীলতার সুযোগ হিসেবে দেখেন।

ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন

উচ্চপ্রযুক্তির শহরে থাকলেও কিয়ানের কাজের ধরণ বেশ ঐতিহ্যনির্ভর। তিনি এখনও কাগজে পেন্সিল দিয়ে নকশা আঁকেন, তারপর তা বাস্তবে রূপ দেন। তার লক্ষ্য ভবিষ্যতে আরও নতুন উপাদান ব্যবহার করে ঘড়ির নকশায় বৈচিত্র্য আনা।

সামনে এগোনোর স্বপ্ন

কিয়ান চান, তার কাজ আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশগ্রহণ সেই পথকে সহজ করবে বলেই তার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তিনি ঘড়ি মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে চান, কারণ সেটিই তার যাত্রার শুরু এবং এখনো তার আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।