মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বাড়ায় ইউরোপের বড় অর্থনীতি জার্মানি আবারও সংকটের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যেও ভোক্তা আস্থা দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় অর্থনীতির দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জার্মানিতে ব্যবসায়িক আস্থা ছয় বছরের সর্বনিম্ন
জার্মানির আইফো ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে তাদের ব্যবসায়িক আস্থা সূচক কমে ৮৪.৪-এ নেমেছে, যা মে ২০২০-এর পর সর্বনিম্ন। মার্চে এই সূচক ছিল ৮৬.৩। অর্থনীতিবিদরা তুলনামূলক কম পতনের পূর্বাভাস দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতার কারণে জার্মানি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, এখন সরবরাহ শৃঙ্খলেও প্রভাব ফেলছে।

সব খাতে নেতিবাচক প্রবণতা
উৎপাদন, সেবা, বাণিজ্য ও নির্মাণ—চারটি খাতেই ব্যবসায়িক আস্থা কমেছে। উৎপাদন খাতে সরবরাহ সংকট বাড়ছে, আর খুচরা বিক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ায় ক্রেতারা খরচ কমাতে পারেন।
লজিস্টিক খাতেও চাপ বেড়েছে, যা পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নতুন ব্যবসার চাহিদা কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের কার্যক্রমও প্রায় এক বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে।
যুক্তরাজ্যেও ভোক্তা আস্থার পতন
জার্মানির পাশাপাশি যুক্তরাজ্যেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এপ্রিল মাসে ভোক্তা আস্থা সূচক কমে মাইনাস ২৫-এ নেমেছে, যা গত এক বছরে সবচেয়ে বড় পতন এবং অক্টোবর ২০২৩-এর পর সর্বনিম্ন।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবারের বাজেটে চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা মানুষকে আরও সতর্ক করে তুলছে।
জ্বালানি খরচে চাপ বাড়ছে
যুক্তরাজ্যে মার্চ মাসে জ্বালানি বিক্রি ৬.১% বেড়েছে—যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ মাসিক বৃদ্ধি। দাম বাড়ার আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে জ্বালানি কিনে মজুত করছেন। এর ফলে খুচরা বিক্রিতে সাময়িক বৃদ্ধি দেখা গেলেও সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ থেকেই যাচ্ছে।
জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ইউরোপের অর্থনীতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক তথ্য সেই চাপের স্পষ্ট প্রতিফলন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















