মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং—বিশ্বের দুই সবচেয়ে ক্ষমতাধর নেতা আবার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশা তৈরি হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি মূলত দুই দেশের সম্পর্কের গভীর ফাটলকেই আরও স্পষ্ট করে তুলবে। দ্য ইকোনমিস্ট সাময়িকী এই বৈঠককে চিহ্নিত করেছে একটি “অকার্যকর জুটির মিলনস্থান” হিসেবে—যেখানে পারস্পরিক দুর্বলতা বৈশ্বিক নেতৃত্বের বিকল্প হতে পারে না।

বৈঠকের প্রেক্ষাপট
মার্কিন-চীন সম্পর্ক এখন বহুমাত্রিক দ্বন্দ্বে জর্জরিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেমিকন্ডাক্টর, বাণিজ্য শুল্ক, তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান প্রায় সম্পূর্ণ বিপরীত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন চীনের বিরুদ্ধে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগ বিধিনিষেধ কঠোর করেছে, আর চীন প্রযুক্তি স্বনির্ভরতা অর্জনে জাতীয় বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। তবু উভয় পক্ষই এই বৈঠক চায়, কারণ উভয়েই স্বীকার করছে যে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি আছে।
বাংলাদেশের উপর সরাসরি প্রভাব
এই বৈঠকের ফলাফল বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির সিংহভাগ যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে, আর কাঁচামাল আসে চীন থেকে। মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে যে ধাক্কা লাগবে, তার সরাসরি শিকার হবে বাংলাদেশের গার্মেন্ট শিল্প। একই সাথে চীনের অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশমুখী বিনিয়োগকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই পরাশক্তি যখন নিজেদের দ্বন্দ্বে মশগুল, তখন বৈশ্বিক নেতৃত্বের শূন্যতা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















