বাংলাদেশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ছোট ছোট রোগীরা ভিড় করছে। গত ৪ মে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ১৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা একদিনের হিসাবে সর্বোচ্চ।
টিকা ফাঁক ও উপসর্গের ছবি

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫০ জনের বেশি শিশুর সন্দেহজনক বা নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত মৃত্যু ৫৭টি, সন্দেহজনক ২৭৯টি। আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছাড়িয়েছে পঞ্চাশ হাজার, যার মধ্যে ৩১ হাজারেরও বেশিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। ঢাকা বিভাগে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক ঘটেছে, কারণ জেলা পর্যায় থেকে গুরুতর রোগীদের রাজধানীর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় হামের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। ওই বছরের মেসেলস-রুবেলা প্রচারাভিযান পিছিয়ে যাওয়ায় বড় একটি শিশুগোষ্ঠী অসুরক্ষিত থেকে গেছে। সরকার চলতি বছরের ৫ এপ্রিল জরুরি টিকাদান অভিযান শুরু করেছে, এবং এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনী মাঠে, ডেঙ্গুর শঙ্কাও সামনে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ময়দানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ২০ শয্যার একটি ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি, তবে সামনের ডেঙ্গু মৌসুমের কথা মাথায় রেখে এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















