দেশে আবারও জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে। নতুন এই দাম ১ জুন রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
নতুন ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১১৫ টাকায়, কেরোসিন ১৩৫ টাকায়, পেট্রোল ১৪০ টাকায় এবং অকটেন ১৪৫ টাকায়।
এবারের সমন্বয়ে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও কেরোসিন, পেট্রোল এবং অকটেনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারেও নতুন করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক দামের পাশাপাশি আমদানি ব্যয় এবং মুদ্রা বিনিময় হারের প্রভাবও মূল্য নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
২০২৪ সালে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই ব্যবস্থার আওতায় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়।
এর ফলে বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের আগে গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তন করা হয়েছিল। মাত্র ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মূল্য বৃদ্ধি।

ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়, পণ্য পরিবহন খরচ এবং বিভিন্ন খাতের উৎপাদন ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারী এবং পরিবহন খাতের একটি অংশ অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তাদের একটি অংশ আশঙ্কা করছে, জ্বালানি ব্যয় বেড়ে গেলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের বাজারে আরেক দফা ব্যয় বৃদ্ধির চাপ তৈরি হলো, যা সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতি ও ভোক্তা পর্যায়ে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















