ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই এবার গ্রিসে চালু হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল গ্রিস সফরে এই অগ্রগতির কথা জানান। এর ফলে গ্রিস হলো এমন দশম দেশ, যেখানে কোনো না কোনোভাবে ভারতের ইউপিআই পেমেন্ট সুবিধা ব্যবহারের পথ খুলছে। ভারতীয় পর্যটক, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। কারণ বিদেশে ভ্রমণের সময় নগদ অর্থ, আন্তর্জাতিক কার্ড বা অতিরিক্ত চার্জের ঝামেলা কমিয়ে পরিচিত মোবাইল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গ্রিসে ইউপিআই চালুর বিষয়টি শুধু পর্যটন সুবিধার গল্প নয়। এটি ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর আন্তর্জাতিকীকরণের অংশ। ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক শাখা এনআইপিএল বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ইউপিআইকে ভারতীয় সীমান্তের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। গ্রিসের ক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যাংকিং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী মার্চেন্টদের কাছে ভারতীয় ব্যবহারকারীরা পরিচিত ইউপিআই পদ্ধতিতে পেমেন্ট করতে পারবেন।

কেন এটি বড় পদক্ষেপ
ইউপিআইয়ের শক্তি হলো এর সহজতা। ব্যবহারকারী ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত টাকা পাঠাতে বা পেমেন্ট করতে পারেন। ভারতে এটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। চায়ের দোকান থেকে বড় ব্যবসা, অনলাইন কেনাকাটা থেকে সরকারি ফি, প্রায় সব জায়গায় ইউপিআই ব্যবহৃত হয়। এই অভ্যাস বিদেশে নিয়ে যেতে পারা ভারতের জন্য নরম শক্তির এক নতুন রূপ। প্রযুক্তি শুধু দেশের ভিতরে নয়, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বাণিজ্য ও কূটনীতির ক্ষেত্রেও প্রভাব তৈরি করছে।
গ্রিসের গুরুত্ব
গ্রিস ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন গন্তব্য। ভারতীয় পর্যটকরা এথেন্স, সান্তোরিনি, মাইকোনোস বা ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে গেলে অংশগ্রহণকারী দোকান, রেস্তোরাঁ, হোটেল বা পর্যটন সেবায় সহজ পেমেন্টের সুবিধা পেতে পারেন। এখনই সব জায়গায় ইউপিআই চলবে, এমন ধরে নেওয়া যাবে না। এটি ধাপে ধাপে মার্চেন্ট গ্রহণযোগ্যতা বাড়ার বিষয়। কিন্তু একটি ইউরোপীয় দেশে এই ধরনের ব্যবস্থার প্রবেশ ভারতের ডিজিটাল আর্থিক কূটনীতির পরিসর বাড়ায়।
![]()
বাংলাদেশের জন্য বার্তা
বাংলাদেশে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, আন্তঃব্যবহারযোগ্যতা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ডিজিটাল পেমেন্ট রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো ভারতের মতো বড় পদক্ষেপ নিতে পারেনি। বাংলাদেশের প্রবাসী আয়, শ্রমবাজার, পর্যটন এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট সংযোগ তৈরি করা গেলে তা বড় সুযোগ হতে পারে।
ইউপিআইয়ের গ্রিসে প্রবেশ দেখাচ্ছে, পেমেন্ট অবকাঠামো এখন কেবল ব্যাংকিং সেবা নয়, জাতীয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য আগামী দিনের প্রতিযোগিতা হবে শুধু কে কত অ্যাপ বানাল তা নয়, বরং কার ডিজিটাল সিস্টেম অন্য দেশেও ব্যবহারযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হলো।
এ ধরনের সিস্টেমের আরেকটি দিক হলো আস্থা। বিদেশি দোকানদার, ব্যাংক, পর্যটন প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বোঝাতে হয় যে পেমেন্ট নিরাপদ, নিষ্পত্তি দ্রুত এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পথ পরিষ্কার। তাই ইউপিআইয়ের আন্তর্জাতিক বিস্তার শুধু প্রযুক্তিগত সংযোগ নয়, ব্যাংকিং আস্থা, নিয়মকানুন, ব্যবহারকারী সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় ব্র্যান্ডিংয়ের সম্মিলিত ফল।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















