০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী স্মার্ট চশমার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, বাড়ছে গোপনে ভিডিও ধারণের ভয় রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বিদেশি যোদ্ধারা, সামনে ভয়াবহ মৃত্যুর গল্প ছুটির দিনেও পাসপোর্ট সেবা, স্বস্তি মালয়েশিয়ার প্রবাসীদের চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে সহায়তার অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন ট্রাম্প ব্রিকস নৈশভোজে শুধু নিরামিষ খাবার, ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ‘নেতিবাচক শক্তি’ আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার পক্ষে আবারও ট্রাম্প, স্কটল্যান্ড নিয়ে এখনই কথা নয় চীনের প্রতিরক্ষা ফোরামে নিরাপত্তার নতুন বার্তা, নজরে যুক্তরাষ্ট্র-জাপান আফ্রিকার সামনে সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দৌড়ে কি বদলাবে মহাদেশটির ভাগ্য?

স্পেনের  দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের ১০৬তম মিনিটের গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরল স্পেন।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো রানার্সআপ হয়েই। স্পেন একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও ভেঙে দেয়।

এটা ৪৭ মিলিয়ন স্প্যানিশ মানুষের গোল: জয়ের নায়ক তোরেস

স্পেনের জয়ের নায়ক ফেরান তোরেস

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন ফেরান তোরেস। পুরো টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার প্রথম গোল, কিন্তু সেটিই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

গোলের পর তোরেস বলেন, “এটি ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের গোল। হয়তো সবাই মিলে গোলটি করেনি, কিন্তু এটি তাদের সবার জন্য।”

পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য

স্কোরলাইন দীর্ঘ সময় সমতায় থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতেই। নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবল দিয়ে তারা আর্জেন্টিনাকে কার্যত আক্রমণ গড়ার সুযোগই দেয়নি।

স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

ম্যাচের প্রথম ১০টি কর্নারের মধ্যে ৯টিই আদায় করে স্পেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কার্যকর কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।

এনজোর ক্ষণিকের ভুলে স্কালোনির সাজানো দুর্গের পতন

এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে বদলে যায় ম্যাচ

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে স্পেনের পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়জুড়ে রক্ষণেই ব্যস্ত থাকতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেই সুযোগেই জয়সূচক গোল আদায় করে স্পেন।

তোরেস বলেন, “মেসি প্রতিপক্ষ দলে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের নিজেদের খেলাতেই বিশ্বাস রেখেছি।”

স্পেনের রেকর্ড গড়া অভিযান

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করে শিরোপা জিতে তারা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে নারীদের বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নও স্পেন।

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যার মধ্যে রয়েছে ২৯টি জয় ও ৯টি ড্র। এটি ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন রেকর্ড।

৬৫ বছর বয়সী লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক কোচের কীর্তিও গড়েছেন।

ক্যাম্পকে বিদায় জানিয়ে মেসির আবেগঘন পোস্ট

মেসির আবেগঘন বিদায়

রানার্সআপ পদক নেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। তিনি স্বীকার করেন, “তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।”

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও বলেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তবে স্পেনই ছিল সেরা দল। তিনি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করে পরাজয়কে মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বর্ণাঢ্য সমাপ্তি

৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের পর্দা নামল এই ফাইনালের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ১০৪ ম্যাচে ৩০০টির বেশি গোল হয়েছে।

প্রায় ৮০ হাজার দর্শকে ভরা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের বিরতিতে হাফটাইম শো আয়োজন করা হয়। বিশ্বের নানা অঙ্গনের তারকারা মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শেষে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে স্পেন আবারও প্রমাণ করল, বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরার জন্য তাদের অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে নিটওয়্যার শিল্প, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ঝুঁকি বাড়ালে সামনে কী

স্পেনের  দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

১১:২১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের ১০৬তম মিনিটের গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরল স্পেন।

এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো রানার্সআপ হয়েই। স্পেন একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও ভেঙে দেয়।

এটা ৪৭ মিলিয়ন স্প্যানিশ মানুষের গোল: জয়ের নায়ক তোরেস

স্পেনের জয়ের নায়ক ফেরান তোরেস

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে নিকো উইলিয়ামসের দুর্দান্ত পাস থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল করেন ফেরান তোরেস। পুরো টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার প্রথম গোল, কিন্তু সেটিই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

গোলের পর তোরেস বলেন, “এটি ৪ কোটি ৭০ লাখ মানুষের গোল। হয়তো সবাই মিলে গোলটি করেনি, কিন্তু এটি তাদের সবার জন্য।”

পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য

স্কোরলাইন দীর্ঘ সময় সমতায় থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের হাতেই। নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবল দিয়ে তারা আর্জেন্টিনাকে কার্যত আক্রমণ গড়ার সুযোগই দেয়নি।

স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখান। তিনি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২টি সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন।

ম্যাচের প্রথম ১০টি কর্নারের মধ্যে ৯টিই আদায় করে স্পেন। অন্যদিকে, অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনা কার্যকর কোনো আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি।

এনজোর ক্ষণিকের ভুলে স্কালোনির সাজানো দুর্গের পতন

এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ডে বদলে যায় ম্যাচ

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে স্পেনের পাও কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়জুড়ে রক্ষণেই ব্যস্ত থাকতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সেই সুযোগেই জয়সূচক গোল আদায় করে স্পেন।

তোরেস বলেন, “মেসি প্রতিপক্ষ দলে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই চাপ থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের নিজেদের খেলাতেই বিশ্বাস রেখেছি।”

স্পেনের রেকর্ড গড়া অভিযান

কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণিত হলো। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র একটি গোল হজম করে শিরোপা জিতে তারা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে নারীদের বিশ্বকাপ জয়ের পর এখন পুরুষ ও নারী—দুই বিভাগের বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নও স্পেন।

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেনের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ ম্যাচে, যার মধ্যে রয়েছে ২৯টি জয় ও ৯টি ড্র। এটি ইউরোপীয় ফুটবলে নতুন রেকর্ড।

৬৫ বছর বয়সী লুইস দে লা ফুয়েন্তে বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে বয়স্ক কোচের কীর্তিও গড়েছেন।

ক্যাম্পকে বিদায় জানিয়ে মেসির আবেগঘন পোস্ট

মেসির আবেগঘন বিদায়

রানার্সআপ পদক নেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি। তিনি স্বীকার করেন, “তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে।”

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিও বলেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, তবে স্পেনই ছিল সেরা দল। তিনি খেলোয়াড়দের লড়াইয়ের প্রশংসা করে পরাজয়কে মর্যাদার সঙ্গে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বর্ণাঢ্য সমাপ্তি

৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের পর্দা নামল এই ফাইনালের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ১০৪ ম্যাচে ৩০০টির বেশি গোল হয়েছে।

প্রায় ৮০ হাজার দর্শকে ভরা মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের বিরতিতে হাফটাইম শো আয়োজন করা হয়। বিশ্বের নানা অঙ্গনের তারকারা মাঠে উপস্থিত ছিলেন। ম্যাচ শেষে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেন।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে স্পেন আবারও প্রমাণ করল, বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরার জন্য তাদের অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না।