হেভি মেটাল সংগীতের কিংবদন্তি ওজি অসবোর্নের মৃত্যুর এক বছর পূর্তিতে তাকে স্মরণ করেছেন তার স্ত্রী শ্যারন অসবোর্ন। ভক্তদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ওজিকে মনে রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার গান খুব জোরে বাজানো এবং সেই সংগীতের সঙ্গে উদযাপন করা।
গত বছরের ২২ জুলাই ৭৬ বছর বয়সে মারা যান ওজি অসবোর্ন। দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৯ সালে তার পারকিনসন রোগ ধরা পড়ে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগে নিজের শেষ বিদায়ী কনসার্টে মঞ্চে উঠেছিলেন তিনি, যা বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি করেছিল।
ওজির স্মৃতিতে শ্যারনের আবেগঘন কথা
মৃত্যুর এক বছর পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শ্যারন বলেন, মানুষ যেন ওজিকে শুধু একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে নয়, একজন হাসিখুশি, প্রাণবন্ত ও সত্যিকারের মানুষ হিসেবেও মনে রাখে।
তিনি জানান, ওজি সবসময় নিজের মতো ছিলেন। তিনি কখনো অন্য কারও মতো হওয়ার চেষ্টা করেননি। তার কথাবার্তা, রসবোধ এবং সরল আচরণই তাকে মানুষের কাছে বিশেষ করে তুলেছিল।
শ্যারন বলেন, তাদের মধ্যে কখনো বড় ধরনের ঝগড়া হলেও শেষ পর্যন্ত ওজির কোনো মজার মন্তব্যে দুজনেই হেসে ফেলতেন। তার মতে, ওজি ছিলেন এমন একজন মানুষ যার মধ্যে ছিল আন্তরিকতা ও বড় হৃদয়।
বার্মিংহামে ওজির স্মরণে বিশেষ আয়োজন
ওজির জন্মস্থান বার্মিংহামে তার স্মৃতিতে প্রথমবারের মতো বিশেষ দিবস পালনের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের অ্যাস্টন এলাকায় জন্ম নেওয়া এই সংগীত তারকাকে সম্মান জানাতে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্যারনের ভাষায়, বার্মিংহামই ছিল ওজির ঘর। তিনি এই শহর ও এখানকার মানুষকে ভালোবাসতেন এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করতেন।
তিনি বলেন, ভারী ধাতব সংগীতের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরেই ওজির স্মৃতি সবচেয়ে ভালোভাবে ধরে রাখা সম্ভব।
মানবিক কাজেও থাকবে ওজির অবদান
ওজির শেষ কনসার্ট থেকে পাওয়া অর্থ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছিল। শ্যারন জানিয়েছেন, পারকিনসন রোগের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চালিয়ে যাবেন তারা।’

তিনি বলেন, পারকিনসন রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে এবং এর চিকিৎসার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। ওজি সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
শ্যারন আরও বলেন, ছোটবেলায় অসুস্থ হলে ওজিকে যে হাসপাতাল চিকিৎসা দিয়েছিল, সেটির প্রতিও তার বিশেষ কৃতজ্ঞতা রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে ভক্তদের ভালোবাসা
ওজির শেষ কনসার্টে বিশ্বের জনপ্রিয় অনেক সংগীতশিল্পী অংশ নিয়েছিলেন। শ্যারন সেই আয়োজনকে পরিবারের জন্য স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সেদিন ওজির প্রতি যে ভালোবাসা ও সম্মান দেখানো হয়েছিল, তা তার পরিবার কখনো ভুলবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ তাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে ওজির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট জানায়, ওজি অসবোর্ন শুধু একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি যুগের প্রতীক। তার গান ও ব্যক্তিত্ব আগামী প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















