০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
দিল্লিতে আবারও বিক্ষোভ, সরকার–সিজেপি বৈঠক; অনড় আন্দোলনকারীরা, জরুরি শুনানিতে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত মেসির পর আর্জেন্টিনা: এক যুগের সমাপ্তি, আরেক অভিযাত্রার শুরু সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত না হলে সামরিক শক্তিও ভঙ্গুর অযৌক্তিক অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের ফাঁদ: কেন বুদ্ধিমান মানুষও টাকার ক্ষেত্রে ভুল করেন জ্বালানির নতুন ভূরাজনীতি: লোহিত সাগরের সংকট কি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরও গভীর মন্দার দিকে ঠেলে দেবে? মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে আসিয়ানের তাড়াহুড়ো কি নিজেদের অবস্থানকেই দুর্বল করবে? রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা সিরাজগঞ্জ কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু, অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ভারতের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: বিজেপির জন্য নতুন সংকট, নাকি বিরোধীদের শেষ সুযোগ?

ময়মনসিংহে গ্যাসসংকটে সিএনজি চালকদের মহাসড়ক অবরোধ, আড়াই ঘণ্টায় স্থবির জনজীবন

গ্যাসের অভাবে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি নিতে না পেরে ময়মনসিংহে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন চালকেরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিগারকান্দা এলাকায় সিএনজি চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তারা নিয়মিতভাবে যানবাহনে জ্বালানি নিতে পারছেন না, ফলে জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্যাসসংকটে আয় কমে যাওয়ার অভিযোগ

আন্দোলনকারী চালকদের অভিযোগ, এটি কোনো এক দিনের সমস্যা নয়। টানা কয়েক দিন ধরে ভোর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনের সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহে গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের মহাসড়কে অবরোধ - Dhaka News 24

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, গ্যাসের অপেক্ষায় দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আগের মতো যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয় না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

আরেক চালক ইকবাল হোসাইন বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে শুধু চালকদের আর্থিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের সংকট মাঝেমধ্যেই দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অবরোধে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

সরেজমিনে দেখা যায়, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবরোধের প্রভাব আরও বাড়তে থাকে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও।

এ অবস্থায় অনেক অফিসগামী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের কেউ ক্লাসে, কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে চালকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ জানান, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বেলা ১২টার দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে আবারও বিক্ষোভ, সরকার–সিজেপি বৈঠক; অনড় আন্দোলনকারীরা, জরুরি শুনানিতে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত

ময়মনসিংহে গ্যাসসংকটে সিএনজি চালকদের মহাসড়ক অবরোধ, আড়াই ঘণ্টায় স্থবির জনজীবন

০১:২৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

গ্যাসের অভাবে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জ্বালানি নিতে না পেরে ময়মনসিংহে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন চালকেরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী এবং দূরপাল্লার যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিগারকান্দা এলাকায় সিএনজি চালকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। কয়েক দিন ধরে জেলার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় তারা নিয়মিতভাবে যানবাহনে জ্বালানি নিতে পারছেন না, ফলে জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্যাসসংকটে আয় কমে যাওয়ার অভিযোগ

আন্দোলনকারী চালকদের অভিযোগ, এটি কোনো এক দিনের সমস্যা নয়। টানা কয়েক দিন ধরে ভোর থেকেই ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক গ্যাস না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে প্রতিদিনের সম্ভাব্য আয়ের বড় অংশ হারিয়ে যাচ্ছে।

ময়মনসিংহে গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকদের মহাসড়কে অবরোধ - Dhaka News 24

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চালক ইদ্রিস আলী বলেন, গ্যাসের অপেক্ষায় দিনের অর্ধেক সময় চলে যায়। এরপর আগের মতো যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয় না। আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

আরেক চালক ইকবাল হোসাইন বলেন, গ্যাসসংকটের কারণে শুধু চালকদের আর্থিক ক্ষতিই হচ্ছে না, সাধারণ মানুষও নির্ভরযোগ্য পরিবহনসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার ভাষ্য, এ ধরনের সংকট মাঝেমধ্যেই দেখা দিলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত ও নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

অবরোধে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

সরেজমিনে দেখা যায়, সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অবরোধের প্রভাব আরও বাড়তে থাকে। ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও।

এ অবস্থায় অনেক অফিসগামী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের কেউ ক্লাসে, কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ময়মনসিংহ শহর ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা অন্যতম প্রধান গণপরিবহন। এই খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে চালকদের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরো যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে নগর ও জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিব্বিরুল আহমেদ জানান, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে বেলা ১২টার দিকে চালকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।