যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় আর অ্যান্ড বি গায়ক ক্রিস ব্রাউন লন্ডনের একটি নাইটক্লাবে ২০২৩ সালের সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আরও গুরুতর কয়েকটি অভিযোগের বিচার এড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন।
লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন আদালতে শুক্রবার শুনানির সময় ৩৭ বছর বয়সী এই সংগীতশিল্পী জনসমক্ষে সহিংসতার অভিযোগ স্বীকার করেন। আদালতে অভিযোগটি পড়ে শোনানোর পর তিনি নিজেকে দোষী বলে জানান।
অভিযোগ থেকে কিছুটা স্বস্তি, তবে শাস্তির অপেক্ষা
ক্রিস ব্রাউনের বিরুদ্ধে আগে গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার চেষ্টা এবং বোতলকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। তবে নতুন সমঝোতার ভিত্তিতে এসব অভিযোগ আর এগিয়ে নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি এমনভাবে বেআইনি সহিংসতা ব্যবহার বা হুমকি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যাতে ঘটনাস্থলে থাকা মানুষ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে পারেন।

আগামী ২৬ অক্টোবর তার সাজা ঘোষণা করা হবে। যুক্তরাজ্যের আইনে এই ধরনের অপরাধের জন্য জরিমানা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
২০২৩ সালের লন্ডন নাইটক্লাবের ঘটনা
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের হ্যানোভার স্কয়ারের একটি অভিজাত ব্যক্তিগত ক্লাবে। সে সময় ক্রিস ব্রাউন যুক্তরাজ্যে সফরে ছিলেন।
অভিযোগ ছিল, একটি বোতল দিয়ে এক ব্যক্তির মাথায় আঘাত করা হয় এবং পরে তাকে ধাওয়া করে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় ক্রিস ব্রাউন ও তার সহযোগী ওমোলোলু আকিনলুলুর বিরুদ্ধে মামলা হয়।
দুজনেই পরে আদালতে জনসমক্ষে সহিংসতার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তাদের দুজনের সাজা একই দিনে ঘোষণা করা হবে।
জামিনে মুক্ত বিশ্বখ্যাত শিল্পী
ক্রিস ব্রাউন প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের জামিনে রয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে কয়েক দিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নির্দিষ্ট শর্তে জামিন দেয়।
![]()
আদালতে হাজিরার দিন তাকে ভক্তদের ছোট একটি দল স্বাগত জানায়। নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে আদালতে প্রবেশ করেন তিনি।
দীর্ঘদিনের আলোচিত জীবন
ক্রিস ব্রাউন সংগীতজগতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও তার ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি জটিলতা নিয়ে বহুবার আলোচনায় এসেছেন।
২০০৯ সালে তৎকালীন প্রেমিকা রিহানাকে আঘাত করার ঘটনায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি আইনি সমস্যায় জড়িয়েছেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্ত থাকা এই গায়কের ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তার আইনি সমস্যাগুলোও বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















