দেশে কারা হেফাজতে বন্দিদের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই আবারও জেলে এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রাজবাড়ী জেলা কারাগারে থাকা তুষার বিশ্বাস (৪২) শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তাকে প্রথমে কারা হাসপাতাল এবং পরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশের পর এই নতুন ঘটনাটি সামনে এলো।
তুষার বিশ্বাস রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বনগ্রাম নতুনপাড়া গ্রামের শশধর বিশ্বাসের ছেলে। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ও মারধরের অভিযোগসহ মোট সাতটি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে ছয়টি পাংশা মডেল থানায় এবং একটি গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা হয়। সাত মামলার মধ্যে তিনটিতে তিনি জামিন পেয়েছিলেন।
কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে

রাজবাড়ী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মামুনুর রশীদ জানান, শুক্রবার সকালে নাশতা করার কিছুক্ষণ পর তুষার বিশ্বাস বুকে ব্যথার অভিযোগ করেন। এরপর তাকে কারাগার হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান জেল সুপার।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনগত আনুষ্ঠানিকতা এবং ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে তুষার বিশ্বাসের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার বিষয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন কারাগারে অন্তত ৬১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ জন ছিলেন বিচারাধীন বন্দি এবং ২৪ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ৬০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে বিচারাধীন বন্দিদের ক্ষেত্রে। আসক জানিয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য সংকলন করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর সর্বশেষ ঘটনাটি সেই পরিসংখ্যানের পর প্রকাশ্যে আসা আরেকটি বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু। তবে তুষার বিশ্বাসের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি বুকে ব্যথায় আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক অন্যান্য কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনার কোনো সম্পর্কের কথা কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা উল্লেখ করেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















