দীর্ঘ এক দশক পর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নিয়ে ফিরেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। তাঁর নতুন ছবি ‘হার প্রাইভেট হেল’ মুক্তির পর থেকেই তুমুল আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ একে অসাধারণ শিল্পনির্ভর সিনেমা বলছেন, আবার অনেক দর্শক ছবিটি দেখে মাঝপথেই প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে গেছেন। রহস্য, স্বপ্ন, সহিংসতা ও নান্দনিক উপস্থাপনার মিশেলে নির্মিত এই চলচ্চিত্র ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
দর্শকদের দুই মেরুতে ভাগ করে দিল সিনেমা
ছবিটি প্রদর্শনের পর থেকেই এর প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। অনেক দর্শকের কাছে গল্পটি জটিল ও দুর্বোধ্য মনে হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের মতে, প্রচলিত গল্প বলার ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নির্মাতা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছেন। ছবির রহস্যময় পরিবেশ, ধীরগতির বর্ণনা এবং প্রতীকী দৃশ্য দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করে।
রহস্যময় খুনিকে ঘিরে এগিয়েছে গল্প
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রে রয়েছেন তিন অভিনেত্রী, যারা একটি কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত। তাদের জীবন হঠাৎই জড়িয়ে পড়ে ‘লেদার ম্যান’ নামে পরিচিত এক রহস্যময় খুনির ছায়ায়। বাস্তব, কল্পনা ও দুঃস্বপ্নের সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যায়। একই সঙ্গে আরেকটি সমান্তরাল কাহিনিতে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানে এক মার্কিন সেনাসদস্য নিজের অপহৃত কন্যাকে খুঁজতে বিপজ্জনক অভিযানে নামেন। শেষ পর্যন্ত দুটি কাহিনি কোথায় মিলেছে, সেটি দর্শকের ব্যাখ্যার ওপরই অনেকটা ছেড়ে দিয়েছেন নির্মাতা।

এক দশক পর রেফনের প্রত্যাবর্তন
রেফনের এটি গত দশ বছরের মধ্যে প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। তাঁর আগের কাজগুলোর মতো এখানেও আড়ম্বরপূর্ণ দৃশ্য, অন্ধকার আবহ, ফ্যাশননির্ভর চিত্রভাষা এবং রহস্যময় চরিত্রের উপস্থিতি স্পষ্ট। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে নান্দনিকতার প্রতি নির্মাতার বিশেষ মনোযোগ চোখে পড়ে।
অভিনয় ও নির্মাণশৈলী পাচ্ছে প্রশংসা
চলচ্চিত্রটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোফি থ্যাচার। তাঁর পাশাপাশি অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরাও নিজেদের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরেছেন। ছবির সংগীত, আলোকসজ্জা এবং চিত্রগ্রহণ বিশেষভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। সংলাপের চেয়ে দৃশ্য, আবহ এবং অনুভূতির মাধ্যমে গল্প তুলে ধরার চেষ্টা ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
রহস্যের চেয়ে অনুভূতিই বড়
‘হার প্রাইভেট হেল’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের সরাসরি উত্তর মেলে না। বরং দর্শককে নিজের মতো করে গল্পের অর্থ খুঁজে নিতে হয়। এই কারণেই ছবিটি সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য না হলেও, ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এটি আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















