উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত মৌসুমি লঘুচাপ আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্রবন্দর এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বিরূপ আবহাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৬টার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, গভীর নিম্নচাপটির কেন্দ্র তখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর ওডিশা উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল। এর অবস্থান ছিল উত্তর অক্ষাংশ ২১ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৮৮ দশমিক ১ ডিগ্রি।
বাংলাদেশের উপকূল থেকে এর দূরত্ব অনুযায়ী এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৪৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মোংলা থেকে ২২০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা থেকে ২৬০ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

উপকূল অতিক্রমের সম্ভাবনা
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওডিশা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
এর প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।
দমকা হাওয়া ও উত্তাল সাগরের সতর্কতা
বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ কারণে গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের আশপাশের সাগর উত্তাল থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
চার বন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখতে বলা হয়েছে।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের সর্বশেষ আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















