মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এনসিপির নির্ধারিত পদযাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার ছবিসংবলিত একাধিক কুশপৌত্তলিকা বৈদ্যুতিক তারে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে স্থানীয়রা এসব কুশপৌত্তলিকা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থল সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা ভবন সংলগ্ন একটি বিদ্যুতের খুঁটি এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বৈদ্যুতিক তারে কয়েকটি কুশপৌত্তলিকা ঝুলতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুশপৌত্তলিকাগুলো সরিয়ে নিয়ে যান।
পদযাত্রার আগে উত্তেজনা
স্থানীয়ভাবে সোমবার বিকেলে গাংনী বাজার বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এনসিপির পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দলটির স্থানীয় নেতাদের ধারণা, এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
উদ্ধার করা কুশপৌত্তলিকাগুলোতে এনসিপির শীর্ষ কয়েকজন নেতার ছবি ছিল। এর মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সারজিস আলমের ছবিও ছিল।
কুশপৌত্তলিকায় কী লেখা ছিল
কুশপৌত্তলিকাগুলোর গায়ে একটি আপত্তিকর বার্তা লেখা ছিল। সেখানে লেখা ছিল, ‘তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিলো রসাতলে। এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সকালে হাঁটতে বের হয়ে স্কুলের সামনে বৈদ্যুতিক তারে ঝুলন্ত কুশপৌত্তলিকা দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সেগুলো উদ্ধার করা হয়।
এনসিপির অভিযোগ
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সমন্বয়ক ও মেহেরপুর জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ দাবি করেন, পদযাত্রাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক জনসমাগমের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন।
পুলিশের বক্তব্য
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাদ্দিদ মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা কুশপৌত্তলিকাগুলো ঝুলিয়ে রাখতে পারে। তবে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















