ব্রিটিশ টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হলি উইলবি নতুন ইউটিউব কুকিং শো ‘হলি উইলবি টুগেদার উইথ ভয়’ নিয়ে ফিরেছেন। তবে শুরুর পরই অনুষ্ঠানটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, মূলধারার টেলিভিশনের পরিচিত, মিষ্টি ও নিরীহ উপস্থাপকের ভাবমূর্তি ভাঙার চেষ্টা করলেও নতুন এই অনুষ্ঠান এখনো দর্শকদের জন্য যথেষ্ট আলাদা বা আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি।
ইমেজ বদলের স্পষ্ট চেষ্টা
টেলিভিশনে দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে হলি উইলবি পরিচিত ছিলেন শান্ত ও সৌম্য উপস্থাপক হিসেবে। নতুন অনুষ্ঠানে সেই পরিচিত ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা স্পষ্ট। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথি অভিনেতা স্ট্যানলি টুচিকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অশালীন শব্দ ব্যবহার করেন, যদিও সেটি সম্প্রচারের সময় সম্পাদনা করে ঢেকে দেওয়া হয়।
শুধু ভাষাতেই নয়, অনুষ্ঠান চলাকালে ওয়াইন পান করা, নিজের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস নিয়ে খোলামেলা কথা বলা এবং মূলধারার টেলিভিশনের নিয়মের বাইরে আরও স্বচ্ছন্দ উপস্থাপনা—এসবের মাধ্যমে নতুন পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।
মূলধারার টিভি থেকে ইউটিউবে
আইটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘দিস মর্নিং’ ছেড়ে ইউটিউবে আসার পর উইলবি যেন আরও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। একসময় মূলধারার দিনের টেলিভিশনে বছরে ১৩ লাখ পাউন্ড আয় করা এই উপস্থাপিকা এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নতুন দর্শক তৈরির চেষ্টা করছেন।
অনুষ্ঠানের সেট, পোশাক ও পরিবেশে আধুনিক কিন্তু সংযত উপস্থাপনার ছাপ রয়েছে। সমালোচকদের ভাষায়, পুরো পরিবেশে এক ধরনের মার্জিত লাইফস্টাইল অনুষ্ঠানের আবহ তৈরি করা হয়েছে।
স্ট্যানলি টুচির উপস্থিতি
প্রথম পর্বের অতিথি ছিলেন অভিনেতা স্ট্যানলি টুচি। ক্যামেরার সামনে তাঁর স্বাভাবিক উপস্থিতি এবং ইতালীয় খাবার ‘স্প্যাগেটি কন জুকিনি আল্লা নেরানো’-এর রেসিপি দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উইলবি নিজের খাবারের নানা অভ্যাসও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কখনো ফ্রিজারে গ্রেগসের সসেজ রোল রাখেন, টিনজাত পাই খেয়েছেন এবং পাস্তা সিদ্ধ হয়েছে কি না তা দেখতে দেয়ালে ছুড়ে মারার অভ্যাসও ছিল। এ সময় টুচি জানান, পাস্তা দেয়ালে লেগে গেলে সেটি আসলে অতিরিক্ত সিদ্ধ হয়ে গেছে।

সমালোচকদের আপত্তি কোথায়?
সমালোচনার মূল বিষয় অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, অতিথির প্রতি অতিরিক্ত প্রশংসা ও আবেগ প্রকাশ অনুষ্ঠানটিকে দুর্বল করে দিয়েছে। স্ট্যানলি টুচির সঙ্গে কথোপকথনে বারবার একে অপরকে ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করার বিষয়টিও সমালোচকদের চোখ এড়ায়নি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ক্যামেরার পেছনের টিম, যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণ প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ দেখানো হয়েছে, যা নির্মাতাদের দৃষ্টিতে নতুনত্ব আনলেও সেটি কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সমালোচনায় বলা হয়েছে, হলি উইলবির জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতির কারণে ভবিষ্যতেও ভালো মানের অতিথি পাওয়া সম্ভব হবে। তবে ইউটিউবের প্রতিযোগিতাপূর্ণ কনটেন্টের ভিড়ে আলাদা অবস্থান তৈরি করতে চাইলে অনুষ্ঠানটিকে আরও স্বতন্ত্র, প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী উপস্থাপনায় এগোতে হবে।
দ্য টাইমস-এর মূল্যায়নে অনুষ্ঠানটি পাঁচের মধ্যে দুই তারকা পেয়েছে।
হলি উইলবির নতুন ইউটিউব কুকিং শো শুরু হলেও সমালোচকদের মতে, ইমেজ বদলের চেষ্টা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি এখনো দর্শকদের জন্য যথেষ্ট ব্যতিক্রমী হয়ে উঠতে পারেনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















