রাজধানীর আদাবরে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ২৪ বছর বয়সী ওই তরুণীর বড় বোন আলোকচিত্রী নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, আটকে রাখা ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলায় নাঈমের বাবা মো. আশরাফ উদ্দিন ও মা শাহনাজ বেগমকেও আসামি করা হয়েছে।
মৃত্যুর ঘটনায় এর আগে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় নাঈম আশরাফ কারাগারে রয়েছেন। নতুন মামলার অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্পর্ক থেকে বিয়ের আলোচনা
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে একটি আলোকচিত্র ধারণের কাজ করতে গিয়ে নাঈম আশরাফের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তরুণী নিয়মিত আদাবরের নাঈমের স্টুডিওতে কাজ করতেন।
একপর্যায়ে দুই পরিবারের মধ্যে তাদের বিয়ে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নাঈম বারবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে তা পিছিয়ে দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বিরোধ তৈরি হয়।

১০ জুন থেকে স্টুডিওতে আটকে রাখার অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ জুন নাঈম ওই তরুণীকে শেখেরটেকের স্টুডিওতে ডেকে নেন। সেখানে যাওয়ার পর তাকে পরিবারের সদস্যদের বলতে বাধ্য করা হয় যে, তিনি এক বন্ধুর বাসায় অবস্থান করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত তাকে স্টুডিওতে আটকে রাখা হয়। এ সময় একাধিকবার ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
১৪ জুন উদ্ধার হয় মরদেহ
গত ১৪ জুন আদাবরের ওই স্টুডিও থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছিল, নাঈম ও তার এক নারী বন্ধু দুপুরের দিকে স্টুডিওতে গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তরুণীকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন তারা। তাকে নামানোর পর দেখা যায়, তিনি আর জীবিত নেই।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে গলায় দাগ ছিল। তখন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
নতুন মামলায় তদন্তের নির্দেশ
মরদেহ উদ্ধারের পর তরুণীর বড় ভাই আদাবর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। ওই মামলায় ১৫ জুন নাঈমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
এবার তরুণীর বড় বোন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এ ধর্ষণ, আটকে রাখা ও হত্যার অভিযোগে নতুন মামলা করেছেন। আদালত বাদীর বক্তব্য রেকর্ড করে মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বোনের দাবি, ন্যায়বিচারের জন্য নতুন মামলা

মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন, ১০ জুন বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর চার দিনের মধ্যে তিনি তার বোনের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলেন। তখন তাকে জানানো হয়েছিল, তিনি বন্ধুর বাসায় আছেন। কিন্তু ১৪ জুন মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা নাঈমের স্টুডিওতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আগের মামলা করার পরও তারা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখতে পাননি। এ কারণেই হত্যার অভিযোগে আদালতে নতুন মামলা করে ন্যায়বিচার চাওয়া হয়েছে।
ঘটনাটির প্রকৃত কারণ কী এবং তরুণীর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখন তদন্ত ও ময়নাতদন্তের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। নতুন মামলার তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা হবে।
আদাবরে তরুণীর মৃত্যু, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে আলোকচিত্রী নাঈম আশরাফসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালত গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















