০৮:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক ক্ষমতার অসুখ: নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় বিপদ অহংকার নয়, জবাবদিহির অভাব ফরচুন গ্লোবাল ৫০০: আয় ধরে রাখলেও মুনাফায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক পিছিয়ে চীনা কোম্পানিগুলো চীনের নতুন রহস্যময় পারমাণবিক সাবমেরিন ঘিরে উদ্বেগ, পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত বাংলাদেশে হামের মৃত্যু বেড়ে ৮৩১, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর প্রাণহানি শিক্ষককে বাদ দিয়ে নয়, প্রযুক্তিকে পাশে নিয়েই শিক্ষা সংস্কার রেড সিতে জাহাজ চলাচলে নতুন ফি আরোপের চিন্তা হুথিদের, বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি যৌথ হামলায় নতুন মোড়, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের উত্তাপ চীনের কাছ থেকে ৪০০ কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান, যুদ্ধের মাঝেই ৭০ মিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক

বাগেরহাটের মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড পরিচয়ে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগের ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে মিরাজ শেখের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত, পরিবারের কাছে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে আসক জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১৬ ও ১৭ মে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় মিরাজের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য এবং কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

ঘটনার বর্ণনা

আসকের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদাপোশাকে থাকা কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জয়মনির ঘোল এলাকার আল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে জোর করে তুলে নিয়ে যান।

কোস্ট গার্ডের হাতে 'আটক' যুবককে ১৫ দিনের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ হা

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এরপর তাকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোটে তোলা হয়। সেখানে ইউনিফর্ম পরা আরও সাত থেকে আটজন কোস্টগার্ড সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মিরাজের স্ত্রীও দাবি করেছেন, তিনি হারবারিয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুনে স্বামীকে কোস্টগার্ড সদস্যদের হেফাজতে দেখেছেন এবং পরে স্পিডবোটে করে তাকে নিয়ে যেতে দেখেন।

পরিবারের অভিযোগ

মিরাজের স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. নজমুলের মাধ্যমে কোস্টগার্ড স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিরাজকে নেওয়া হয়েছে এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তবে পরদিন পরিবারের সদস্যরা দিগরাজ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে গেলে প্রথমে মিরাজকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। পরে দায়িত্বরত এক সদস্য জানান, তাকে নিয়ে অভিযানে যাওয়া হয়েছে এবং বিকেলে এলে দেখা করা যাবে।

আসকের তথ্যানুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মিরাজকে তুলে নেওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি স্থানীয় চায়ের দোকানদার আল আমিনের কাছে রেখে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার আট থেকে ১০ দিন পর গভীর রাতে কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্রিয় বিমান এবং জাহাজের তালিকা - উইকিপিডিয়া

কোস্টগার্ডের বক্তব্য

তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে আসকের প্রতিনিধিদল দিগরাজ কোস্টগার্ড বেজে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি মিরাজ শেখকে আটক বা তুলে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ড কার্যালয়ে এসেছিলেন বলেও অস্বীকার করেন।

তার দাবি, জয়মনির ঘোল এলাকা একসময় দুষ্কৃতকারীদের ঘাঁটি ছিল। সেখানে কোস্টগার্ডের অভিযানে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অভিযোগ তুলছে।

জিডি নিয়ে অভিযোগ

মিরাজের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর একাধিকবার থানায় গেলেও পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অনীহা দেখায়। পরে ২৩ এপ্রিল কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ না করে একটি জিডি করা হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশের পরামর্শে সেখানে উল্লেখ করা হয় যে মিরাজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন এবং কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র

আসকের পর্যবেক্ষণ ও দাবি

আসকের ভাষ্য, ভুক্তভোগীর পরিবার ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারাবাহিক বক্তব্যের সঙ্গে কোস্টগার্ডের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির মধ্যে স্পষ্ট অসংগতি রয়েছে, যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সংগঠনটির মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার পর কোনও ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকার করা, পরিবারকে তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত না করা কিংবা আইনানুগ সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না করা সংবিধানে নিশ্চিত জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জোরপূর্বক গুম-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আসক বলেছে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থার সঙ্গেও জড়িত। তাই অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নেপালে বাঘের সংখ্যা বেড়ে ৪২৯, ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় চার গুণ

কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ: মিরাজ শেখকে উদ্ধারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইল আসক

০৭:১৬:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাগেরহাটের মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মিরাজ শেখকে কোস্টগার্ড পরিচয়ে তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগের ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। একই সঙ্গে মিরাজ শেখের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত, পরিবারের কাছে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (২৯ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে আসক জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর গত ১৬ ও ১৭ মে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় মিরাজের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য এবং কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।

ঘটনার বর্ণনা

আসকের তথ্যানুসন্ধান অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদাপোশাকে থাকা কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জয়মনির ঘোল এলাকার আল আমিনের চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজ শেখকে জোর করে তুলে নিয়ে যান।

কোস্ট গার্ডের হাতে 'আটক' যুবককে ১৫ দিনের মধ্যে হাজিরের নির্দেশ হা

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এরপর তাকে কোস্টগার্ডের একটি স্পিডবোটে তোলা হয়। সেখানে ইউনিফর্ম পরা আরও সাত থেকে আটজন কোস্টগার্ড সদস্য উপস্থিত ছিলেন। মিরাজের স্ত্রীও দাবি করেছেন, তিনি হারবারিয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের পন্টুনে স্বামীকে কোস্টগার্ড সদস্যদের হেফাজতে দেখেছেন এবং পরে স্পিডবোটে করে তাকে নিয়ে যেতে দেখেন।

পরিবারের অভিযোগ

মিরাজের স্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. নজমুলের মাধ্যমে কোস্টগার্ড স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিরাজকে নেওয়া হয়েছে এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

তবে পরদিন পরিবারের সদস্যরা দিগরাজ কোস্টগার্ড কার্যালয়ে গেলে প্রথমে মিরাজকে আটক করার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। পরে দায়িত্বরত এক সদস্য জানান, তাকে নিয়ে অভিযানে যাওয়া হয়েছে এবং বিকেলে এলে দেখা করা যাবে।

আসকের তথ্যানুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মিরাজকে তুলে নেওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি স্থানীয় চায়ের দোকানদার আল আমিনের কাছে রেখে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনার আট থেকে ১০ দিন পর গভীর রাতে কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয়ে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্রিয় বিমান এবং জাহাজের তালিকা - উইকিপিডিয়া

কোস্টগার্ডের বক্তব্য

তথ্য সংগ্রহের অংশ হিসেবে আসকের প্রতিনিধিদল দিগরাজ কোস্টগার্ড বেজে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহবুব হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। তিনি মিরাজ শেখকে আটক বা তুলে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা কোস্টগার্ড কার্যালয়ে এসেছিলেন বলেও অস্বীকার করেন।

তার দাবি, জয়মনির ঘোল এলাকা একসময় দুষ্কৃতকারীদের ঘাঁটি ছিল। সেখানে কোস্টগার্ডের অভিযানে অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ হওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ অভিযোগ তুলছে।

জিডি নিয়ে অভিযোগ

মিরাজের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর একাধিকবার থানায় গেলেও পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণে অনীহা দেখায়। পরে ২৩ এপ্রিল কোস্টগার্ডের নাম উল্লেখ না করে একটি জিডি করা হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশের পরামর্শে সেখানে উল্লেখ করা হয় যে মিরাজ নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছেন এবং কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র

আসকের পর্যবেক্ষণ ও দাবি

আসকের ভাষ্য, ভুক্তভোগীর পরিবার ও একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারাবাহিক বক্তব্যের সঙ্গে কোস্টগার্ডের আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতির মধ্যে স্পষ্ট অসংগতি রয়েছে, যা গুরুতর মানবাধিকার উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সংগঠনটির মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার পর কোনও ব্যক্তির অবস্থান অস্বীকার করা, পরিবারকে তার অবস্থান সম্পর্কে অবহিত না করা কিংবা আইনানুগ সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির না করা সংবিধানে নিশ্চিত জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জোরপূর্বক গুম-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

আসক বলেছে, এ ধরনের অভিযোগ শুধু একটি পরিবারের ন্যায়বিচারের বিষয় নয়; এটি আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থার সঙ্গেও জড়িত। তাই অভিযোগের স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।