জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই দিনের ‘জুলাই মার্চ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিলেটের পাঁচটি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের আবেদন করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য কর্মসূচির আগে বুধবার এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিলেটের জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিলেটের পুলিশ সুপারের সুপারিশের ভিত্তিতেই এই আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, দুই দিনের কর্মসূচিকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকায় বিজিবি মোতায়েনের আবেদন পাঠানো হয়েছে।
কর্মসূচির প্রস্তুতি সম্পন্ন
স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র জানায়, এনসিপির সিলেট জেলা শাখা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ‘জুলাই মার্চ’ কর্মসূচি পালন করবে।
দলটির সিলেট জেলা সদস্যসচিব কামরুল আরিফ বলেন, বৃহস্পতিবার তিনটি এবং শুক্রবার আরও তিনটি উপজেলায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন এবং প্রস্তুতির সব কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
দুই দিনের কর্মসূচির সূচি
বুধবার বিকেলে সিলেট নগরের জেল রোডের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সিলেট জেলা আহ্বায়ক মো. জুনায়েদ আহমেদ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গোলাপগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন নেতারা। এরপর বিকেল ৩টায় কানাইঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় ওসমানীনগরে জুলাই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার বিকেল ৩টায় কোম্পানীগঞ্জ, বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট এবং সন্ধ্যা ৭টায় জৈন্তাপুরে মার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণ

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু, প্রধান সংগঠক নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের প্রধান সমন্বয়ক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দেশব্যাপী জুলাই মাসজুড়ে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবেই উপজেলা পর্যায়ে এসব মার্চের আয়োজন করা হচ্ছে। কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতাও চেয়েছেন এনসিপির নেতারা।
হবিগঞ্জের পরিস্থিতির প্রভাব
এদিকে বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জগামী এনসিপি নেতাদের একটি বহরকে পুলিশ পথে আটকে দেয়।
এর আগে এনসিপি এবং বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলো একই স্থানে পৃথক সমাবেশের ঘোষণা দেওয়ায় হবিগঞ্জ পৌরসভা এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার হবিগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় এনসিপির অভিযোগ ছিল, দলের নেতা সারজিস আলম ও নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















