কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের এইচ/২৯ ব্লকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত জুবায়েরের পরিচয়
নিহত মো. জুবায়েরের (৩৪) বাড়ি উখিয়ার ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে। তিনি রহমত উল্লাহর ছেলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তিনি আরসার একজন কমান্ডার ছিলেন।
কীভাবে ঘটল হামলা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমিন জানান, ভোররাতে জুবায়ের নিজ বসতঘর থেকে এইচ/২৯ ব্লকের একটি মসজিদের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তির বসতঘরের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন অস্ত্রধারী তাকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তার
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়। এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এপিবিএন জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে যা জানা গেছে
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)-এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভক্তিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ভোররাতে ঘটনাস্থলে নিহত জুবায়েরের উপস্থিতিকেও তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, হত্যার পেছনের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
তদন্ত অব্যাহত
এপিবিএনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















