প্রায় এক দশক আগে, ২০১৬ সালে, স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং ছবির সেটে প্রথম দেখা হয়েছিল টম হল্যান্ড ও জেনডায়ার। তখন কেউ ভাবেনি, পর্দার পিটার পার্কার ও এমজে একদিন বাস্তব জীবনেও হলিউডের সবচেয়ে আলোচিত দম্পতিদের একজন হয়ে উঠবেন। ২০২৬ সালে নিজেদের চতুর্থ স্পাইডার-ম্যান ছবির প্রচারে একসঙ্গে হাজির হয়ে তারা যেন সেই দীর্ঘ যাত্রারই আরেকটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
প্রথম পরিচয়: বন্ধুত্ব থেকেই শুরু
২০১৬ সালে যখন স্পাইডার-ম্যান: হোমকামিং–এর কাজ শুরু হয়, তখন টম হল্যান্ডের বয়স ছিল ২০ বছর, আর জেনডায়ার ১৯। ছবিতে টম অভিনয় করেন সদ্য সুপারহিরো হওয়া কিশোর পিটার পার্কারের চরিত্রে। অন্যদিকে জেনডায়া ছিলেন এমজে—বুদ্ধিদীপ্ত, কিছুটা অপ্রচলিত স্বভাবের এক সহপাঠী।
ছবি মুক্তির পর থেকেই তাদের রসায়ন দর্শকদের নজর কেড়ে নেয়। খুব দ্রুতই দুজনকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে সে সময় তারা বারবার জানিয়েছিলেন, তারা শুধু ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
:max_bytes(150000):strip_icc():focal(749x292:751x294)/Tom-Holland-and-Zendaya-072926-d6aa582d4251448bb261ad420e415feb.jpg)
গুঞ্জন নিয়ে মজাও করেছিলেন তারা। জেনডায়া সামাজিক মাধ্যমে লিখেছিলেন, ‘সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, সবাই বলছে আমরা একসঙ্গে ছুটিতে যাই! আমি তো বহু বছর ধরে কোথাও ছুটি কাটাতেই যাইনি।’
জবাবে টম রসিকতা করে লিখেছিলেন, ‘তাহলে প্রেস ট্যুরটাকেই কি ছুটি ধরা যায়?’
আবার একসঙ্গে: ফার ফ্রম হোম
২০১৯ সালে স্পাইডার-ম্যান: ফার ফ্রম হোম মুক্তির সময়ও তারা পাশাপাশি ছিলেন। ছবিতে ইউরোপ সফরে যাওয়া পিটার পার্কারের সঙ্গে এমজের সম্পর্ক আরও গভীর হতে দেখা যায়।
পর্দার গল্পের পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তাদের বন্ধুত্ব আগের চেয়ে আরও দৃঢ় হয়ে উঠছিল।
গুঞ্জন থেকে বাস্তবতা
২০২১ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুজনকে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে দেখা যাওয়ার পর বহুদিনের জল্পনা যেন নতুন মাত্রা পায়। পরে স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম–এর প্রচারণায় তাদের স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ভক্তদের আরও নিশ্চিত করে যে সম্পর্কটি শুধুই বন্ধুত্বের নয়।
এই ছবিতে বহুবিশ্বের জটিল ঘটনায় পিটার পার্কারের পাশে ছিলেন এমজে। ছবির মুক্তির কয়েক মাস পর জেনডায়ার জন্মদিনে সেটে তোলা একটি সেলফি প্রকাশ করে টম লিখেছিলেন, ‘আমার এমজে, জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা।’
এই একটি বাক্যই ভক্তদের কাছে ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে আন্তরিক স্বীকৃতিগুলোর একটি।
ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখার চেষ্টা
পরবর্তী কয়েক বছরে নানা কনসার্ট, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও হলিউডের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে দেখা গেছে এই জুটিকে। তবে তারা বরাবরই ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে কম তুলে ধরার পক্ষে ছিলেন।
২০২৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে টম হল্যান্ড জানান, তাদের প্রিয় অবসর বিনোদনের একটি হলো পুরোনো স্পাইডার-ম্যান সিনেমাগুলো আবার দেখা। তিনি বলেন, কখনো কখনো তারা প্রথম স্পাইডার-ম্যান ছবি দেখে সেই উনিশ বছর বয়সের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন।
বিয়ে ও নতুন অধ্যায়
দীর্ঘদিন ধরে বাগদান, আংটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিয়ের ছবিকে ঘিরে নানা জল্পনা চলছিল। অবশেষে ২০২৬ সালের জুন মাসে টম হল্যান্ড নিশ্চিত করেন, তারা সত্যিই বিয়ে করেছেন।

বিয়ের কিছুদিন পরই লন্ডনে স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে ছবির প্রিমিয়ারে একসঙ্গে উপস্থিত হন নবদম্পতি। এই নতুন ছবিতে নো ওয়ে হোম–এর ঘটনার কয়েক বছর পরের পিটার পার্কারের জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
স্বামীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জেনডায়া বলেন, ‘যখন তোমরা সবচেয়ে ভালো বন্ধু, তখন একসঙ্গে কাজ করাটা সহজ হয়ে যায়।’
পর্দার জুটি, বাস্তবের ভালোবাসা
টম হল্যান্ড ও জেনডায়া শুধু স্পাইডার-ম্যান নয়, দ্য ওডিসি ছবিতেও একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। তবে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য দর্শকের কাছে তারা চিরকাল পিটার পার্কার ও এমজে হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
বন্ধুত্ব, আস্থা, ভালোবাসা এবং একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার এই গল্পটি হলিউডের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও প্রিয় সম্পর্কগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এক দশকের এই যাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে, কখনও কখনও পর্দায় শুরু হওয়া গল্প বাস্তব জীবনেও সুন্দর পরিণতি পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















