যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো লাভ আইল্যান্ড ইউকে-এর সর্বশেষ মৌসুম শেষ হলেও, অনেক দর্শকের মতে অনুষ্ঠানটি আগের সেই আকর্ষণ হারাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এখন শোতে প্রকৃত প্রেমের গল্পের চেয়ে কৃত্রিম নাটক ও অতিরিক্ত প্রযোজনার ছাপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সর্বশেষ মৌসুমে জুলিয়া মাজখ্রজাক ও লরেঞ্জো আলেসি বিজয়ী হলেও, সমাপনী পর্বে সব প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে গড়ে মাত্র ১১ লাখ দর্শক অনুষ্ঠানটি দেখেছেন। এটি আগের বছরের তুলনায় কম। অন্যদিকে ২০১৯ সালে শোটির জনপ্রিয়তার শীর্ষ সময়ে একটি পর্বে প্রায় ৬০ লাখ দর্শক যুক্ত হয়েছিলেন।
দর্শকদের অভিযোগ: ‘প্রেমের গল্পই নেই’
অনেক ভক্তের মতে, বর্তমান মৌসুমে প্রতিযোগীদের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। ফলে শেষ পর্যন্ত কোনো জুটির পক্ষেই তারা আবেগ নিয়ে সমর্থন জানাতে পারেননি।
টিকটকে ‘লাভ আইল্যান্ড’ বিশ্লেষণধর্মী ভিডিওর জন্য পরিচিত কনটেন্ট নির্মাতা সারেল বলেন, দর্শকরা নাটক উপভোগ করলেও অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হওয়া উচিত প্রেমের গল্প। তার ভাষায়, দর্শক আবার সেই আবেগঘন মুহূর্ত দেখতে চান, যা আগের জনপ্রিয় জুটিদের মধ্যে দেখা গিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণ এগিয়ে কেন?
সম্প্রতি লাভ আইল্যান্ড ইউএসএ ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। সম্প্রচারকারী প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৌসুম টানা পাঁচ সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ছিল।
এই সংস্করণে লিজো, ডেমি লোভাটো, কেশা ও মেগান থি স্ট্যালিয়ন-এর মতো তারকারা অংশ নেওয়া বা সমর্থন জানানোয় অনুষ্ঠানটি আরও আলোচনায় আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বড় ব্যবধান
টিকটকের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৌসুম চলাকালে যুক্তরাজ্যে #LoveIsland হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার পোস্ট করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে একই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার হয়েছে ১০ লাখ ৯ হাজারেরও বেশি পোস্টে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা যুক্তরাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি, তবুও সামাজিক মাধ্যমে তাদের সম্পৃক্ততা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।
‘অতিরিক্ত পরিকল্পিত’ হয়ে যাচ্ছে অনুষ্ঠান

অনেক ভক্তের অভিযোগ, নতুন নতুন চমক আনতে গিয়ে অনুষ্ঠানের স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিনের দর্শক ডামি আমু বলেন, নির্মাতারা দর্শকদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অনুষ্ঠানকে অতিরিক্ত পরিকল্পিত করে ফেলছেন। ফলে আগের মতো স্বাভাবিক মেলামেশা, মজার খেলা ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ কমে গেছে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সংস্করণে সাজসজ্জা, প্রতিযোগিতা, স্পনসরশিপ ও উপস্থাপনায় বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আইটিভির অবস্থান
সম্প্রচারকারী আইটিভি জানিয়েছে, দর্শকদের মতামত অনুষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জনভোট ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে সেই মতামতের প্রতিফলন ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে দর্শকদের ৬০ শতাংশের বেশি স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি দেখেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আইটিভিএক্স-এ এখন পর্যন্ত ২০০ কোটিরও বেশি স্ট্রিম হয়েছে এবং ১৬ থেকে ৩৪ বছর বয়সী দর্শকদের মধ্যে এটি এখনও অন্যতম জনপ্রিয় বাণিজ্যিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















