মালদ্বীপে তথ্য জানার অধিকার রক্ষার দায়িত্ব যে প্রতিষ্ঠানটির ওপর, সেই তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে আবার সাবেক কমিশনার আবদুল আজিজকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিছক একটি নিয়োগের প্রশ্ন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইনের ব্যাখ্যা, প্রতিষ্ঠানটির স্বাধীনতা, সরকারি তথ্য প্রকাশের সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক প্রশ্ন।
২৩ আগস্ট ২০২৬ প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু সংসদে আবদুল আজিজের নাম পাঠান বর্তমান তথ্য কমিশনার আহমেদ আহিদ রশিদের স্থলাভিষিক্ত করার জন্য। আহিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৬ সেপ্টেম্বর। এর আগে ৩ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত কমিশনার পদে আবেদন নেওয়া হয়। আবদুল আজিজ ছিলেন দেশের প্রথম তথ্য কমিশনার; ২০১৪ সালের ২২ জুলাই তিনি দায়িত্ব নেন এবং ২০১৯ সালের ২২ জুলাই তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়। নতুন মনোনয়নের সময় তিনি ধিভেহি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সংসদের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানবিষয়ক কমিটি ২৪ আগস্ট তাকে সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রাপ্য নম্বরের ৭৫ শতাংশের বেশি দিয়ে মনোনয়ন অনুমোদন করে। পাঁচ সদস্য তার নাম সংসদের অধিবেশনে পাঠানোর পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ছিলেন মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির গালোলহু সাউথের এমপি মিকাইল আহমেদ নাসিম। জনসাধারণের আপত্তি জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য—২৩ আগস্ট বিকেল ৬টায় যার সময় শেষ হয়। ট্রান্সপারেন্সি মালদিভসসহ কয়েকটি পক্ষ সেই সময়ের মধ্যেই আপত্তি জানায়।
পরবর্তীতে ৪৭-১১ ভোটে আবদুল আজিজের মনোনয়ন অনুমোদিত হয়।
আইন কি একই ব্যক্তিকে আবার ফিরতে দেয়?
এখানেই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তথ্য অধিকার আইনের ৪৬(ক) ধারায় বলা হয়েছে, একজন তথ্য কমিশনারকে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। পরবর্তী উপধারা অনুযায়ী, সেই নিয়োগ আরও সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যেতে পারে।

আইনের এই ভাষা নিয়ে প্রশ্ন হচ্ছে—এটি কি দায়িত্বে থাকা একজন কমিশনারের মেয়াদ নবায়নের সুযোগ দেয়, নাকি একবার পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তি কয়েক বছর পর আবার নতুন করে একই পদে নিয়োগ পাওয়ার অধিকারও রাখেন?
আবদুল আজিজের প্রথম মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২২ জুলাই ২০১৯। নতুন নিয়োগ কার্যকর হলে সাত বছরেরও বেশি সময় পর তিনি আবার পাঁচ বছরের জন্য পদে ফিরবেন। সংসদের কমিটির বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। প্রশ্নটি তাই কেবল রাজনৈতিক বিরোধীদের আপত্তি নয়; আইনটির কাঠামো ও উদ্দেশ্য নিয়েও একটি বাস্তব আইনি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে।
একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অথচ রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তি
আরও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে আবদুল আজিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে। তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী, কমিশনার দায়িত্ব পালনকালে কোনো রাজনৈতিক পদ বা অন্য চাকরিতে থাকতে পারেন না। কিন্তু মনোনয়নের সময় তিনি সরকারি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন এবং তখনও সরকারি তালিকায় তার নাম ছিল।
এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝার জন্য তথ্য কমিশনের ভূমিকা মনে রাখা জরুরি। সরকারি মন্ত্রণালয়, সংস্থা কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তথ্য প্রকাশে অস্বীকৃতি জানালে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নাগরিকের আপিল শুনতে হয় তথ্য কমিশনকে। অর্থাৎ কমিশনারকে এমন সিদ্ধান্তের বিচার করতে হতে পারে, যার এক পক্ষ হচ্ছে রাষ্ট্রেরই কোনো প্রতিষ্ঠান।
সেই অবস্থানে থাকা ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা নির্বাহী সরকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠানটির নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। তথ্যের অধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করে জনগণের কাছে এটি কতটা স্বাধীন বলে প্রতীয়মান হয় তার ওপর।
প্রথম মেয়াদের অভিজ্ঞতা কেন গুরুত্বপূর্ণ
শুধু দ্বিতীয়বার নিয়োগের আইনি বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন থেমে নেই। আবদুল আজিজ ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথমবার তথ্য কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সেই সময় প্রতিষ্ঠানটি তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল, সেটিও এখন পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি করা। এসব শুনানি প্রকাশ্য হলে নাগরিকরা জানতে পারেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কেন তথ্য আটকে রাখছে এবং আইনের সীমা কোথায়।

ট্রান্সপারেন্সি মালদিভস সংসদকে জানিয়েছে, আবদুল আজিজের পাঁচ বছরের মেয়াদে প্রথম প্রকাশ্য শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছিল তার মেয়াদের শেষের দিকে। সংগঠনটির বক্তব্য, তার নেতৃত্বে তথ্য অধিকার আইন পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। এর ফলে সংবিধানস্বীকৃত তথ্য জানার অধিকার বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশেও দুর্বলতা
তথ্য অধিকার আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ। অর্থাৎ নাগরিককে প্রতিটি তথ্যের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হবে না; রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণির তথ্য নিজেরাই প্রকাশ করতে হবে।
এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য স্পষ্ট—সরকারি তথ্যকে নাগরিকের কাছে সহজলভ্য করা এবং অপ্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রশাসনিক জটিলতা কমানো।
কিন্তু আবদুল আজিজের প্রথম মেয়াদের শেষদিকে সমালোচকদের উদ্ধৃত মূল্যায়ন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই বাধ্যতামূলক ন্যূনতম স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মেয়াদে এমন চিত্র অবশ্যই প্রশ্ন তৈরি করে।
তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়াও কি নাগরিকবান্ধব ছিল?
আরেকটি বিষয় সামনে এসেছে তথ্য চাওয়ার আবেদনপত্র নিয়ে। ট্রান্সপারেন্সি মালদিভস সংসদকে জানিয়েছে, আবদুল আজিজের নেতৃত্বে তৈরি করা তথ্য চাওয়ার ফরম নাগরিকের অধিকার প্রয়োগকে সহজ করার পরিবর্তে কিছু ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করেছে।
তথ্য অধিকার আইনের মৌলিক দর্শন হলো—তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সহজলভ্য হতে হবে। এমন কোনো শর্ত থাকা উচিত নয়, যা আবেদনকারীকে অযৌক্তিক অসুবিধা, বিলম্ব বা অতিরিক্ত প্রশাসনিক বাধার মুখে ফেলে।
তাই প্রশ্নটি শুধু একটি ফরমের নকশা নিয়ে নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, যে প্রতিষ্ঠান নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করবে, তার ব্যবস্থাপনাই যদি সেই অধিকার ব্যবহারে বাড়তি জটিলতা তৈরি করে, তাহলে আইনের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হয়?
যে প্রতিশ্রুতিগুলো এখন দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো আগে কেন বাস্তবায়িত হয়নি?
২৪ আগস্ট সংসদীয় কমিটির সাক্ষাৎকারে আবদুল আজিজ যদি আবার দায়িত্ব পান, তাহলে স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নাগরিকদের আবেদন করার আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করা উচিত। তথ্য অন্যভাবে পাওয়া সম্ভব না হলে প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থাও থাকা দরকার বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেছেন, প্রথম মেয়াদে তিনি যে নীতিগুলো অনুসরণ করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেগুলো হারিয়ে গেছে এবং তিনি সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে চান। কিন্তু এখানেই স্বাভাবিকভাবে আরেকটি প্রশ্ন আসে—যদি এসব নীতি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাহলে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বে এগুলো প্রত্যাশিত মাত্রায় প্রতিষ্ঠিত হলো না কেন?
দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবদুল আজিজ কর্মক্ষেত্রের পোশাকের মানদণ্ডের কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নারী এমন পোশাক পরছেন, যা তাদের শরীরের পেছনের অংশ যথেষ্ট ঢেকে রাখে না।
একজন তথ্য কমিশনারের দায়িত্বের সঙ্গে এমন ব্যক্তিগত নৈতিক মানদণ্ডের বিষয় কীভাবে সম্পর্কিত—সেটিও আলোচনার দাবি রাখে। কারণ তথ্য কমিশনের মূল দায়িত্ব নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা, ব্যক্তিগত আচরণের ওপর সামাজিক বা নৈতিক বিধি আরোপ করা নয়।
ক্ষমতার সঙ্গে কমিশনের সম্পর্ক
আবদুল আজিজের মনোনয়ন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তথ্য কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বর্তমান কমিশনার আহমেদ আহিদ রশিদ দায়িত্ব পালনকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। এসব সিদ্ধান্তের কারণে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করেন এবং তাকে বিরোধীদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। আহিদ অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি কেবল তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন কমিশনার নির্বাচন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ একজন স্বাধীন তথ্য কমিশনারের কাজ সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়; তার দায়িত্ব হলো আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার তথ্যের ভারসাম্য নির্ধারণ করা।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, আবদুল আজিজের মনোনয়নের মাত্র কয়েক দিন আগে, ১৭ আগস্ট তথ্য কমিশনের কার্যালয় ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর একটি নতুন কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য সরকারি তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো এবং প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা শক্তিশালী করা। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দায়ের হওয়া ৭১২টি অভিযোগের মধ্যে ৪৮৭টি ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তথ্যের অনুরোধের জবাব না দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
অর্থাৎ সমস্যাটি কোনো বিমূর্ত বা অতীতের বিষয় নয়। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও বিপুলসংখ্যক তথ্যের অনুরোধ যথাসময়ে নিষ্পত্তি করছে না। এমন বাস্তবতায় তথ্য কমিশনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটি সরাসরি নাগরিকের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির সঙ্গে সম্পর্কিত।
যোগ্যতার প্রশ্নের চেয়েও বড় বিষয়
সংসদের সামনে তাই শুধু এই প্রশ্ন ছিল না যে আবদুল আজিজ কাগজে-কলমে একজন যোগ্য প্রার্থী কি না। আরও মৌলিক কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ছিল।
একবার পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা একজন সাবেক কমিশনারকে কি একই আইনের অধীনে বহু বছর পর নতুন করে আরেকটি পাঁচ বছরের মেয়াদ দেওয়া যায়? একজন সক্রিয় রাজনৈতিক পদধারী ব্যক্তি কি স্বাধীন সাংবিধানিক ও তদারকি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত? এবং যে সময় তিনি প্রথমবার প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই সময়ে প্রকাশ্য শুনানি, স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ ও তথ্য অধিকার আইনের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর যথেষ্ট ব্যাখ্যা কি পাওয়া গেছে?
এগুলো উপেক্ষা করে শুধু সংসদীয় ভোটের সংখ্যাকে চূড়ান্ত উত্তর হিসেবে দেখা যাবে না।
তথ্য কমিশনার মূলত নাগরিক ও রাষ্ট্রের মধ্যকার একটি স্বাধীন বিচারকের ভূমিকা পালন করেন। সরকার যখন কোনো তথ্য গোপন করতে চায়, তখন নাগরিকের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান থাকা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সেই প্রতিষ্ঠান যদি রাজনৈতিক প্রভাব, আইনের অস্পষ্ট ব্যাখ্যা কিংবা দুর্বল অতীত কর্মদক্ষতার কারণে আস্থার সংকটে পড়ে, তার ক্ষতি শুধু কমিশনের নয়—ক্ষতি হয় পুরো তথ্য অধিকার ব্যবস্থার।
তাই আবদুল আজিজের পুনর্নিয়োগের বিতর্ককে একজন ব্যক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়। আসল প্রশ্ন হলো, মালদ্বীপ কি এমন একটি তথ্য কমিশন চায়, যা সরকারের কাছে স্বাধীনভাবে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে বাস্তবে কার্যকর করতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণ করবে শুধু একজন কমিশনারের ভবিষ্যৎ নয়, রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সংস্কৃতির ভবিষ্যৎও।
আইমন লতিফ 


















