০৭:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে? লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে যেসব উচ্চ বেতনের চাকরি সন্তানের জন্ম উদযাপন করি, কিন্তু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখি কি? দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সময় মিললেই ভারত সফর করবেন তারেক রহমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমন মৌসুমে বিএডিসির কর্মবিরতি, সার সরবরাহে বিঘ্নের শঙ্কা জাপানের বন্ডে ৩০ বছরের রেকর্ড, বিশ্বজুড়ে ঋণবাজারে ধস আরও গভীর

ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক

একসময় ব্রিটেনের টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যুক্ত হওয়া তরুণদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল সাহস, শৃঙ্খলা, অভিযান ও আত্মপরীক্ষার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আজ সেই বাহিনী, যার নাম বদলে হয়েছে আর্মি রিজার্ভ, জনবল, অর্থ, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের সংকটে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তার যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

ম্যাক্স হেস্টিংসের নিজের সামরিক জীবনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার কারণ নিছক নস্টালজিয়া নয়। কয়েক দশক আগে ১৭ বছর বয়সে প্যারাশুট রেজিমেন্টের টেরিটোরিয়াল আর্মির ক্যাডেট হিসেবে তিনি যে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন, তার পেছনে রাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট ধারণা কাজ করত—জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত রিজার্ভ বাহিনীও অপরিহার্য।

সেই সময় তরুণরা সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা, মানচিত্র পড়া, দিক নির্ণয়, নেতৃত্ব এবং ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা পেত। সরকারও এই ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করত না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের ব্রিটেনে সামরিক সক্ষমতাকে জাতীয় জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হতো।

কিন্তু সেই বাস্তবতা এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

রিজার্ভ বাহিনী কাগজে আছে, সক্ষমতায় নেই

বর্তমানে আর্মি রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্য প্রায় ৩৪ হাজার সদস্য। অথচ বাস্তবে সেই সংখ্যার চেয়েও প্রায় ১০ হাজার কম সদস্য রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, গত বছর মাত্র ১৪ হাজার সদস্য ন্যূনতম ২৭ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বার্ষিক ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

নতুন সদস্য নিয়োগেও সমস্যা প্রকট। আবেদন করার পর যোগদানের জন্য সাত মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্যারাশুট প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কেউ কেউ চার বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডেট কোরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় এক-তৃতীয়াংশ আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—অর্থাৎ সামরিক নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী তরুণের অভাব নেই, অভাব রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের।

সমস্যা শুধু জনবলে সীমাবদ্ধ নয়। বহু রিজার্ভ ইউনিটের যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বাস্তব অস্ত্র অনুশীলনের সুযোগ কমেছে এবং ৩০০টি রিজার্ভ সেন্টারের প্রায় অর্ধেকের অস্ত্রাগার ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও অস্ত্র অন্যত্র সংরক্ষণ করতে হচ্ছে, যার দূরত্ব শত শত মাইল পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতিতে কোনো বাহিনীকে কার্যকর সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

যুদ্ধের ধরন বদলেছে, প্রয়োজনীয়তা নয়

রিজার্ভ বাহিনীকে শক্তিশালী করার পক্ষে যুক্তি অবশ্য পুরোনো যুদ্ধের কৌশল পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান নয়। হেস্টিংস নিজেই স্বীকার করেন, কয়েক দশক আগে যে প্যারাশুটিং, নিশানাবাজি কিংবা প্লাটুন আক্রমণের মতো দক্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন, তার বড় অংশ আজকের যুদ্ধক্ষেত্রে আগের মতো কার্যকর নয়।

আধুনিক যুদ্ধ অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এখন সামরিক সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইউক্রেনের যুদ্ধও দেখিয়েছে, বিপুল সংখ্যক ড্রোনের মোকাবিলায় প্রচলিত পশ্চিমা সামরিক বাহিনী কতটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়তে পারে।

কিন্তু প্রযুক্তির এই পরিবর্তন রিজার্ভ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কমায় না। বরং এর অর্থ হলো রিজার্ভ বাহিনীকে নতুন ধরনের দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। স্থল, নৌ ও বিমান—সব ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত মানুষ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি করা যায় না।

সামরিক শক্তিতে সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা কাজ করেছে—উন্নত প্রযুক্তি ও ছোট কিন্তু দক্ষ বাহিনী দিয়ে বৃহত্তর জনবল ঘাটতি পূরণ করা যাবে, এমন ধারণা।

কিন্তু বাস্তব যুদ্ধ সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার মাইক জ্যাকসন বলেছিলেন, সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনের সেই সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।

আজকের পরিস্থিতিতে সেই সতর্কবাণী আরও প্রাসঙ্গিক। একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। অস্ত্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সরবরাহ, ঘাঁটি পরিচালনা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সৈন্য ঘুরিয়ে মোতায়েন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত মানুষও প্রয়োজন।

রিজার্ভ বাহিনী সেই অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির সবচেয়ে বাস্তব কাঠামোগুলোর একটি হতে পারে। কিন্তু তাদের হাতে যদি যানবাহন না থাকে, নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ না থাকে, অস্ত্রাগার ব্যবহারযোগ্য না থাকে এবং প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকে, তাহলে কাগজে হাজার হাজার সদস্য থাকা বাস্তবে খুব বেশি অর্থ বহন করে না।

প্রতিরক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব

এখানেই বিতর্কটি কেবল সামরিক বাহিনী নিয়ে থাকে না; এটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়।

রাশিয়া যে আগামীকাল ব্রিটেনে স্থল আক্রমণ চালাবে, এমন ধারণা কেউ করতেই পারে। সেই যুক্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন নেই—এমন মতও রয়েছে। কিন্তু জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সরাসরি আগ্রাসনের সম্ভাবনা দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রতিরোধক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ‘গ্রে জোন’ কর্মকাণ্ড মোকাবিলাও এর অংশ।

সমস্যা হলো, সরকার যদি প্রতিরক্ষা ব্যয়কে রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় বা তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রয়োজনীয় মনে করে, তাহলে তার মূল্য দিতে হয় প্রস্তুতির ঘাটতি দিয়ে। প্রতিরক্ষা অবকাঠামো দুর্বল করার পর সংকট দেখা দিলে রাতারাতি তা পুনর্গঠন করা যায় না।

ব্রিটেনে সামরিক বাহিনীর সামাজিক মর্যাদাও কমেছে। একসময় সেনাবাহিনীর পোশাক ছিল পরিচিত ও সম্মানের প্রতীক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সামরিক সদস্যদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগও ছিল বেশি। এখন সমাজের বড় অংশের সঙ্গে সেনাদের কোনো বাস্তব সংযোগ নেই। ফলে বাহিনী সম্পর্কে জনমানসে যে ধারণা তৈরি হয়, তা প্রায়ই নেতিবাচক সংবাদ—নির্যাতন, অকার্যকর সরঞ্জাম, সমস্যাগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজ কিংবা পুরোনো সামরিক যান—দিয়ে গঠিত হয়।

রাষ্ট্র যখন নিজের বাহিনীকে যথেষ্ট অর্থ ও মর্যাদা দেয় না, তখন সমাজের কাছ থেকেও সম্মান আশা করা কঠিন।

রিজার্ভ বাহিনীকে সত্যিকারের বাহিনী বানাতে হবে

ব্রিটেনের সামনে তাই প্রশ্নটি খুব সরল। আর্মি রিজার্ভকে কি সত্যিকার অর্থে একটি কার্যকর সামরিক শক্তির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, নাকি শুধু পরিসংখ্যান ও প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে রাখা হবে?

প্রয়োজন শুধু নতুন সদস্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন নয়। প্রয়োজন প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ, আধুনিক অস্ত্র ও যানবাহন, ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো এবং এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে রিজার্ভ সদস্যরা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সমাজের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার প্রয়োজন আছে। তরুণদের কাছে সামরিক সেবা শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়—নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দলগত কাজ শেখার একটি ক্ষেত্র হিসেবেও উপস্থাপন করা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কোনো বিমূর্ত সরকারি হিসাব নয়। এটি একটি দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছা, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে তার ধারণার প্রতিফলন। ব্রিটেন যদি বিশ্বাস করে যে তার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সেই বিশ্বাসের বাস্তব মূল্যও দিতে হবে।

একটি রিজার্ভ বাহিনীকে নামেই ‘রিজার্ভ’ রেখে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করার মতো প্রস্তুতি না দিয়ে রাখা আত্মপ্রবঞ্চনা। যুদ্ধের প্রযুক্তি বদলেছে, হুমকির ধরন বদলেছে, সামরিক দক্ষতার সংজ্ঞাও বদলেছে। বদলায়নি শুধু একটি মৌলিক সত্য—প্রস্তুতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ

ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক

০৬:১৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় ব্রিটেনের টেরিটোরিয়াল আর্মিতে যুক্ত হওয়া তরুণদের কাছে সামরিক প্রশিক্ষণ ছিল সাহস, শৃঙ্খলা, অভিযান ও আত্মপরীক্ষার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আজ সেই বাহিনী, যার নাম বদলে হয়েছে আর্মি রিজার্ভ, জনবল, অর্থ, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের সংকটে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে তার যুদ্ধ সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

ম্যাক্স হেস্টিংসের নিজের সামরিক জীবনের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার কারণ নিছক নস্টালজিয়া নয়। কয়েক দশক আগে ১৭ বছর বয়সে প্যারাশুট রেজিমেন্টের টেরিটোরিয়াল আর্মির ক্যাডেট হিসেবে তিনি যে প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন, তার পেছনে রাষ্ট্রের একটি স্পষ্ট ধারণা কাজ করত—জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত সেনাবাহিনীর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত রিজার্ভ বাহিনীও অপরিহার্য।

সেই সময় তরুণরা সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি কঠিন পরিবেশে টিকে থাকা, মানচিত্র পড়া, দিক নির্ণয়, নেতৃত্ব এবং ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষা পেত। সরকারও এই ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যয় করতে দ্বিধা করত না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের ব্রিটেনে সামরিক সক্ষমতাকে জাতীয় জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখা হতো।

কিন্তু সেই বাস্তবতা এখন অনেকটাই বদলে গেছে।

রিজার্ভ বাহিনী কাগজে আছে, সক্ষমতায় নেই

বর্তমানে আর্মি রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্য প্রায় ৩৪ হাজার সদস্য। অথচ বাস্তবে সেই সংখ্যার চেয়েও প্রায় ১০ হাজার কম সদস্য রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, গত বছর মাত্র ১৪ হাজার সদস্য ন্যূনতম ২৭ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং বার্ষিক ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।

নতুন সদস্য নিয়োগেও সমস্যা প্রকট। আবেদন করার পর যোগদানের জন্য সাত মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্যারাশুট প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কেউ কেউ চার বছর ধরে অপেক্ষা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডেট কোরে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় এক-তৃতীয়াংশ আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—অর্থাৎ সামরিক নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী তরুণের অভাব নেই, অভাব রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের।

সমস্যা শুধু জনবলে সীমাবদ্ধ নয়। বহু রিজার্ভ ইউনিটের যানবাহন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বাস্তব অস্ত্র অনুশীলনের সুযোগ কমেছে এবং ৩০০টি রিজার্ভ সেন্টারের প্রায় অর্ধেকের অস্ত্রাগার ব্যবহারের অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে কোথাও কোথাও অস্ত্র অন্যত্র সংরক্ষণ করতে হচ্ছে, যার দূরত্ব শত শত মাইল পর্যন্ত।

এমন পরিস্থিতিতে কোনো বাহিনীকে কার্যকর সামরিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন।

যুদ্ধের ধরন বদলেছে, প্রয়োজনীয়তা নয়

রিজার্ভ বাহিনীকে শক্তিশালী করার পক্ষে যুক্তি অবশ্য পুরোনো যুদ্ধের কৌশল পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান নয়। হেস্টিংস নিজেই স্বীকার করেন, কয়েক দশক আগে যে প্যারাশুটিং, নিশানাবাজি কিংবা প্লাটুন আক্রমণের মতো দক্ষতা তিনি অর্জন করেছিলেন, তার বড় অংশ আজকের যুদ্ধক্ষেত্রে আগের মতো কার্যকর নয়।

আধুনিক যুদ্ধ অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার সক্ষমতা এবং উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা এখন সামরিক সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইউক্রেনের যুদ্ধও দেখিয়েছে, বিপুল সংখ্যক ড্রোনের মোকাবিলায় প্রচলিত পশ্চিমা সামরিক বাহিনী কতটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়তে পারে।

কিন্তু প্রযুক্তির এই পরিবর্তন রিজার্ভ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কমায় না। বরং এর অর্থ হলো রিজার্ভ বাহিনীকে নতুন ধরনের দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। স্থল, নৌ ও বিমান—সব ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত মানুষ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি করা যায় না।

সামরিক শক্তিতে সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা কাজ করেছে—উন্নত প্রযুক্তি ও ছোট কিন্তু দক্ষ বাহিনী দিয়ে বৃহত্তর জনবল ঘাটতি পূরণ করা যাবে, এমন ধারণা।

কিন্তু বাস্তব যুদ্ধ সেই ধারণার সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল স্যার মাইক জ্যাকসন বলেছিলেন, সংখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনের সেই সক্ষমতা যথেষ্ট নয়।

আজকের পরিস্থিতিতে সেই সতর্কবাণী আরও প্রাসঙ্গিক। একটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুধু অত্যাধুনিক অস্ত্রের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। অস্ত্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সরবরাহ, ঘাঁটি পরিচালনা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে সৈন্য ঘুরিয়ে মোতায়েন করার জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত মানুষও প্রয়োজন।

রিজার্ভ বাহিনী সেই অতিরিক্ত সক্ষমতা তৈরির সবচেয়ে বাস্তব কাঠামোগুলোর একটি হতে পারে। কিন্তু তাদের হাতে যদি যানবাহন না থাকে, নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ না থাকে, অস্ত্রাগার ব্যবহারযোগ্য না থাকে এবং প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকে, তাহলে কাগজে হাজার হাজার সদস্য থাকা বাস্তবে খুব বেশি অর্থ বহন করে না।

প্রতিরক্ষার প্রশ্নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব

এখানেই বিতর্কটি কেবল সামরিক বাহিনী নিয়ে থাকে না; এটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রশ্নে পরিণত হয়।

রাশিয়া যে আগামীকাল ব্রিটেনে স্থল আক্রমণ চালাবে, এমন ধারণা কেউ করতেই পারে। সেই যুক্তিতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রয়োজন নেই—এমন মতও রয়েছে। কিন্তু জাতীয় প্রতিরক্ষা কেবল সরাসরি আগ্রাসনের সম্ভাবনা দিয়ে বিচার করা যায় না। প্রতিরোধক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং রাশিয়ার মতো রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ‘গ্রে জোন’ কর্মকাণ্ড মোকাবিলাও এর অংশ।

সমস্যা হলো, সরকার যদি প্রতিরক্ষা ব্যয়কে রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয় বা তাৎক্ষণিকভাবে অপ্রয়োজনীয় মনে করে, তাহলে তার মূল্য দিতে হয় প্রস্তুতির ঘাটতি দিয়ে। প্রতিরক্ষা অবকাঠামো দুর্বল করার পর সংকট দেখা দিলে রাতারাতি তা পুনর্গঠন করা যায় না।

ব্রিটেনে সামরিক বাহিনীর সামাজিক মর্যাদাও কমেছে। একসময় সেনাবাহিনীর পোশাক ছিল পরিচিত ও সম্মানের প্রতীক। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সামরিক সদস্যদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগও ছিল বেশি। এখন সমাজের বড় অংশের সঙ্গে সেনাদের কোনো বাস্তব সংযোগ নেই। ফলে বাহিনী সম্পর্কে জনমানসে যে ধারণা তৈরি হয়, তা প্রায়ই নেতিবাচক সংবাদ—নির্যাতন, অকার্যকর সরঞ্জাম, সমস্যাগ্রস্ত যুদ্ধজাহাজ কিংবা পুরোনো সামরিক যান—দিয়ে গঠিত হয়।

রাষ্ট্র যখন নিজের বাহিনীকে যথেষ্ট অর্থ ও মর্যাদা দেয় না, তখন সমাজের কাছ থেকেও সম্মান আশা করা কঠিন।

রিজার্ভ বাহিনীকে সত্যিকারের বাহিনী বানাতে হবে

ব্রিটেনের সামনে তাই প্রশ্নটি খুব সরল। আর্মি রিজার্ভকে কি সত্যিকার অর্থে একটি কার্যকর সামরিক শক্তির অংশ হিসেবে গড়ে তোলা হবে, নাকি শুধু পরিসংখ্যান ও প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে রাখা হবে?

প্রয়োজন শুধু নতুন সদস্য নিয়োগের বিজ্ঞাপন নয়। প্রয়োজন প্রশিক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ, আধুনিক অস্ত্র ও যানবাহন, ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো এবং এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে রিজার্ভ সদস্যরা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন।

একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সমাজের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার প্রয়োজন আছে। তরুণদের কাছে সামরিক সেবা শুধু যুদ্ধের প্রস্তুতি নয়—নেতৃত্ব, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও দলগত কাজ শেখার একটি ক্ষেত্র হিসেবেও উপস্থাপন করা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কোনো বিমূর্ত সরকারি হিসাব নয়। এটি একটি দেশের রাজনৈতিক ইচ্ছা, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে তার ধারণার প্রতিফলন। ব্রিটেন যদি বিশ্বাস করে যে তার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ, তাহলে সেই বিশ্বাসের বাস্তব মূল্যও দিতে হবে।

একটি রিজার্ভ বাহিনীকে নামেই ‘রিজার্ভ’ রেখে, কিন্তু প্রয়োজনের সময় কার্যকরভাবে ব্যবহার করার মতো প্রস্তুতি না দিয়ে রাখা আত্মপ্রবঞ্চনা। যুদ্ধের প্রযুক্তি বদলেছে, হুমকির ধরন বদলেছে, সামরিক দক্ষতার সংজ্ঞাও বদলেছে। বদলায়নি শুধু একটি মৌলিক সত্য—প্রস্তুতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্র বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে না।