০৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল রোজার আগেই বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুতির আহ্বান এফবিসিসিআইয়ের হামে আতঙ্ক: ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃত্যু ৯৭৯ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিগগিরই সাক্ষাতের আশা ট্রাম্পের, বোয়িং কেনায় ধন্যবাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুই বন্ধুর মৃত্যু মুইজ্জুর তথ্য কমিশনার বাছাই: তথ্যের অধিকার কি রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে ঝুঁকছে? লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন ব্রিটেনের রিজার্ভ বাহিনী কেন আজ অবহেলার প্রতীক আগামী ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে যেসব উচ্চ বেতনের চাকরি সন্তানের জন্ম উদযাপন করি, কিন্তু মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের খবর রাখি কি?

লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন

লস অ্যাঞ্জেলেসে সংসার গড়েছিলেন তারা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিবারের কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছিল যে স্ত্রী চেয়েছিলেন পুরো পরিবারকে নিয়ে নিজের শৈশবের শহর কেনটাকিতে ফিরে যেতে। স্বামী অবশ্য তখনই সেই সিদ্ধান্তে রাজি ছিলেন না। শুরু হয়েছিল দীর্ঘ আলোচনা, মতের অমিল, অপেক্ষা আর সমঝোতার এক অধ্যায়।

শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পর দুজন একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। পরিবার নিয়ে কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই যে তাদের জন্য সঠিক ছিল, সে বিষয়ে এখন দুজনই একমত।

সন্তান জন্মের পর বদলে গেল সব হিসাব

বিয়ের আগেই ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। স্বামীও একসময় বলেছিলেন, তিনি সারাজীবন লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে চান না। শহরের অবিরাম যানজট, দাবানলের মৌসুম এবং সেখানে জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সবকিছু নিয়েই তারা কথা বলেছিলেন।

তবে তখন নির্দিষ্ট করে কোথায় বা কবে চলে যাবেন, এমন কোনো সময়সীমা ছিল না।

সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহে স্ত্রী নিজের মা-বাবার কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছিলেন, তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মাতৃত্বের শুরুর দিনগুলোতে ঘুমের অভাব, অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের সংকটের মধ্যে মা-বাবার উপস্থিতি তাকে ভরসা দিয়েছিল।

তারা যখন লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে ফিরে গেলেন, তখন স্ত্রী অনুভব করলেন—তিনি শুধু তাদের কাছেই থাকতে চান না, নিজের সন্তানকেও পরিবারের সেই ভালোবাসা ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় করতে চান।

পরিবারকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর হলো

সন্তান ঘুমিয়ে পড়লে, আর তিনি নিজে ঘুমিয়ে না থাকলে, নিয়মিত মা-বাবাকে ভিডিও ফোন করতেন। খেলার সময়, হাঁটার সময় কিংবা শিশুকে গোসল করানোর সময়ও বাড়িতে ফোন করার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

মা-বাবার মুখ আর নিজের শৈশবের বাড়ি দেখতে দেখতে তিনি যেন দূরত্বের মধ্যেও পরিবারের সেই নিরাপত্তা ও সমর্থনের অনুভূতি ফিরে পেতেন।

তখনই স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

কেনটাকিতে সন্তানকে বড় করার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো তিনি স্বামীর সামনে তুলে ধরেন। স্বামীও তার কথা মন দিয়ে শোনেন। তিনি সরাসরি বিরোধিতা করেননি। বরং বলেছিলেন, তিনি পুরোপুরি বিপক্ষে নন, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কিছুটা সময় চান।

ফলে তখনই বাড়ি গুছিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

স্বামীর আপত্তির কারণও ছিল বাস্তব

শিশু বড় হতে থাকলেও স্ত্রী কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থেকে সরে আসেননি। কয়েক মাস পরপর তিনি বিষয়টি আবার তুলতেন। কিন্তু স্বামীর আপত্তিও স্পষ্ট ছিল।

তার যুক্তি ছিল, কেনটাকিতে চলে যাওয়া মানে শুধু একটি শহর বদলানো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার কর্মজীবন এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়া।

ফলে দুজনের মধ্যে একটি অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। স্ত্রী কখনো কখনো অনুভব করতেন, স্বামী যখন স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন, তখন যেন তাকেই প্রত্যাখ্যান করছেন।

তবু তারা সম্পর্কের মধ্যে এই মতভেদকে স্থায়ী দেয়াল হতে দেননি।

সমঝোতার পথ হিসেবে তারা আরও বেশি করে কেনটাকিতে যাতায়াত শুরু করেন। সেখানে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে দুজনের মধ্যে আলোচনা চালু রাখেন।

কিন্তু স্ত্রীর কাছে এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট মনে হচ্ছিল না।

ছেলের বয়স চার হতেই সিদ্ধান্তের সময় এল

ছেলের বয়স যখন চার বছর, তখন কেনটাকিতে যাওয়ার ইচ্ছা আবার প্রবল হয়ে ওঠে। এবার স্ত্রী আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান জানান।

তিনি বোঝান, পরিবারের কাছাকাছি থাকলে তাদের সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি চান, ছেলে সপ্তাহান্তে তার দাদা-দাদির সঙ্গে সময় কাটাতে পারুক। একই সঙ্গে তিনি স্বামীকে জানান, পরিবার থেকে এত দূরে থাকার কারণে তিনি নিজেও ভীষণ একাকিত্ব অনুভব করছেন।

এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

স্বামীও ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, পরিবারের চারপাশে সন্তানকে বড় করার ধারণাটির মধ্যে আলাদা ধরনের আনন্দ রয়েছে। নতুন একটি শহরে জীবন শুরু করাও একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে—এই ভাবনাও তার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অবশেষে দুজনের মতের অমিল দূর হয়। তারা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন, এবার সত্যিই কেনটাকিতে ফিরে যাবেন।

আট বছর পরও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আফসোস নেই

পরিবারটি এখন কেনটাকির লুইসভিলে ফিরে গিয়ে আট বছর ধরে বসবাস করছে। এতদিন পর দুজনেরই মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের সবার জন্যই সঠিক ছিল।

সিদ্ধান্তটি দ্রুত নেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা, মতবিরোধ, অপেক্ষা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন। আর সেই ধীরগতির সিদ্ধান্তই হয়তো শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

পরিবারের কাছাকাছি থাকা এবং প্রয়োজনের সময়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা নিজেদের পরিবার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের তালগাছ আর ব্যস্ত রাস্তাগুলো অবশ্য এখনো আছে। তবে সেগুলো দেখতে চাইলে তারা সেখানে বেড়াতে যেতে পারেন। নিজেদের জীবনের জন্য তারা বেছে নিয়েছেন পরিবারকে কাছে পাওয়ার সুযোগকেই।

পরিবারের সঙ্গে থাকা যে কখনো কখনো শহরের চাকচিক্য, ব্যস্ততা কিংবা পরিচিত জীবনযাপনের চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে—তাদের গল্পটি যেন তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তাই শুধু শহর বদলের গল্প নয়; এটি পরিবার, সম্পর্ক, সন্তান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজন মানুষের ধীরে ধীরে একই জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার গল্প।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে গিয়ে পরিবারটির জীবন বদলে যায়। দীর্ঘ মতবিরোধের পর একসঙ্গে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত আজ তাদের কাছে জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফেরা, পরিবারকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর দম্পতির যৌথ সিদ্ধান্ত—এই গল্পে উঠে এসেছে সম্পর্কের সমঝোতা ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে গিয়ে পরিবারটির জীবন বদলে যায়। দীর্ঘ মতবিরোধের পর একসঙ্গে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত আজ তাদের কাছে জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

পরিবারের কাছে থাকা, সন্তানকে দাদা-দাদির সান্নিধ্যে বড় করা এবং দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার এই গল্পটি দেখায়, বড় সিদ্ধান্তে সময় নেওয়াও কখনো কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির কোনো কলঙ্ক নেই, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট পতিত শাসকগোষ্ঠীর তৈরি: এমপি বাবুল

লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে চেয়েছিলেন স্ত্রী, রাজি ছিলেন না স্বামী—শেষ পর্যন্ত কেন কেনটাকিতেই নতুন জীবন

০৬:৪৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লস অ্যাঞ্জেলেসে সংসার গড়েছিলেন তারা। কিন্তু সন্তান জন্মের পর পরিবারের কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা এতটাই প্রবল হয়ে উঠেছিল যে স্ত্রী চেয়েছিলেন পুরো পরিবারকে নিয়ে নিজের শৈশবের শহর কেনটাকিতে ফিরে যেতে। স্বামী অবশ্য তখনই সেই সিদ্ধান্তে রাজি ছিলেন না। শুরু হয়েছিল দীর্ঘ আলোচনা, মতের অমিল, অপেক্ষা আর সমঝোতার এক অধ্যায়।

শেষ পর্যন্ত কয়েক বছর পর দুজন একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। পরিবার নিয়ে কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই যে তাদের জন্য সঠিক ছিল, সে বিষয়ে এখন দুজনই একমত।

সন্তান জন্মের পর বদলে গেল সব হিসাব

বিয়ের আগেই ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। স্বামীও একসময় বলেছিলেন, তিনি সারাজীবন লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকতে চান না। শহরের অবিরাম যানজট, দাবানলের মৌসুম এবং সেখানে জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান ব্যয়—সবকিছু নিয়েই তারা কথা বলেছিলেন।

তবে তখন নির্দিষ্ট করে কোথায় বা কবে চলে যাবেন, এমন কোনো সময়সীমা ছিল না।

সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। শিশুর জন্মের পর প্রথম দুই সপ্তাহে স্ত্রী নিজের মা-বাবার কাছ থেকে যে সহায়তা পেয়েছিলেন, তা তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। মাতৃত্বের শুরুর দিনগুলোতে ঘুমের অভাব, অনিশ্চয়তা ও আত্মবিশ্বাসের সংকটের মধ্যে মা-বাবার উপস্থিতি তাকে ভরসা দিয়েছিল।

তারা যখন লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে ফিরে গেলেন, তখন স্ত্রী অনুভব করলেন—তিনি শুধু তাদের কাছেই থাকতে চান না, নিজের সন্তানকেও পরিবারের সেই ভালোবাসা ও নিরাপত্তার মধ্যে বড় করতে চান।

পরিবারকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর হলো

সন্তান ঘুমিয়ে পড়লে, আর তিনি নিজে ঘুমিয়ে না থাকলে, নিয়মিত মা-বাবাকে ভিডিও ফোন করতেন। খেলার সময়, হাঁটার সময় কিংবা শিশুকে গোসল করানোর সময়ও বাড়িতে ফোন করার অভ্যাস তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

মা-বাবার মুখ আর নিজের শৈশবের বাড়ি দেখতে দেখতে তিনি যেন দূরত্বের মধ্যেও পরিবারের সেই নিরাপত্তা ও সমর্থনের অনুভূতি ফিরে পেতেন।

তখনই স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

কেনটাকিতে সন্তানকে বড় করার সুবিধা ও অসুবিধাগুলো তিনি স্বামীর সামনে তুলে ধরেন। স্বামীও তার কথা মন দিয়ে শোনেন। তিনি সরাসরি বিরোধিতা করেননি। বরং বলেছিলেন, তিনি পুরোপুরি বিপক্ষে নন, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কিছুটা সময় চান।

ফলে তখনই বাড়ি গুছিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

স্বামীর আপত্তির কারণও ছিল বাস্তব

শিশু বড় হতে থাকলেও স্ত্রী কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা থেকে সরে আসেননি। কয়েক মাস পরপর তিনি বিষয়টি আবার তুলতেন। কিন্তু স্বামীর আপত্তিও স্পষ্ট ছিল।

তার যুক্তি ছিল, কেনটাকিতে চলে যাওয়া মানে শুধু একটি শহর বদলানো নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার কর্মজীবন এবং সবচেয়ে কাছের বন্ধুদের ছেড়ে যাওয়া।

ফলে দুজনের মধ্যে একটি অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। স্ত্রী কখনো কখনো অনুভব করতেন, স্বামী যখন স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছেন, তখন যেন তাকেই প্রত্যাখ্যান করছেন।

তবু তারা সম্পর্কের মধ্যে এই মতভেদকে স্থায়ী দেয়াল হতে দেননি।

সমঝোতার পথ হিসেবে তারা আরও বেশি করে কেনটাকিতে যাতায়াত শুরু করেন। সেখানে থাকা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করে নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে দুজনের মধ্যে আলোচনা চালু রাখেন।

কিন্তু স্ত্রীর কাছে এই ব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট মনে হচ্ছিল না।

ছেলের বয়স চার হতেই সিদ্ধান্তের সময় এল

ছেলের বয়স যখন চার বছর, তখন কেনটাকিতে যাওয়ার ইচ্ছা আবার প্রবল হয়ে ওঠে। এবার স্ত্রী আরও দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান জানান।

তিনি বোঝান, পরিবারের কাছাকাছি থাকলে তাদের সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি চান, ছেলে সপ্তাহান্তে তার দাদা-দাদির সঙ্গে সময় কাটাতে পারুক। একই সঙ্গে তিনি স্বামীকে জানান, পরিবার থেকে এত দূরে থাকার কারণে তিনি নিজেও ভীষণ একাকিত্ব অনুভব করছেন।

এবার পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

স্বামীও ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন, পরিবারের চারপাশে সন্তানকে বড় করার ধারণাটির মধ্যে আলাদা ধরনের আনন্দ রয়েছে। নতুন একটি শহরে জীবন শুরু করাও একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে—এই ভাবনাও তার কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অবশেষে দুজনের মতের অমিল দূর হয়। তারা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন, এবার সত্যিই কেনটাকিতে ফিরে যাবেন।

আট বছর পরও সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আফসোস নেই

পরিবারটি এখন কেনটাকির লুইসভিলে ফিরে গিয়ে আট বছর ধরে বসবাস করছে। এতদিন পর দুজনেরই মনে হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত তাদের সবার জন্যই সঠিক ছিল।

সিদ্ধান্তটি দ্রুত নেওয়া হয়নি। বরং দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা, মতবিরোধ, অপেক্ষা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন। আর সেই ধীরগতির সিদ্ধান্তই হয়তো শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে।

পরিবারের কাছাকাছি থাকা এবং প্রয়োজনের সময়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা নিজেদের পরিবার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেসের তালগাছ আর ব্যস্ত রাস্তাগুলো অবশ্য এখনো আছে। তবে সেগুলো দেখতে চাইলে তারা সেখানে বেড়াতে যেতে পারেন। নিজেদের জীবনের জন্য তারা বেছে নিয়েছেন পরিবারকে কাছে পাওয়ার সুযোগকেই।

পরিবারের সঙ্গে থাকা যে কখনো কখনো শহরের চাকচিক্য, ব্যস্ততা কিংবা পরিচিত জীবনযাপনের চেয়েও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে—তাদের গল্পটি যেন তারই এক বাস্তব উদাহরণ।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তাই শুধু শহর বদলের গল্প নয়; এটি পরিবার, সম্পর্ক, সন্তান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজন মানুষের ধীরে ধীরে একই জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার গল্প।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে গিয়ে পরিবারটির জীবন বদলে যায়। দীর্ঘ মতবিরোধের পর একসঙ্গে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত আজ তাদের কাছে জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফেরা, পরিবারকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং দীর্ঘ আলোচনার পর দম্পতির যৌথ সিদ্ধান্ত—এই গল্পে উঠে এসেছে সম্পর্কের সমঝোতা ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব।

লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে কেনটাকিতে ফিরে গিয়ে পরিবারটির জীবন বদলে যায়। দীর্ঘ মতবিরোধের পর একসঙ্গে নেওয়া সেই সিদ্ধান্ত আজ তাদের কাছে জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

পরিবারের কাছে থাকা, সন্তানকে দাদা-দাদির সান্নিধ্যে বড় করা এবং দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক বোঝাপড়ার এই গল্পটি দেখায়, বড় সিদ্ধান্তে সময় নেওয়াও কখনো কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে।