০২:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল দেড় শতকের পথে দানাং বন্দর, ১২৫ বছরে স্মার্ট সামুদ্রিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর ইনফ্লুয়েন্সার বাছাইয়ে বদলে যাচ্ছে ব্র্যান্ডের কৌশল মুখের যত্নেও বিলাসী সৌন্দর্যের যুগ, ডাইসনের প্রথম টুথব্রাশে নতুন ইঙ্গিত মায়ের পেনশন পেতে ঘুষের দাবি, প্রতিবাদে কিশোরের ‘ঘুষ’ ওয়েবসাইট—৯ দিনে অভিযোগ প্রায় ১০ হাজার সিন্ধু পানি চুক্তির সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের, আদালতকে বলল ‘অবৈধভাবে গঠিত’ যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ সংকট: কমতে থাকা শিক্ষার্থী ও বাড়তি খরচে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে শত শত প্রতিষ্ঠান শি–পুতিন বৈঠক: কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার চীন ও রাশিয়ার শি-ট্রাম্প বৈঠকের আগে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্তে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চাপ চীনের চমক ‘ডিয়ার ইউ’, এবার কি জয় করবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস?

সিন্ধু পানি চুক্তির সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের, আদালতকে বলল ‘অবৈধভাবে গঠিত’

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের দেওয়া রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে গঠিত এই আদালত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এর কোনো আইনি বৈধতা ভারত স্বীকার করে না। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌম কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, চুক্তির শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘনের মাধ্যমে কথিত সালিশি আদালত গঠন করা হয়েছে। তাই এর বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো রায় ভারত গ্রহণ করবে না।

সালিশি আদালতের বৈধতা মানে না ভারত

ভারত জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সালিশি আদালতের আইনগত অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। আদালত গঠনের প্রক্রিয়াকে সিন্ধু পানি চুক্তির পরিপন্থী মনে করে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে এর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

India rejects Indus Waters Treaty award, calls Court of Arbitration ' illegally constituted' - Pragativadi I Latest Odisha News in English I  Breaking News

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই আদালতের সামনে কখনো হাজির হয়নি এবং এর আগের কোনো সিদ্ধান্তও আমলে নেয়নি। ভারতের মতে, নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো রকম নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার এই আদালতের নেই।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত যেসব পানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে এই আদালতের কোনো ঘোষণা প্রভাব ফেলতে পারবে না।

চুক্তি বহাল থাকার রায়

ভারতের এই অবস্থানের পরই আসে স্থায়ী সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালত রায়ে বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং চুক্তি স্থগিত রাখার জন্য ভারতের যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি নেই।

আদালত একই সঙ্গে ভারতের রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে নিয়োগ করা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রকল্পটি মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে।

India rejects Indus Waters award, says treaty remains in abeyance; 'illegal'  court has no say in its actions - The Economic Times

ছয় দশকের পুরোনো পানি চুক্তি

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে উৎপন্ন পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ব্যবহার ও বণ্টন হবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে এই চুক্তি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চুক্তিটি বড় ধরনের বিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তান বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যায়।

ভারত শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে স্থায়ী সালিশি আদালতের আগের অবস্থান ছিল, সালিশি আদালত যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে এবং পাকিস্তানের আনা অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে তার এখতিয়ার রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত, ৩ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল

সিন্ধু পানি চুক্তির সালিশি রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের, আদালতকে বলল ‘অবৈধভাবে গঠিত’

০১:২৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের দেওয়া রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে গঠিত এই আদালত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এর কোনো আইনি বৈধতা ভারত স্বীকার করে না। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌম কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, চুক্তির শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘনের মাধ্যমে কথিত সালিশি আদালত গঠন করা হয়েছে। তাই এর বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো রায় ভারত গ্রহণ করবে না।

সালিশি আদালতের বৈধতা মানে না ভারত

ভারত জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সালিশি আদালতের আইনগত অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। আদালত গঠনের প্রক্রিয়াকে সিন্ধু পানি চুক্তির পরিপন্থী মনে করে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে এর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

India rejects Indus Waters Treaty award, calls Court of Arbitration ' illegally constituted' - Pragativadi I Latest Odisha News in English I  Breaking News

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই আদালতের সামনে কখনো হাজির হয়নি এবং এর আগের কোনো সিদ্ধান্তও আমলে নেয়নি। ভারতের মতে, নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো রকম নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার এই আদালতের নেই।

মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত যেসব পানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে এই আদালতের কোনো ঘোষণা প্রভাব ফেলতে পারবে না।

চুক্তি বহাল থাকার রায়

ভারতের এই অবস্থানের পরই আসে স্থায়ী সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালত রায়ে বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং চুক্তি স্থগিত রাখার জন্য ভারতের যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি নেই।

আদালত একই সঙ্গে ভারতের রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে নিয়োগ করা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রকল্পটি মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে।

India rejects Indus Waters award, says treaty remains in abeyance; 'illegal'  court has no say in its actions - The Economic Times

ছয় দশকের পুরোনো পানি চুক্তি

১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে উৎপন্ন পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ব্যবহার ও বণ্টন হবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে এই চুক্তি।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চুক্তিটি বড় ধরনের বিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তান বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যায়।

ভারত শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে স্থায়ী সালিশি আদালতের আগের অবস্থান ছিল, সালিশি আদালত যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে এবং পাকিস্তানের আনা অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে তার এখতিয়ার রয়েছে।