পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের দেওয়া রায় সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে গঠিত এই আদালত চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এর কোনো আইনি বৈধতা ভারত স্বীকার করে না। ফলে আদালতের সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌম কর্মকাণ্ডে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৩১ আগস্ট এক বিবৃতিতে জানায়, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, চুক্তির শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘনের মাধ্যমে কথিত সালিশি আদালত গঠন করা হয়েছে। তাই এর বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনো রায় ভারত গ্রহণ করবে না।
সালিশি আদালতের বৈধতা মানে না ভারত
ভারত জানিয়েছে, তারা শুরু থেকেই এই সালিশি আদালতের আইনগত অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। আদালত গঠনের প্রক্রিয়াকে সিন্ধু পানি চুক্তির পরিপন্থী মনে করে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে এর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এই আদালতের সামনে কখনো হাজির হয়নি এবং এর আগের কোনো সিদ্ধান্তও আমলে নেয়নি। ভারতের মতে, নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর কোনো রকম নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার এই আদালতের নেই।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত যেসব পানি ও বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, সেগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত সিদ্ধান্তে এই আদালতের কোনো ঘোষণা প্রভাব ফেলতে পারবে না।
চুক্তি বহাল থাকার রায়
ভারতের এই অবস্থানের পরই আসে স্থায়ী সালিশি আদালতের সিদ্ধান্ত। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আদালত রায়ে বলেছে, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং চুক্তি স্থগিত রাখার জন্য ভারতের যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি নেই।
আদালত একই সঙ্গে ভারতের রতলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে নিয়োগ করা নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ প্রকল্পটি মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত এসব সীমাবদ্ধতা কার্যকর থাকবে।
![]()
ছয় দশকের পুরোনো পানি চুক্তি
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সিন্ধু নদী ব্যবস্থা থেকে উৎপন্ন পানি দুই দেশের মধ্যে কীভাবে ব্যবহার ও বণ্টন হবে, সেই কাঠামো নির্ধারণ করে এই চুক্তি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চুক্তিটি বড় ধরনের বিরোধের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর পাকিস্তান বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় নিয়ে যায়।
ভারত শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে স্থায়ী সালিশি আদালতের আগের অবস্থান ছিল, সালিশি আদালত যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে এবং পাকিস্তানের আনা অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে তার এখতিয়ার রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















