০২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইরানে ফের যুদ্ধের আগুন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা আঘাত ন্যান্সি টুইনের নতুন যাত্রা: আত্মার টানে আবারও সৌন্দর্য ব্যবসায় প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যে গেরলাঁ: সৌন্দর্যচর্চায় ফরাসি বিলাসিতার যে পণ্যগুলো আজও অনন্য দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে ছড়াচ্ছে একের পর এক ভুয়া তথ্য হামাসের অর্থায়নে ব্যবহৃত ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলারের বেশি ক্রিপ্টো জব্দ করল এফবিআই ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ধাক্কা, নেতৃত্ব হারাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনীর রূপান্তর পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলায় আবার ৯০ ডলার ছাড়াল বিশ্ববাজারে তেলের দাম ভ্রমণই বদলে দিল জীবন, উদ্বেগকে আর নিজের সিদ্ধান্তের চালক হতে দেন না তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর হানা, ১৯ কর্মদিবসে আক্রান্ত ৪৯ শিক্ষার্থী জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে মিত্রদের প্রকাশ্য আপত্তি

জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে মিত্রদের প্রকাশ্য আপত্তি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে বিশ্বের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে তুলে ধরতে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সম্মেলনে ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে অন্য দেশগুলোকে একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। কিন্তু মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, ওয়াশিংটনের কিছু পদক্ষেপ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনে বিঘ্ন, জাপানের ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ইউরো বিক্রির বেসেন্টের আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং কানাডার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান শুল্ক ও বাগ্‌যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়।

জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লারস ক্লিংবাইল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ন্যাটো ভাঙনের পথে? ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে গভীর সংকট

যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের নীতিগত পার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক দর্শনের পার্থক্যও সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। ইউরোপ এআই ও অন্যান্য খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক এবং বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুদ্রানীতি নিয়েও ক্ষোভ

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, জাপানের ইয়েনের মূল্য সমর্থনে ইউরো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল বলেন, আগাম সমন্বয় না থাকায় ইউরোপীয়দের অসন্তোষের বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ব্যর্থ, কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের

আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিরোধ, ইরান যুদ্ধ এবং চীনের প্রতিযোগিতাগত ভারসাম্যহীনতা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে তীব্র বিরোধ

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরোধই সবচেয়ে প্রকাশ্য রূপ নেয়। বেসেন্ট বলেন, ১৩ গুণ বড় অর্থনীতির দেশের সঙ্গে কানাডার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। জবাবে কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, কানাডা তাদের শ্রমিক, শিল্প ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছর ইউরোজোন ও কানাডার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে বাড়বে বলে আইএমএফের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আইএমএফ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন প্রবৃদ্ধি ধীর করেছে। জার্মান অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, যুদ্ধ ও ইউরোপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দেশটির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানে ফের যুদ্ধের আগুন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের পাল্টা আঘাত

জি-২০ সম্মেলনে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির বিরুদ্ধে মিত্রদের প্রকাশ্য আপত্তি

১২:৫৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে বিশ্বের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে তুলে ধরতে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সম্মেলনে ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন।

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে অন্য দেশগুলোকে একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। কিন্তু মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, ওয়াশিংটনের কিছু পদক্ষেপ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনে বিঘ্ন, জাপানের ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ইউরো বিক্রির বেসেন্টের আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং কানাডার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান শুল্ক ও বাগ্‌যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়।

জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লারস ক্লিংবাইল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ন্যাটো ভাঙনের পথে? ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কে গভীর সংকট

যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের নীতিগত পার্থক্য

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক দর্শনের পার্থক্যও সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। ইউরোপ এআই ও অন্যান্য খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক এবং বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

মুদ্রানীতি নিয়েও ক্ষোভ

ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, জাপানের ইয়েনের মূল্য সমর্থনে ইউরো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল বলেন, আগাম সমন্বয় না থাকায় ইউরোপীয়দের অসন্তোষের বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ব্যর্থ, কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের

আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিরোধ, ইরান যুদ্ধ এবং চীনের প্রতিযোগিতাগত ভারসাম্যহীনতা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে তীব্র বিরোধ

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরোধই সবচেয়ে প্রকাশ্য রূপ নেয়। বেসেন্ট বলেন, ১৩ গুণ বড় অর্থনীতির দেশের সঙ্গে কানাডার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। জবাবে কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, কানাডা তাদের শ্রমিক, শিল্প ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছর ইউরোজোন ও কানাডার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে বাড়বে বলে আইএমএফের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আইএমএফ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন প্রবৃদ্ধি ধীর করেছে। জার্মান অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, যুদ্ধ ও ইউরোপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দেশটির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।