যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে বিশ্বের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে তুলে ধরতে নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যাশভিলে জি-২০-এর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরদের বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। তবে সম্মেলনে ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশের প্রতিনিধিরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেছেন।
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরে অন্য দেশগুলোকে একই পথ অনুসরণের আহ্বান জানান। কিন্তু মিত্র দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মনে করেন, ওয়াশিংটনের কিছু পদক্ষেপ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজার ও নৌপরিবহনে বিঘ্ন, জাপানের ইয়েনকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ইউরো বিক্রির বেসেন্টের আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং কানাডার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান শুল্ক ও বাগ্যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ জানানো হয়।
জার্মানির ভাইস চ্যান্সেলর লারস ক্লিংবাইল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কসংঘাত বৈশ্বিক বাণিজ্যের ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করছে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপের নীতিগত পার্থক্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অর্থনৈতিক দর্শনের পার্থক্যও সম্মেলনে স্পষ্ট হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবসা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে। ইউরোপ এআই ও অন্যান্য খাতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে তুলনামূলক সতর্ক এবং বায়ু ও সৌরবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
মুদ্রানীতি নিয়েও ক্ষোভ
ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, জাপানের ইয়েনের মূল্য সমর্থনে ইউরো বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান ইয়োয়াখিম নাগেল বলেন, আগাম সমন্বয় না থাকায় ইউরোপীয়দের অসন্তোষের বিষয়টি মার্কিন কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন।

আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত গাড়ি ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবিরোধ, ইরান যুদ্ধ এবং চীনের প্রতিযোগিতাগত ভারসাম্যহীনতা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
কানাডার সঙ্গে সবচেয়ে তীব্র বিরোধ
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিরোধই সবচেয়ে প্রকাশ্য রূপ নেয়। বেসেন্ট বলেন, ১৩ গুণ বড় অর্থনীতির দেশের সঙ্গে কানাডার পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন। জবাবে কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, কানাডা তাদের শ্রমিক, শিল্প ও দেশের স্বার্থ রক্ষা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি চলতি বছর ইউরোজোন ও কানাডার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হারে বাড়বে বলে আইএমএফের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে আইএমএফ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ মার্কিন প্রবৃদ্ধি ধীর করেছে। জার্মান অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, যুদ্ধ ও ইউরোপের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক দেশটির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















