যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক মাস পর আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর প্রভাবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো মারাত্মকভাবে ব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ৯০ দশমিক ৪৯ ডলারে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে প্রায় ৮৬ ডলারে দাঁড়ায়।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সংকটে
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা দুটি ইরানি রকেট লঞ্চারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু গত সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ১৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে বলে সামুদ্রিক তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে।
যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হলেও গত ২৮ দিনে গড়ে প্রায় ৫২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পার হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্যাংকারট্র্যাকার্স ডটকম।
জাহাজে হামলা অব্যাহত
মার্কিন প্রশাসন জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলে উৎসাহিত করলেও হামলার ঝুঁকি কমেনি। ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির পরিচালিত ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ওমানের উপকূলে একটি ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। যুদ্ধ শুরুর পর জাহাজে হামলার সংখ্যা ৭২ ছাড়িয়েছে।
এদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত পুনরায় পূরণের কথা জানিয়েছেন। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল উৎপাদনে সময় লাগতে পারে কয়েক বছর। বর্তমানে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ ১৯৮২ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
শেয়ারবাজারে চাপ, জ্বালানির দাম চড়া
তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচকও প্রায় দশমিক ৬ শতাংশ কমে। এদিকে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের জাতীয় গড় মূল্য সোমবার গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ০৮ ডলারে অপরিবর্তিত ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রলের দাম ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেলের গড় দামও ৫ দশমিক ৬০ ডলারে স্থির থাকলেও যুদ্ধ শুরুর পর তা ৪৯ শতাংশ বেড়েছে।
পরিশোধিত জ্বালানির বাজারেও চাপ
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের মাত্রার সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশে থাকলেও পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি নেমে এসেছে প্রায় ৪০ শতাংশে। ফলে পেট্রল ও ডিজেলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির দাম অপরিশোধিত তেলের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধের আগে শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম মৌসুমি স্বাভাবিকতায় ফিরবে না। ডিজেল ও জেট ফুয়েল থেকে শোধনাগারগুলোর গড় মুনাফার ব্যবধান এক বছর আগের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। ফলে শোধনাগারগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় উৎপাদন চালালেও সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে পরিশোধিত জ্বালানির উচ্চ মুনাফা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















