মিসরে অনুষ্ঠেয় এল আলামেইন আন্তর্জাতিক এয়ারশো ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে ভারত। দেশটির বিমানবাহিনীর সারাং হেলিকপ্টার ডিসপ্লে দল উন্নত হালকা হেলিকপ্টার (এএলএইচ) ধ্রুব দিয়ে প্রদর্শনীতে অংশ নেবে। এর মধ্য দিয়ে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে গড়ে ওঠা উড়োজাহাজ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার পাশাপাশি মিসরের সঙ্গে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও সামনে আসবে।
আগামী ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর এল আলামেইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হবে এয়ারশোটি। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা কোম্পানি, সামরিক প্রতিনিধিদল এবং বিমান চলাচলপ্রেমীরা অংশ নেবেন। সারাং দলের প্রদর্শনীতে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি হেলিকপ্টার প্ল্যাটফর্ম ধ্রুবের সক্ষমতা তুলে ধরা হবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পরিবর্তন
এল আলামেইন এয়ারশোতে ভারতের অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কৌশলের আওতায় দেশটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে। বর্তমানে ভারতের বার্ষিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদার প্রায় ৬৫ শতাংশ দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য ৮০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্প এখন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি, ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তিসহ বিস্তৃত ক্ষেত্রে সক্ষমতা তৈরি করেছে।
এই পরিবর্তনে বেসরকারি খাত ও স্টার্টআপগুলোর ভূমিকাও বাড়ছে। ভারতের মোট প্রতিরক্ষা উৎপাদনের প্রায় ২৪ শতাংশ এখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে হচ্ছে। পাশাপাশি ২ হাজারের বেশি প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ড্রোন সোয়ার্ম, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, উন্নত সেন্সর, নিরাপদ যোগাযোগ ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে।
ভারত-মিসর প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন সুযোগ
এল আলামেইনে ভারতের অংশগ্রহণের পেছনে দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময়, যৌথ মহড়া এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা যোগাযোগের মাধ্যমে ভারত ও মিসরের সহযোগিতা এগিয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং মিসরের বিমানবাহিনীর কমান্ডারের আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন। এর পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে কায়রোতে অনুষ্ঠিত হয় ভারত-মিসর যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির ১১তম বৈঠক। সেখানে ২০২৬-২৭ সালের জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা পরিকল্পনায় দুই দেশ সম্মত হয়।

যৌথ সামরিক মহড়াতেও সহযোগিতা বাড়ছে। ২০২৫ সালে মিসরের বহুজাতিক ‘ব্রাইট স্টার’ মহড়ায় ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর ৭০০ জনের বেশি সদস্য অংশ নেন, যা ওই মহড়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণ। বিশেষ বাহিনীর সহযোগিতাও ‘সাইক্লোন’ মহড়ার মাধ্যমে জোরদার হয়েছে। এর চতুর্থ সংস্করণ ২০২৬ সালের এপ্রিলে কায়রোতে অনুষ্ঠিত হয়।
এয়ারশোর বাইরে সহযোগিতার সম্ভাবনাও রয়েছে। হেলিকপ্টার ও মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সামুদ্রিক নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, সেন্সর, নিরাপদ যোগাযোগ এবং রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল—এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের শিল্প সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।
ফলে এল আলামেইন এয়ারশোতে ভারতের উপস্থিতি শুধু একটি বিমান প্রদর্শনী নয়; এটি ভারত-মিসর প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদন, প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাও সামনে আনবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















