০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ পেন্টাগনের গোপন নথিতে কড়াকড়ি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের পর অ্যাক্সেস কমানো ময়লা ব্যবস্থাপনায় মিশর-চীন অংশীদারত্ব, কাজে লাগবে আধুনিক প্রযুক্তি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোর ভারতের ‘সারাং’ হেলিকপ্টার দলের অভিষেক, মিসরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩ পূর্বাঞ্চলীয় তেল শোধনাগার সম্প্রসারণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী?

ময়লা ব্যবস্থাপনায় মিশর-চীন অংশীদারত্ব, কাজে লাগবে আধুনিক প্রযুক্তি

মিশর ও চীনের পরিবেশগত সহযোগিতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিষ্কার জ্বালানি, আধুনিক প্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিশরে বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্যানিটারি ল্যান্ডফিলগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে মিশরীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে।

ল্যান্ডফিল পরিচালনায় চীনা প্রস্তাব

মিশরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে বিভিন্ন গভর্নরেটে থাকা কয়েকটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কারিগরি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বর্জ্যের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার চেয়ে বেশি, সেসব বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে মিশর-চীন পরিবেশগত প্রযুক্তি সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশর বিশেষায়িত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগাতে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো প্রযুক্তি সরাসরি গ্রহণের পরিবর্তে তা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে সার ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা

আলোচনায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের ভেতরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। এতে বর্জ্য গ্রহণ ও ল্যান্ডফিল পরিচালনা থেকে শুরু করে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদিত উপকরণের ব্যবহার এবং অবশিষ্ট বর্জ্যের নিরাপদ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিকল্পনায় বর্জ্য থেকে জৈব সার এবং আরডিএফ বা Refuse-Derived Fuel উৎপাদনের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্পত্তির পাশাপাশি বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব প্রযুক্তি গ্রহণের আগে বর্জ্যের ধরন, উৎপাদনের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য এবং মিশরের পরিবেশগত ও পরিচালনাগত চাহিদার সঙ্গে প্রযুক্তির সামঞ্জস্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি নির্গমন, দুর্গন্ধ ও তরল বর্জ্য বা লিকেজ কমানোর বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার

মিশরের স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. মানাল আওয়াদ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি গভর্নরেটের প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণে প্রয়োজনীয় গবেষণার কথাও বলেছেন তিনি।

কিছু গভর্নরেটে ল্যান্ডফিলের সংখ্যা সীমিত এবং বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। তাই বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গভর্নরেট ও নতুন শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনার মধ্যে সমন্বয় তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো এবং স্যানিটারি ল্যান্ডফিলগুলোর কার্যকর আয়ু বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

প্রযুক্তি গ্রহণে থাকবে যাচাই-বাছাই

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা মানেই তাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরাসরি গ্রহণ করা নয়। প্রস্তাবিত প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং বাস্তবে সফল প্রয়োগের নজির রয়েছে কি না, তা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ড. মানাল আওয়াদের মতে, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এমন সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য। এর লক্ষ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, বিদ্যমান অবকাঠামো থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া এবং একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ

ময়লা ব্যবস্থাপনায় মিশর-চীন অংশীদারত্ব, কাজে লাগবে আধুনিক প্রযুক্তি

০৩:৩১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিশর ও চীনের পরিবেশগত সহযোগিতায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাত নতুন গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিষ্কার জ্বালানি, আধুনিক প্রযুক্তি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মিশরে বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং স্যানিটারি ল্যান্ডফিলগুলোর কার্যকর ব্যবস্থাপনা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে মিশরীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে।

ল্যান্ডফিল পরিচালনায় চীনা প্রস্তাব

মিশরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের বৈঠকে বিভিন্ন গভর্নরেটে থাকা কয়েকটি স্যানিটারি ল্যান্ডফিল পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কারিগরি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি যেসব এলাকায় বর্জ্যের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতার চেয়ে বেশি, সেসব বর্জ্য কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এই উদ্যোগকে মিশর-চীন পরিবেশগত প্রযুক্তি সহযোগিতার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিশর বিশেষায়িত চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগাতে আগ্রহী হলেও নতুন কোনো প্রযুক্তি সরাসরি গ্রহণের পরিবর্তে তা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্জ্য থেকে সার ও জ্বালানি উৎপাদনের সম্ভাবনা

আলোচনায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিলের ভেতরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হয়। এতে বর্জ্য গ্রহণ ও ল্যান্ডফিল পরিচালনা থেকে শুরু করে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদিত উপকরণের ব্যবহার এবং অবশিষ্ট বর্জ্যের নিরাপদ চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পরিকল্পনায় বর্জ্য থেকে জৈব সার এবং আরডিএফ বা Refuse-Derived Fuel উৎপাদনের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্পত্তির পাশাপাশি বর্জ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য সম্পদ তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এসব প্রযুক্তি গ্রহণের আগে বর্জ্যের ধরন, উৎপাদনের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্য এবং মিশরের পরিবেশগত ও পরিচালনাগত চাহিদার সঙ্গে প্রযুক্তির সামঞ্জস্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি নির্গমন, দুর্গন্ধ ও তরল বর্জ্য বা লিকেজ কমানোর বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার

মিশরের স্থানীয় উন্নয়ন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. মানাল আওয়াদ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতিটি গভর্নরেটের প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণে প্রয়োজনীয় গবেষণার কথাও বলেছেন তিনি।

কিছু গভর্নরেটে ল্যান্ডফিলের সংখ্যা সীমিত এবং বর্জ্যের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। তাই বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গভর্নরেট ও নতুন শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনার মধ্যে সমন্বয় তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবহার বাড়ানো এবং স্যানিটারি ল্যান্ডফিলগুলোর কার্যকর আয়ু বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

প্রযুক্তি গ্রহণে থাকবে যাচাই-বাছাই

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা মানেই তাদের কোনো নির্দিষ্ট প্রযুক্তি সরাসরি গ্রহণ করা নয়। প্রস্তাবিত প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং বাস্তবে সফল প্রয়োগের নজির রয়েছে কি না, তা যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ড. মানাল আওয়াদের মতে, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে এমন সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যা বাস্তবে প্রয়োগযোগ্য। এর লক্ষ্য হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, বিদ্যমান অবকাঠামো থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া এবং একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা।