বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) কাছ থেকে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ নিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রামে ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ ঋণচুক্তি সই হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
দেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ
ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের মূল লক্ষ্য হলো পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কমানো। একই সঙ্গে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করাও প্রকল্পটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশ থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রয়োজন কমবে এবং জ্বালানি খাতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও হ্রাস পেতে পারে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর অর্থায়নের নিশ্চয়তা
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নতুন নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা চললেও অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নানা জটিলতায় তা বারবার পিছিয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা প্রথম করা হয়েছিল ২০১০ সালে।
এবার প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকার হিসেবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আইএসডিবির নির্বাহী পরিচালনা পর্ষদ গত জুনে আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ৩৬৭তম সভায় ১ বিলিয়ন ডলারের এই অর্থায়ন অনুমোদন করে।
১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় অপরিশোধিত তেল শোধনাগার। দীর্ঘদিন ধরে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আইএসডিবি প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর
আইএসডিবি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ড. মুহাম্মদ আল জাসের ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফর করছেন। বুধবার তিনি উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে ঢাকায় পৌঁছান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন।
ইআরএল সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি তার বাংলাদেশ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে সামনে এসেছে। সরকারের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















