০২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

অপমানের অসহ্যভার

  • Sarakhon Report
  • ০৭:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪
  • 157

পৃথিবীর মহাকাব্য গুলির অপমানিতের চরিত্র আঁকার দিক মহাভারতই এগিয়ে।  দৌপদীকে যতটা অপমান করা হয় এতটা অপমানিতের চরিত্র আর কোন মহাকাব্যে নেই।

দ্রৌপদি অগ্নি থেকে জম্ম নেয়া। অর্থ সে ভূমি। তাছাড়া নারী আর ভূমি মূলত একই। দুই-ই ধারণ  ও জম্ম দেয়। দ্রৌপদির অপমানের অর্থ একটি ভূমির অপমান। ওই ভূমিতে যারা সম্মানের সঙ্গে বাস করতে চায় তাদের অপমান।

রাজা ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ। তার শত পুত্রের মধ্যে এক পুত্র ছাড়া আর সবাই তখন দুঃশাসনের পথে। পৃথিবীতে সব রাজারই একটি নিয়তি আছে- বেশি ক্ষেত্রে রাজা এক সময়ে গিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। আর তখন তার দুঃশাসনের মতো পুত্ররা, শকুনির মত আত্মীয়রা আর তাদের সহযোগীরা যারা কিছুদিন আগে শেয়ালের মতো নিশাচর ছিলো- তারা সকলে সামনে আসে। আর তারা সকলে মিলে রাজার অন্ধত্ব নিয়ে ভূমি আর মানুষকে অপমান করা শুরু করে।

পৃথিবীতে সব থেকে ভারী অপমান। সাধারণ মাথা, শ্রদ্ধেয় শির আর বীরের শীর দাড়ার পক্ষে অপমানের ভার বয়ে চলা সব থেকে কষ্টের। কিন্তু অন্ধ রাজা, শকুনি আত্মীয় আর শিবার মতো সহচররা কখনই বুঝতে পারে না অপমানের তীব্র জালা ও জগদ্দল পাথরের মতো ভারকে।

ভূমিকে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে হয়, মানুষকে অনেক রোগ শোক, অনেক উত্থান- পতন সহ্য করতে হয়। হয়তো এই পথে তাকে কখনও কখনও অন্ধ রাজার অপমানও সহ্য করতে হয়।

রাজা অবশ্য তখন বুঝতে পারে না তাকে ঘিরে চলছে বস্ত্র হরণের মতো অপমান। রজশীলা নারীর মতো সব থেকে পবিত্রতম মানুষদেরকে এই অপমান সহ্য করতে হয়।

তবে অপমানের ভারে কেউ নুয়ে পড়ে না। অজু‍র্নের মতো হয়তো বনবাসে যায়। তবে মনে রাখা দরকার,অর্জুন বনবাসে গেলেও গান্ডীব তার হাতে।  শকুনি, শিবাদের শুধু কুমতলব ছাড়া অন্য কোন শক্তি বা অস্ত্র নেই। তাই ন্যায়ের বা স্বর্গীয় অস্ত্র গান্ডীব যখন ঘুরে দাঁড়ায় তখন কুমতলবের রক্তপান করে অতি সাধারণ ভীমসেন।

এ কারণে যে কোন দেশের যে কোন রাষ্ট্র পরিচালককে অন্ধ হলেও পাশা খেলায় শুকুনি জিতেছে বলে আনন্দিত হতে নেই। বরং তাকে রক্ষা করতে হয়  দ্রৌপদির বস্ত্র। রক্ষা করতে হয় ভূমি ও মানুষকে অযাচিত অপমানের হাত থেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

অপমানের অসহ্যভার

০৭:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ জুন ২০২৪

পৃথিবীর মহাকাব্য গুলির অপমানিতের চরিত্র আঁকার দিক মহাভারতই এগিয়ে।  দৌপদীকে যতটা অপমান করা হয় এতটা অপমানিতের চরিত্র আর কোন মহাকাব্যে নেই।

দ্রৌপদি অগ্নি থেকে জম্ম নেয়া। অর্থ সে ভূমি। তাছাড়া নারী আর ভূমি মূলত একই। দুই-ই ধারণ  ও জম্ম দেয়। দ্রৌপদির অপমানের অর্থ একটি ভূমির অপমান। ওই ভূমিতে যারা সম্মানের সঙ্গে বাস করতে চায় তাদের অপমান।

রাজা ধৃতরাষ্ট্র অন্ধ। তার শত পুত্রের মধ্যে এক পুত্র ছাড়া আর সবাই তখন দুঃশাসনের পথে। পৃথিবীতে সব রাজারই একটি নিয়তি আছে- বেশি ক্ষেত্রে রাজা এক সময়ে গিয়ে অন্ধ হয়ে যায়। আর তখন তার দুঃশাসনের মতো পুত্ররা, শকুনির মত আত্মীয়রা আর তাদের সহযোগীরা যারা কিছুদিন আগে শেয়ালের মতো নিশাচর ছিলো- তারা সকলে সামনে আসে। আর তারা সকলে মিলে রাজার অন্ধত্ব নিয়ে ভূমি আর মানুষকে অপমান করা শুরু করে।

পৃথিবীতে সব থেকে ভারী অপমান। সাধারণ মাথা, শ্রদ্ধেয় শির আর বীরের শীর দাড়ার পক্ষে অপমানের ভার বয়ে চলা সব থেকে কষ্টের। কিন্তু অন্ধ রাজা, শকুনি আত্মীয় আর শিবার মতো সহচররা কখনই বুঝতে পারে না অপমানের তীব্র জালা ও জগদ্দল পাথরের মতো ভারকে।

ভূমিকে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে হয়, মানুষকে অনেক রোগ শোক, অনেক উত্থান- পতন সহ্য করতে হয়। হয়তো এই পথে তাকে কখনও কখনও অন্ধ রাজার অপমানও সহ্য করতে হয়।

রাজা অবশ্য তখন বুঝতে পারে না তাকে ঘিরে চলছে বস্ত্র হরণের মতো অপমান। রজশীলা নারীর মতো সব থেকে পবিত্রতম মানুষদেরকে এই অপমান সহ্য করতে হয়।

তবে অপমানের ভারে কেউ নুয়ে পড়ে না। অজু‍র্নের মতো হয়তো বনবাসে যায়। তবে মনে রাখা দরকার,অর্জুন বনবাসে গেলেও গান্ডীব তার হাতে।  শকুনি, শিবাদের শুধু কুমতলব ছাড়া অন্য কোন শক্তি বা অস্ত্র নেই। তাই ন্যায়ের বা স্বর্গীয় অস্ত্র গান্ডীব যখন ঘুরে দাঁড়ায় তখন কুমতলবের রক্তপান করে অতি সাধারণ ভীমসেন।

এ কারণে যে কোন দেশের যে কোন রাষ্ট্র পরিচালককে অন্ধ হলেও পাশা খেলায় শুকুনি জিতেছে বলে আনন্দিত হতে নেই। বরং তাকে রক্ষা করতে হয়  দ্রৌপদির বস্ত্র। রক্ষা করতে হয় ভূমি ও মানুষকে অযাচিত অপমানের হাত থেকে।