যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান হার আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। কৃষিপ্রধান এই অঙ্গরাজ্যে পানির দূষণ, কৃষিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে পরিবেশদূষণ মোকাবিলা, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের প্রার্থীরাই।
যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও শূকর উৎপাদনে শীর্ষে থাকা আইওয়ায় কয়েক বছর আগেও নির্বাচনী বিতর্কে ক্যানসার এতটা গুরুত্ব পাবে, তা কল্পনা করা কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারের হারের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির মাত্র তিনটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে আইওয়া একটি, যেখানে ক্যানসারের হার কমার পরিবর্তে বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে ক্যানসারের সম্ভাব্য পরিবেশগত কারণ মোকাবিলার বিষয়টি দুই দলের নির্বাচনী কর্মসূচিতেই স্থান পেয়েছে। গভর্নর ও সিনেট নির্বাচন থেকে শুরু করে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং দূষণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী জ্যাক লান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রব স্যান্ড—দুজনই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। কৃষক থেকে রাজনীতিতে আসা লান যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও খাদ্যব্যবস্থার পক্ষে সোচ্চার ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ বা ‘মাহা’ আন্দোলনের সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, পেশায় আইনজীবী স্যান্ড একজন মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত। দুজনই পানি পরিষ্কার রাখা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সিনেট নির্বাচনেও বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য অ্যাশলি হিনসন এবং ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্য প্রতিনিধি জশ টুরেক—দুজনই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এ মাসে আরও অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
এ বছর আইওয়ায় ক্যানসারের প্রসঙ্গ তুলে প্রচারিত ১০০টিরও বেশি নির্বাচনী বিজ্ঞাপনের পেছনে প্রায় তিন কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এ ধরনের বিজ্ঞাপন ছিল মাত্র একটি, যার পেছনে ব্যয় হয়েছিল দুই লাখ ডলারের সামান্য কম। নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টির গুরুত্ব কত দ্রুত বেড়েছে, এ পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দেয়।
পানির গুণমান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এবং বর্তমানে অঙ্গরাজ্যের কৃষিবিষয়ক সচিব পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্রিস জোনস বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগেও ক্যানসার নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে তেমন আলোচনা ছিল না। এখন প্রায় প্রত্যেক প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচারে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
তবে কৃষিদূষণের সমালোচনা করতে গিয়ে দুই দলকেই একটি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আইওয়ার অর্থনীতি কৃষি খাতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে বড় কৃষি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করলে অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হতে পারে।
জোনসের মতে, ডেমোক্র্যাটরা এ বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারত। তাঁর অভিযোগ, কৃষি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জোরালো নিয়ন্ত্রণের দাবি না তোলায় দলটি রাজনৈতিক সুযোগ হারাচ্ছে। তিনি ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পক্ষেও কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা বলছেন, রিপাবলিকানদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ‘মাহা’ আন্দোলনের কিছু সমর্থক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর হতাশ। তাদের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি।
আইওয়ার স্বাস্থ্য বিভাগ ক্যানসারের হার বৃদ্ধির পেছনে স্থূলতা, মদ্যপান ও ধূমপানের মতো জীবনযাপনসংক্রান্ত কারণকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে। তবে পরিবেশের সংস্পর্শও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভাগটি স্বীকার করেছে। পরিবেশদূষণ নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দাদের কাছে এ স্বীকৃতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
পরিবেশবাদী ও কিছু কৃষকের অভিযোগ, পশুপালন থেকে উৎপন্ন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এবং গোবর থেকে নির্গত নাইট্রেট অঙ্গরাজ্যের পানিতে মিশছে। হাজার হাজার টন পশুবর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া এই উপাদান পানির গুণমান নষ্ট করছে বলে তাঁদের আশঙ্কা। তবে পানির দূষণ ও ক্যানসারের মধ্যে নির্দিষ্ট কারণগত সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
আইওয়ায় ক্যানসার নিয়ে প্রকাশিত একটি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণের দাবিতে কাজ করা কৃষক জ্যাক স্মিথের মতে, প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর ভাষায়, এখন এই আগ্রহকে বাস্তব আইন ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করা জরুরি।
পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। একসময় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিকে অনেকেই উদারপন্থীদের আন্দোলন বলে মনে করতেন। কিন্তু এখন রিপাবলিকানদের একাংশও বিষয়টিকে জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক দায়িত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছেন।
আইওয়ায় ‘মাহা’ আন্দোলনের জনপ্রিয়তা এ পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আন্দোলনটির সমর্থন নিয়ে লান রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া কংগ্রেস সদস্য র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করে গভর্নর পদে দলের প্রার্থী হন।
রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রকাশক টনি লায়ন্স পরিচালিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘মাহা অ্যাকশন’ লানের নির্বাচনী প্রচারে ১৫ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে লানই ছিল তাদের প্রথম সমর্থন পাওয়া প্রার্থী।
তবে লানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ওয়াশিংটনে তাঁর দলের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নীতির সঙ্গে নিজের অবস্থানের সামঞ্জস্য বজায় রাখা। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে কীটনাশকের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং পরিবেশ সুরক্ষার বেশ কিছু নিয়ম শিথিল করেছে।
লান এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে কীটনাশকের উৎপাদন বাড়ানোর নির্বাহী আদেশটি সঠিক পদক্ষেপ ছিল না। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ পেলে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পারতেন।
তবু ‘মাহা’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ডেভিড মারফি, যিনি কেনেডির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারকে সমর্থন করেছিলেন, লানের অবস্থান নিয়ে সন্দিহান। তাঁর মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা জনস্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পরিবর্তনের একটি বড় সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
সিনেট নির্বাচনেও ক্যানসারের বিষয়টি রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক স্পাইনা বিফিডা নামের জন্মগত শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত। তাঁর সমর্থকদের দাবি, ভিয়েতনাম যুদ্ধে তাঁর বাবার এজেন্ট অরেঞ্জ নামের রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ ধরনের সম্পর্কের মূল্যায়নে নির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
টুরেকের সমর্থকেরা তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হিনসনের বিরুদ্ধে প্রচারে ক্যানসারের প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন। ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনে কাজ করা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের বিজ্ঞাপনে চিকিৎসক সেলডেন স্পেন্সার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলে ক্যানসারের হার কমলেও আইওয়ায় তা বাড়ছে। বিজ্ঞাপনটিতে দূষণের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে হিনসনের নির্বাচনী অনুদান গ্রহণের বিষয়টিও সমালোচনা করা হয়েছে।
টুরেকের প্রচারশিবিরের মুখপাত্র হান্না গস বলেছেন, টুরেক ক্ষমতাশালী করপোরেশনের পরিবর্তে আইওয়ার সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন। তাঁর দাবি, টুরেক পানিদূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্যানসার সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চান।
হিনসনের প্রচারশিবির বিজ্ঞাপনে উত্থাপিত অভিযোগের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে এ সপ্তাহে তিনি মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হিলারি স্কোলটেনের সঙ্গে ক্যানসার শনাক্তের প্রাথমিক পরীক্ষায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে একটি বিল উত্থাপন করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিনসন বলেছেন, আইওয়ার বহু পরিবার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে, তাঁর নিজের পরিবারও এর বাইরে নয়। তাঁর মতে, ক্যানসারের হার বৃদ্ধি অগ্রহণযোগ্য এবং এ প্রবণতা উল্টে দিতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো দরকার।
কৃষি ব্যবসা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থের সংঘাত রিপাবলিকানদের মধ্যেও বিভাজন তৈরি করেছে। এ ক্ষেত্রে বিতর্কের অন্যতম বিষয় গ্লাইফোসেট—এক ধরনের আগাছানাশক, যা ‘রাউন্ডআপ’ নামেও পরিচিত।
আইওয়ার অনেক বাসিন্দা পশুবর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া নাইট্রেটকে স্বাস্থ্য সমস্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, ‘মাহা’ আন্দোলনের কিছু কর্মী গ্লাইফোসেটকেও ক্যানসারের হার বৃদ্ধির জন্য দায়ী বলে মনে করেন। কিন্তু অনেক কৃষকের বক্তব্য, ফসলের সুরক্ষায় এই রাসায়নিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এর ব্যবহার সীমিত করার দাবি কৃষকদের সঙ্গে আন্দোলনটির সমর্থকদের মতবিরোধ বাড়িয়েছে।
গ্লাইফোসেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক এখনো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা এ বছর রাসায়নিকটির নিরাপত্তা নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা করছে। কেনেডি দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসায় বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কেও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের আরেকটি উদাহরণ অঙ্গরাজ্যের কৃষিবিষয়ক সচিব পদে দলটির প্রার্থী মাইক নাইগের অবস্থান। তিনি গভর্নর পদে নিজ দলের প্রার্থী লানের সমালোচনা করে বলেছেন, বিষয়টি যতটা জটিল, কেউ কেউ সেটিকে তার চেয়ে সরলভাবে উপস্থাপন করছেন। তাঁর মতে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা বিপজ্জনক হতে পারে।
ডেমোক্র্যাটরাও এ পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছেন। দলটির নেতাদের মতে, আইওয়ায় ক্যানসারের উচ্চ হার ‘মাহা’ আন্দোলনের শক্তিশালী হয়ে ওঠার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর রাসায়নিক ব্যবহার ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা দুর্নীতি ও জবাবদিহির বৃহত্তর বিতর্কের সঙ্গে বিষয়টিকে যুক্ত করছেন।
তবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্যান্ডও সমালোচনা থেকে রেহাই পাননি। লান তাঁর বিরুদ্ধে কৃষি খাতের স্বার্থের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে স্যান্ড এমন একজন দাতার কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন, যাঁর বিরুদ্ধে পানীয় জলের দূষণের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন লান। স্যান্ডের প্রচারশিবির এসব অভিযোগের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে স্যান্ড পশ্চিম ডেস ময়েনস শহরে ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আলোচনা সভা করেছেন। সেখানে তিনি সংকট মোকাবিলায় নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি ক্যানসারবিষয়ক একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
স্যান্ডের প্রচারশিবিরের উপপ্রধান এমা ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, ক্যানসার নিয়ে উদ্বেগ মোকাবিলায় স্যান্ডের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, লান এমন একটি বড় আইনকে সমর্থন করেন, যা ক্যানসার গবেষণার অর্থায়ন কমাতে পারে। পাশাপাশি লান এমআরএনএ টিকা নিষিদ্ধ করার পক্ষে, যদিও ক্যানসারের চিকিৎসায় এ প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে গবেষণা চলছে। এ বিষয়ে লানের প্রচারশিবির মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক একটি জরিপে স্যান্ডকে লানের চেয়ে এগিয়ে দেখা গেছে। অন্যদিকে, আইওয়ার সিনেট নির্বাচন এখনো হাড্ডাহাড্ডি অবস্থায় রয়েছে। ফলে ক্যানসার সংকট, নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা এবং কৃষিতে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রশ্ন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে কতটা ভূমিকা রাখে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ বাড়ছে।
আইওয়ার পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশদূষণ এখন আর কেবল বিজ্ঞানী বা পরিবেশকর্মীদের আলোচনার বিষয় নয়। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি, করপোরেট স্বার্থ, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য—সবকিছু মিলিয়ে ক্যানসার সংকট একটি বড় নির্বাচনী প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। তবে দূষণ ও ক্যানসারের মধ্যে নির্দিষ্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর সমাধান নির্ধারণে আরও গবেষণা, স্বচ্ছ তথ্য ও বাস্তবভিত্তিক নীতির প্রয়োজন রয়েছে।












