জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ওক গাছের শুঁয়োপোকা বা ‘ওক প্রসেশনরি মথ’-এর উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালে শহরজুড়ে ১০ হাজারের বেশি স্থানে এই পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন এলাকার পার্ক ও খেলাধুলার মাঠ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বার্লিনের উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শহরটিতে এই পোকার বিস্তারের হিসাব রাখা হচ্ছে। সেই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছর উপদ্রবের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছরগুলোর মধ্যেও ২০১৯ থেকে ২০২০ এবং ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংক্রমিত এলাকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
শুঁয়োপোকার সূক্ষ্ম লোমে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ওক প্রসেশনরি মথ ধূসর-বাদামি রঙের এক ধরনের মথ। এর শুঁয়োপোকার শরীরে থাকে অতি সূক্ষ্ম বিষাক্ত লোম। মানুষের ত্বকের সংস্পর্শে এলে এসব লোম থেকে তীব্র চুলকানি, ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং অ্যালার্জিজনিত ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
শুধু ত্বক নয়, চোখ ও শ্বাসতন্ত্রের ওপরও এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির চোখে জ্বালাপোড়া, কাশি এবং হাঁপানির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে বার্লিনের বিভিন্ন এলাকায় পার্ক ও ক্রীড়াকেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব স্থানে মানুষের চলাচল বেশি, সেখানে এই পোকার উপস্থিতি জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
বার্লিনের উদ্ভিদ সুরক্ষা সংস্থার মতে, উপদ্রবের মাত্রা বিবেচনা করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সংক্রমণ কম হলে সাধারণত যান্ত্রিক পদ্ধতিই যথেষ্ট।
এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে শুঁয়োপোকা ও তাদের বাসা শোষণ করে সরিয়ে ফেলা, আক্রান্ত এলাকা ঘিরে রাখা এবং গরম পানি বা উত্তপ্ত ফোম ব্যবহার করে পোকা ধ্বংস করা।
তবে যেসব এলাকায় কয়েক বছর ধরে ব্যাপক উপদ্রব চলছে এবং মানুষের সমাগম বেশি, সেখানে প্রয়োজনে জীবাণুনাশক রাসায়নিক পদার্থ বা বায়োসাইড ছিটানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ করে প্রকৃতি সংরক্ষণ, বন্য প্রাণী ও প্রজাতির সুরক্ষা, ভূদৃশ্য সংরক্ষণ এবং পানির গুণগত মান বজায় রাখার বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
প্রাকৃতিক শত্রু ব্যবহারেও গুরুত্ব
রাসায়নিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেও এই পোকার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ রয়েছে। এর একটি হলো নেমাটোড বা এক ধরনের অতি ক্ষুদ্র কৃমি ব্যবহার। এগুলো শুঁয়োপোকার শরীরে প্রবেশ করে সেটিকে মেরে ফেলতে পারে।
এ ছাড়া কিছু প্রজাতির মাছি, বোলতা ও গুবরে পোকা এই মথের প্রাকৃতিক শত্রু হিসেবে কাজ করে। নির্দিষ্ট কিছু পাখিও শুঁয়োপোকা খেয়ে থাকে। এসব পাখির বসবাস বাড়াতে গাছে বাসা তৈরির বাক্স স্থাপনের মতো উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
বছরের শেষ নাগাদ নতুন সমন্বিত কৌশল
বার্লিনের নগর প্রশাসন ও বিভিন্ন জেলা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ওক প্রসেশনরি মথ নিয়ন্ত্রণের একটি সমন্বিত কৌশল সংশোধন করা হচ্ছে। বছরের শেষ নাগাদ সংশোধিত পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পরিকল্পনায় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।












