ভারতের রাজধানী দিল্লির পুরোনো শহর এলাকায় চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন ধসে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে উদ্ধার অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে পুরোনো দিল্লির গলি সিতারায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এলাকাটি চাওরি বাজার মেট্রো স্টেশনের কাছেই। দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা আহত চারজনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আহত সবাইকে লোক নায়ক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অন্তত ছয়টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ছিল পানিবাহী গাড়ি ও উদ্ধারকারী যান। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উদ্ধারকাজ তদারক করছেন।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী বিভাগীয় কর্মকর্তা রাজেশ শুক্লা দুপুর ১২টার দিকে দেওয়া এক হালনাগাদ তথ্যে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও চারজন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। তখনও উদ্ধার অভিযান চলছিল।
বিকট শব্দ শুনে বাইরে ছুটে আসেন স্থানীয়রা
প্রত্যক্ষদর্শী মোহাম্মদ নাঈম জানান, সকালে ঘুমের মধ্যে বিকট শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রথমে তাঁদের ধারণা হয়েছিল, নিজেদের বাড়ি ধসে পড়ছে। পরে বুঝতে পারেন, পাশের নির্মাণাধীন ভবনটি ভেঙে পড়েছে।
নাঈমের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। ভবনটির কয়েকটি ছাদের ঢালাইয়ের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছিল। তিন-চারটি ছাদের ঢালাই একসঙ্গে ধসে পড়ে বলে তিনি জানান। আহত এক শ্রমিক তাঁকে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় ভবনটিতে তিন থেকে চারজন শ্রমিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভবনটির নির্মাণকাজ চলছিল গত তিন থেকে চার মাস ধরে।
দীপাবলির ভিড়ে উদ্বেগ
দীপাবলি উপলক্ষে পুরোনো দিল্লির বাজারগুলোতে এ সময় ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় থাকে। চাঁদনি চক ও চাওরি বাজারের মতো পাইকারি ও বাণিজ্যিক এলাকায় উৎসবের কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে মানুষের চলাচলও বেড়ে যায়। এমন সময়ে ভবন ধসের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে বুধবার চাঁদনি চকের ১৬০ বছরের বেশি পুরোনো টাউন হলের একটি অংশ ধসে পড়ার খবর প্রকাশিত হয়। দিল্লি পৌর করপোরেশনের মালিকানাধীন প্রথম শ্রেণির সংরক্ষিত ঐতিহ্যবাহী ভবনটির সামনের অংশ, প্রথম তলা, ছাদ, প্রধান প্রবেশপথের দেয়াল এবং ওপরে থাকা ঘড়িটি ধসে পড়ে।
২০১১-১২ সালে পৌর করপোরেশনের সদর দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পর থেকে ভবনটি বেশির ভাগ সময় অব্যবহৃত ছিল। এর বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণ অবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত জানালা, খসে পড়া পলেস্তারা এবং বন্ধ চলাচলের পথের কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত মাসেও দিল্লির সীমাপুরী এলাকায় পাঁচতলা একটি আবাসিক ভবন ধসে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আহত হন আরও আটজন।
দিল্লিতে একের পর এক ভবন ধসের ঘটনায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।












