০৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
হাসিনাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা, জুলাই অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক হত্যার অভিযোগ বিদ্যুতের দাম বাড়ছে আজই, বিইআরসির ঘোষণায় ইউনিটপ্রতি ১.২৫ টাকা বৃদ্ধির আশঙ্কা গাজায় ইসরায়েলের রাতভর বোমায় ৫২ নিহত, ২০ লাখ মানুষ অনাহারে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাবনায় ৪০ শিক্ষার্থী হঠাৎ অজ্ঞান, বিষাক্ত পদার্থের সন্দেহ তদন্ত শুরু বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ তদন্তাধীন রামিসা হত্যা মামলায় সোহেল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠন, বিচার শুরু আমির খানের জীবনে নতুন অধ্যায়, ৫ জুলাই গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করছেন বলিউড তারকা কলমের কাছে ফিরে যাওয়ার সময় কি এসে গেছে? শিক্ষাব্যবস্থার সংকট: নম্বরের খাতা নয়, বদলাতে হবে শেখার ভিত্তি দারিদ্র্য অর্থায়ন: সংকট থেকে টেকসইতার পথে?

আরপিও সংশোধনে বিএনপির আপত্তি, ইসিকে চিঠি

নির্বাচনি জোট করলেও প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে হবে—নতুন আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটি বলছে, জোটবদ্ধ দলগুলোর উচিত হবে ইচ্ছানুযায়ী জোটের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া।


বিএনপির আনুষ্ঠানিক আপত্তি

রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অনুমোদন দেয়। এখন এটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।


কী পরিবর্তন আনা হয়েছে

নতুন সংশোধনে বলা হয়েছে, জোটের মনোনীত প্রার্থী হলেও তাঁকে ভোট করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরপিও’র ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংযোজন করা হয়েছে।

অতীতে ছোট দলগুলো বড় দলের সঙ্গে জোট বেঁধে, ইসির অনুমতি সাপেক্ষে জনপ্রিয় প্রতীকে নির্বাচন করত—যেমন বিএনপির ধানের শীষ বা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক। কিন্তু নতুন সংশোধনে বলা হয়েছে, জোট করলেও প্রতিটি দলকেই তাদের নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার করতে হবে।


বিএনপির প্রতিক্রিয়া

আরপিও সংশোধনের পরপরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানান। রোববার সকালে বিএনপির প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে এই আপত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “এমন সংশোধনে বিএনপি বিস্মিত। এতে অন্যান্য দলের মতো আমরাও একমত নই। এই পরিবর্তন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আরপিও’র আগের বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।”

ভোটের বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ইসিকে চিঠি বিএনপির

গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে

বিএনপির মতে, জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার থাকলে জোটভুক্ত দলগুলো নিজেদের বা জোটের যেকোনো দলের প্রতীক ব্যবহারের স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দলটির দাবি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, “অতীতে কখনো এই বিধান নিয়ে জটিলতা হয়নি। কোনো দলের পক্ষ থেকেও এটি সংশোধনের দাবি আসেনি। কিন্তু সরকার ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছি, ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের সঙ্গে বিএনপি একমত নয়।”


সরকারের ভূমিকা ও প্রত্যাশা

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আরপিও’র ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে জোট করলেও দলীয় প্রতীকে ভোটের খবর প্রকাশে দলটি বিস্মিত হয়েছে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, “আজ আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। পাশাপাশি একই ধরনের একটি চিঠি সরকারের আইন উপদেষ্টার কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বা জোটের যেকোনো দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে।”


প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরপিও সংশোধনের খসড়ায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে—যার মধ্যে পলাতক আসামির প্রার্থী হতে না পারার বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


#: #বিএনপি #আরপিও #নির্বাচনকমিশন #গণপ্রতিনিধিত্বআদেশ #রাজনীতি #বাংলাদেশ

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসিনাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা, জুলাই অভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক হত্যার অভিযোগ

আরপিও সংশোধনে বিএনপির আপত্তি, ইসিকে চিঠি

০৬:০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫

নির্বাচনি জোট করলেও প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের প্রতীকে ভোটে অংশ নিতে হবে—নতুন আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনের এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। দলটি বলছে, জোটবদ্ধ দলগুলোর উচিত হবে ইচ্ছানুযায়ী জোটের প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া।


বিএনপির আনুষ্ঠানিক আপত্তি

রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের অনুমোদন দেয়। এখন এটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।


কী পরিবর্তন আনা হয়েছে

নতুন সংশোধনে বলা হয়েছে, জোটের মনোনীত প্রার্থী হলেও তাঁকে ভোট করতে হবে নিজ দলের প্রতীকে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরপিও’র ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে সংযোজন করা হয়েছে।

অতীতে ছোট দলগুলো বড় দলের সঙ্গে জোট বেঁধে, ইসির অনুমতি সাপেক্ষে জনপ্রিয় প্রতীকে নির্বাচন করত—যেমন বিএনপির ধানের শীষ বা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক। কিন্তু নতুন সংশোধনে বলা হয়েছে, জোট করলেও প্রতিটি দলকেই তাদের নিজস্ব প্রতীক ব্যবহার করতে হবে।


বিএনপির প্রতিক্রিয়া

আরপিও সংশোধনের পরপরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ আপত্তি জানান। রোববার সকালে বিএনপির প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠকে এই আপত্তি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরে।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন বিষয়ক কমিটির সদস্য ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, “এমন সংশোধনে বিএনপি বিস্মিত। এতে অন্যান্য দলের মতো আমরাও একমত নই। এই পরিবর্তন আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আরপিও’র আগের বিধান বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।”

ভোটের বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ইসিকে চিঠি বিএনপির

গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে

বিএনপির মতে, জোটবদ্ধ হয়ে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার অধিকার থাকলে জোটভুক্ত দলগুলো নিজেদের বা জোটের যেকোনো দলের প্রতীক ব্যবহারের স্বাধীনতা পাওয়া উচিত। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দলটির দাবি।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, “অতীতে কখনো এই বিধান নিয়ে জটিলতা হয়নি। কোনো দলের পক্ষ থেকেও এটি সংশোধনের দাবি আসেনি। কিন্তু সরকার ও সংস্কার কমিশনের সুপারিশে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। আমরা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছি, ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের সঙ্গে বিএনপি একমত নয়।”


সরকারের ভূমিকা ও প্রত্যাশা

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের উপদেষ্টা পর্যায়ে পূর্বে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আরপিও’র ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে না। কিন্তু হঠাৎ করে জোট করলেও দলীয় প্রতীকে ভোটের খবর প্রকাশে দলটি বিস্মিত হয়েছে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, “আজ আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছি। পাশাপাশি একই ধরনের একটি চিঠি সরকারের আইন উপদেষ্টার কাছেও পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা আশা করি, জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের বা জোটের যেকোনো দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে।”


প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরপিও সংশোধনের খসড়ায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে—যার মধ্যে পলাতক আসামির প্রার্থী হতে না পারার বিধানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


#: #বিএনপি #আরপিও #নির্বাচনকমিশন #গণপ্রতিনিধিত্বআদেশ #রাজনীতি #বাংলাদেশ