১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায় কিশোরগঞ্জে গরুবাহী পিকআপ উল্টে নিহত ১, আহত অন্তত ১২ যশোরে বিয়ের বাস খাদে, আহত অন্তত ১২ জন গাজীপুরে শ্রমিক–পুলিশ সংঘর্ষ, অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ‘আমার প্রিয় ফিল্ড মার্শাল কেমন আছেন?’— দাভোসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজকে জিজ্ঞেস করলেন ট্রাম্প আমাকে ক্ষেপালে আপনার হাফপ্যান্ট খুলে যাবে, কারণ আমরা শেখ হাসিনার হাফপ্যান্ট খুলে দিয়েছিলাম: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশ বাদ এলসি খোলা বাড়লেও নিষ্পত্তিতে বাধা শেখ হাসিনার সঙ্গে তিশার ছবি জাদুঘরে রাখার প্রস্তাব, শাওনের কটাক্ষে তোলপাড় শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি বাড়ল, সূচকের উত্থানে ফিরল বিনিয়োগকারীদের আস্থা

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের আগে দুই ঘণ্টা সোনেহরি মসজিদ পার্কিংয়ে ছিল হুন্ডাই গাড়িটি

দিল্লির নেটাজি সুভাষ মার্গে লালকেল্লার কাছে সোমবার বিকেলে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই শান্ত পরিবেশকে ভয়ে পরিণত করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আটজন, যার মধ্যে গাড়ির তিন আরোহীও ছিলেন। বিস্ফোরণের কারণ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি প্রায় দুই ঘণ্টা সোনেহরি মসজিদ পার্কিং লটে রাখা ছিল।


সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল গাড়ির শেষ যাত্রাপথ

তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়ির গতিবিধির একটি টাইমলাইন তৈরি করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল চারটার দিকে তিনজন আরোহীসহ গাড়িটি দরিয়াগঞ্জ মার্কেট থেকে সোনেহরি মসজিদ পার্কিংয়ের দিকে যায়।

দুই ঘণ্টা পর গাড়িটিকে সেই পার্কিং এলাকা থেকে বের হতে দেখা যায়। পুরান দিল্লি রেলস্টেশনের কাছে একটি ইউ-টার্ন নেওয়ার পর গাড়িটি লোয়ার সুভাষ মার্গের দিকে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “ফুটেজে দেখা গেছে, ছাতা রেলচক এলাকার ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়িটি ধীরে গতি কমায়—এ সময়ই বিস্ফোরণটি ঘটে।”


বহুবার মালিকানা বদলেছে গাড়িটি

তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল এইচআর২৬সিই৭৬৭৪ এবং এটি হরিয়ানার নিবন্ধিত। গাড়িটি ২০১৪ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয় গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালমানের নামে। পরবর্তীতে এটি একাধিকবার বিক্রি হয়।

একজন তদন্তকারী জানান, “সালমান গাড়িটি দেবেন্দর নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে দেবেন্দর এটি আম্বালার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। বর্তমান মালিকের খোঁজ এখনো চলছে। নিবন্ধিত মালিককে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।”

হিন্দুস্তান টাইমস প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) কপিতে প্রাথমিক মালিকানার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আম্বালা পুলিশ একটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে গুরগাঁও পুলিশ দিল্লি তদন্তকারীদের সহায়তা করছে।


একাধিক সংস্থার যৌথ তদন্ত শুরু

বিস্ফোরণের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) এবং দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা এই মামলার তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে একটি ব্যাপক তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”


রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

ঘটনার পরই রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়। সরকারি ভবন, মেট্রো স্টেশন এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সিআইএসএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের স্থানটি লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট ১ ও ৪-এর কাছেই ছিল। নিরাপত্তার কারণে অস্থায়ীভাবে ওই গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।


#লালকেল্লা_বিস্ফোরণ #দিল্লি_সংবাদ #ভারত_তদন্ত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরিয়ার কুর্দিদের পতন: উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় স্বায়ত্তশাসনের শেষ অধ্যায়

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের আগে দুই ঘণ্টা সোনেহরি মসজিদ পার্কিংয়ে ছিল হুন্ডাই গাড়িটি

১১:৩৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

দিল্লির নেটাজি সুভাষ মার্গে লালকেল্লার কাছে সোমবার বিকেলে ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। একটি সাদা হুন্ডাই আই২০ গাড়ি হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই শান্ত পরিবেশকে ভয়ে পরিণত করে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আটজন, যার মধ্যে গাড়ির তিন আরোহীও ছিলেন। বিস্ফোরণের কারণ এখনও তদন্তাধীন থাকলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের আগে গাড়িটি প্রায় দুই ঘণ্টা সোনেহরি মসজিদ পার্কিং লটে রাখা ছিল।


সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল গাড়ির শেষ যাত্রাপথ

তদন্তকারীরা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়ির গতিবিধির একটি টাইমলাইন তৈরি করেছেন। ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল চারটার দিকে তিনজন আরোহীসহ গাড়িটি দরিয়াগঞ্জ মার্কেট থেকে সোনেহরি মসজিদ পার্কিংয়ের দিকে যায়।

দুই ঘণ্টা পর গাড়িটিকে সেই পার্কিং এলাকা থেকে বের হতে দেখা যায়। পুরান দিল্লি রেলস্টেশনের কাছে একটি ইউ-টার্ন নেওয়ার পর গাড়িটি লোয়ার সুভাষ মার্গের দিকে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।

একজন তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “ফুটেজে দেখা গেছে, ছাতা রেলচক এলাকার ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়িটি ধীরে গতি কমায়—এ সময়ই বিস্ফোরণটি ঘটে।”


বহুবার মালিকানা বদলেছে গাড়িটি

তদন্তে জানা গেছে, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ছিল এইচআর২৬সিই৭৬৭৪ এবং এটি হরিয়ানার নিবন্ধিত। গাড়িটি ২০১৪ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয় গুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ সালমানের নামে। পরবর্তীতে এটি একাধিকবার বিক্রি হয়।

একজন তদন্তকারী জানান, “সালমান গাড়িটি দেবেন্দর নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। পরে দেবেন্দর এটি আম্বালার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করেন। বর্তমান মালিকের খোঁজ এখনো চলছে। নিবন্ধিত মালিককে দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।”

হিন্দুস্তান টাইমস প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) কপিতে প্রাথমিক মালিকানার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আম্বালা পুলিশ একটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে, যেখানে গুরগাঁও পুলিশ দিল্লি তদন্তকারীদের সহায়তা করছে।


একাধিক সংস্থার যৌথ তদন্ত শুরু

বিস্ফোরণের ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানান, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), গোয়েন্দা ব্যুরো (আইবি) এবং দিল্লি পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা এই মামলার তদন্ত করছে।

তিনি বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে একটি ব্যাপক তদন্ত চলছে। তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”


রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

ঘটনার পরই রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়াকড়ি করা হয়। সরকারি ভবন, মেট্রো স্টেশন এবং ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সিআইএসএফ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিস্ফোরণের স্থানটি লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট ১ ও ৪-এর কাছেই ছিল। নিরাপত্তার কারণে অস্থায়ীভাবে ওই গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।


#লালকেল্লা_বিস্ফোরণ #দিল্লি_সংবাদ #ভারত_তদন্ত #সারাক্ষণ_রিপোর্ট