একীকরণ ও নিয়ন্ত্রণে অচলাবস্থা
উত্তর সিরিয়ায় সরকার ও কুর্দি‑নিয়ন্ত্রিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) যুদ্ধবিরতির শেষে মুখোমুখি। শরা সরকারের সেনারা কয়েক সপ্তাহে এসডিএফের দখলে থাকা তেলক্ষেত্র, বাঁধ ও কারাগার দখল করেছে এবং কুর্দি যোদ্ধাদের জাতীয় বাহিনীতে যোগ দিতে বলেছে। সাঁজোয়া বহর কুর্দি শহরের উপকণ্ঠে জড়ো হয়েছে; এসডিএফ ও তাদের প্রশাসন বলছে তারা স্কুল ও হাসপাতালের মতো স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না। ২০২৪ সালে বাশার আল‑আসাদকে উৎখাত করা শরা এখন দেশের সম্পদ ও ক্ষমতা পুনর্দখলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

কূটনীতি ও রক্তপাত এড়ানোর চেষ্টা
রাক্কা ও হাসাকার মানুষ নতুন সংঘর্ষের ভয়ে মাঠ ও দোকান ছাড়ার কথা ভাবছে। সাম্প্রতিক অভিযানে সরকারি বাহিনী কৃষিজমি ও শক্তি স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে অর্থনীতি সচল রাখতে আয় বাড়িয়েছে। অধিকারকর্মীরা জানান, অনেক গ্রাম আইএস থেকে মুক্ত হলেও এখন দুই পক্ষের নজরদারি ও চেকপয়েন্টে আটকে; হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। এসডিএফ‑শাসিত শহরের রাস্তায় স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে ব্যানার দেখা যায়, আর দামেস্কের সংবাদমাধ্যম এই দাবি বিচ্ছিন্নতাবাদ বলে সমালোচনা করছে।

এই অচলাবস্থা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স কূটনীতি চালাচ্ছে। তারা সতর্ক করছেন যুদ্ধ শুরু হলে কুর্দি বেসামরিকদের হত্যা ও আইএস বন্দীদের পালানোর ঝুঁকি থাকবে। রাশিয়া ও ইরান পুনঃএকত্রীকরণের পক্ষে থাকলেও তুরস্কের জড়িয়ে পড়া ও তেল রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সতর্ক। মার্কিন বাহিনী শত শত আইএস বন্দীকে ইরাকের কারাগারে স্থানান্তর করছে যাতে সম্ভাব্য হামলা উগ্রবাদ না উস্কে দেয়। ওয়াশিংটন ও প্যারিস শরাকে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে ও ফেডারেল কাঠামোর মধ্যে কুর্দি স্বায়ত্তশাসন মেনে নিতে চাপ দিচ্ছে। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মনে করেন বন্দী স্থানান্তর সময়সীমা বাড়ানোর কারণ হতে পারে। যুদ্ধ ও সংকটে ক্লান্ত সিরিয়ানরা সংবাদমাধ্যমে চোখ রেখে আশা করছে রাজনৈতিক সমঝোতা তাদের আরেকটি সংঘাত থেকে রক্ষা করবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















