০৩:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন আকাশযুদ্ধের কিংবদন্তি ল্যাঙ্কাস্টার: ভুল পরিকল্পনা থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ বোমারু বিমানের উত্থান ‘প্যানজার’ ভেবে ভুল, আসলে ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী প্যাটন ট্যাংক চীনের চাপের মুখে যুদ্ধপ্রস্তুতি জোরদার, তাইওয়ানের বৃহত্তম সামরিক মহড়া শুরু এক দশকের ভালোবাসার প্রতিদান, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম স্টেডিয়াম কনসার্ট নিয়ে ফিরছেন চার্লি পুথ রোগীর আস্থা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সফল ব্যবহার সম্ভব নয়: সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাপটের গাড়ি থেকে ‘ভয়ের প্রতীক’: কেন বদলে গেল মাহিন্দ্রা থারের ভাবমূর্তি? কর্মক্ষেত্রে আহত শ্রমিকদের আইনি লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে, আইনজীবীর সংকটে বাড়ছে ভোগান্তি জাতিসংঘের সামনে তিব্বতি কর্মীর আত্মাহুতি, নতুন করে আলোচনায় তিব্বত আন্দোলন ব্ল্যাকপিঙ্কের ১০ বছর: উদযাপনের অপেক্ষায় ভক্তরা, কিন্তু বাড়ছে হতাশা

মস্তিষ্ক টিউমার অস্ত্রোপচারের পর ঘরে বসেই বাড়তি সহায়তা পাচ্ছেন রোগীরা

মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার পর হাসপাতাল ছাড়ার পরবর্তী সময়টিকে অনেক রোগী ও পরিবারই সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত সময়টিতে রোগীদের পাশে দাঁড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যখাত। খুব শিগগিরই মস্তিষ্ক টিউমার রোগীরা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর একজন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারবেন, যিনি তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেবেন।

চিকিৎসার পর জটিল সময় সামলাতে নতুন উদ্যোগ
মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির পর খিঁচুনি, দৃষ্টির ঝাপসা ভাব, স্নায়বিক জটিলতাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ রোগী ও পরিবারের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট আলাদা করে ক্লিনিক্যাল কেয়ার সমন্বয়কারী নিয়োগ দিচ্ছে। এই সমন্বয়কারীরা হাসপাতাল ছাড়ার পর রোগীদের জন্য প্রধান যোগাযোগের ব্যক্তি হিসেবে কাজ করবেন।

Patients and Care Partners Share 17 Tips From Their Brain Surgery Experience

রোগী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসা
মস্তিষ্ক টিউমার সোসাইটি সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেলিসা লিম বলেন, চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার পথ অনেক সময় আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে। তিনি নিজেও একজন বেঁচে ফেরা রোগী, যিনি অস্ত্রোপচারের পর মুখের স্নায়ু পক্ষাঘাতে ভুগেছেন। তাঁর ভাষায়, দাতব্য সংস্থায় রোগীরা প্রায়ই পরামর্শ চাইতে যোগাযোগ করেন, কিন্তু চিকিৎসাজনিত জরুরি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীর সরাসরি সহায়তা সবচেয়ে কার্যকর। নতুন এই সমন্বয়কারীরা সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে।

হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার সেতুবন্ধন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালগুলোর হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী ও এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করে রোগীর ঘরে ফেরার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলছেন। নতুন সমন্বয়কারীরা অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় রোগীর জটিলতা নজরে রাখবেন, পরিবারকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন এবং মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবেন।

Patients and Care Partners Share 17 Tips From Their Brain Surgery Experience

অর্থসহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মস্তিষ্ক টিউমার সোসাইটির আয়োজিত প্রথম তহবিল সংগ্রহ নৈশভোজ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলো মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের সহায়তায় বিদ্যমান ঘাটতিও চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবিক গল্পের অনুপ্রেরণা
এই আয়োজনেই সম্মাননা দেওয়া হয় এমন কয়েকজনকে, যারা মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁদের একজন পিটার কোহ। স্ত্রীর মস্তিষ্ক টিউমার ধরা পড়ার পর তিনি এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। স্ত্রীর মৃত্যু সত্ত্বেও তিনি দুঃখে থেমে না থেকে নিয়মিত রোগী ও পরিচর্যাকারীদের সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, জীবন এগিয়ে চলে, আর অন্যের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর স্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা, ন্যাটোকে সীমিত হামলায় পরীক্ষা করতে পারেন পুতিন

মস্তিষ্ক টিউমার অস্ত্রোপচারের পর ঘরে বসেই বাড়তি সহায়তা পাচ্ছেন রোগীরা

০২:৩০:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মস্তিষ্কের টিউমার অস্ত্রোপচার বা চিকিৎসার পর হাসপাতাল ছাড়ার পরবর্তী সময়টিকে অনেক রোগী ও পরিবারই সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করেন। সেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত সময়টিতে রোগীদের পাশে দাঁড়াতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্যখাত। খুব শিগগিরই মস্তিষ্ক টিউমার রোগীরা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর একজন নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতে পারবেন, যিনি তাদের সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়ায় দিকনির্দেশনা দেবেন।

চিকিৎসার পর জটিল সময় সামলাতে নতুন উদ্যোগ
মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির পর খিঁচুনি, দৃষ্টির ঝাপসা ভাব, স্নায়বিক জটিলতাসহ নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ রোগী ও পরিবারের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট আলাদা করে ক্লিনিক্যাল কেয়ার সমন্বয়কারী নিয়োগ দিচ্ছে। এই সমন্বয়কারীরা হাসপাতাল ছাড়ার পর রোগীদের জন্য প্রধান যোগাযোগের ব্যক্তি হিসেবে কাজ করবেন।

Patients and Care Partners Share 17 Tips From Their Brain Surgery Experience

রোগী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য ভরসা
মস্তিষ্ক টিউমার সোসাইটি সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মেলিসা লিম বলেন, চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার পথ অনেক সময় আতঙ্কজনক হয়ে ওঠে। তিনি নিজেও একজন বেঁচে ফেরা রোগী, যিনি অস্ত্রোপচারের পর মুখের স্নায়ু পক্ষাঘাতে ভুগেছেন। তাঁর ভাষায়, দাতব্য সংস্থায় রোগীরা প্রায়ই পরামর্শ চাইতে যোগাযোগ করেন, কিন্তু চিকিৎসাজনিত জরুরি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মীর সরাসরি সহায়তা সবচেয়ে কার্যকর। নতুন এই সমন্বয়কারীরা সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে।

হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার সেতুবন্ধন
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, এই উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালগুলোর হাসপাতাল থেকে ঘরে ফেরার কর্মসূচির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী ও এলাকার স্বেচ্ছাসেবীরা একসঙ্গে কাজ করে রোগীর ঘরে ফেরার প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলছেন। নতুন সমন্বয়কারীরা অস্ত্রোপচার বা রেডিওথেরাপির পর বাড়িতে থাকা অবস্থায় রোগীর জটিলতা নজরে রাখবেন, পরিবারকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবেন এবং মানসিক চাপ কমাতে ভূমিকা রাখবেন।

Patients and Care Partners Share 17 Tips From Their Brain Surgery Experience

অর্থসহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মস্তিষ্ক টিউমার সোসাইটির আয়োজিত প্রথম তহবিল সংগ্রহ নৈশভোজ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ সংগ্রহ হয়েছে, যা এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হবে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রোগী ও তাদের পরিবারের জন্য মানসিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালগুলো মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের সহায়তায় বিদ্যমান ঘাটতিও চিহ্নিত করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মানবিক গল্পের অনুপ্রেরণা
এই আয়োজনেই সম্মাননা দেওয়া হয় এমন কয়েকজনকে, যারা মস্তিষ্ক টিউমার রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ অবদান রেখেছেন। তাঁদের একজন পিটার কোহ। স্ত্রীর মস্তিষ্ক টিউমার ধরা পড়ার পর তিনি এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। স্ত্রীর মৃত্যু সত্ত্বেও তিনি দুঃখে থেমে না থেকে নিয়মিত রোগী ও পরিচর্যাকারীদের সহায়তা করে যাচ্ছেন। তাঁর কথায়, জীবন এগিয়ে চলে, আর অন্যের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর স্ত্রীর প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান।