অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে—চীন ও তুরস্ক থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কিনেছে ইসলামাবাদ।
এই কেনাকাটার পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে ধারণা। মে ২০২৫-এ ভারতীয় অভিযানে সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও একাধিক বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরই এই তৎপরতা জোরালো হয়েছে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রে জোর
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান দীর্ঘপাল্লার একাধিক মানববিহীন যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছে। এসব ড্রোন আকাশে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে এবং নির্ভুল অস্ত্র বহনে সক্ষম।
এর পাশাপাশি, দুই শত কিলোমিটারের বেশি পাল্লার সহস্রাধিক কামিকাজে ড্রোন যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের ভাণ্ডারে। স্বল্প পাল্লার আরও বহু ড্রোন কেনা হয়েছে নজরদারি ও আক্রমণের কাজে ব্যবহারের জন্য।
ড্রোন হামলা ঠেকাতে পাকিস্তান জ্যামিংভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাতেও বড় বিনিয়োগ করেছে। সীমিত সংখ্যক সরাসরি ধ্বংসকারী ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা, ভারী অস্ত্র ও নৌবাহিনী
অপারেশন সিঁদুরে আকাশপথে ভারতের আধিপত্যের পর পাকিস্তান নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসিয়েছে। এসব ব্যবস্থা বিশেষ করে নৌবাহিনীর জাহাজ রক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ আছে।
স্থলবাহিনীর জন্য কেনা হয়েছে নতুন রকেট, সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ট্যাংক ও গোলাবারুদ। আক্রমণকারী হেলিকপ্টার সংগ্রহেও এগিয়েছে ইসলামাবাদ।
নৌবাহিনীতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। চীন ও তুরস্ক থেকে যুদ্ধজাহাজ, হোভারক্রাফট এবং সাবমেরিন সংগ্রহের কাজ চলছে।
ভারতের সমান্তরাল প্রস্তুতি
পাকিস্তানের অস্ত্র কেনার পাশাপাশি ভারতও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে ভারতীয় বাহিনীতে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অপারেশন সিঁদুরের পর দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্যের নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই ভবিষ্যৎ সংঘাত মাথায় রেখে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















