০৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত: মির্জা ফখরুল সাদ্দামের জামিন: এবার স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবর দেখবে! পাকিস্তান–ভারত ম্যাচ বয়কটের ইঙ্গিত, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে কড়া অবস্থানে পিসিবি বাংলাদেশ প্রশাসন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে নতুন মুখ, সভাপতি কানিজ মৌলা ও মহাসচিব বাবুল মিয়া সমালোচনার ঝড়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার পদত্যাগ ভারতের মুসলমানদের কাছে সংস্কার আজ কোনো বিভ্রান্তি নয়, ন্যায়ের লড়াইয়েরই অংশ ইইউ চুক্তি কেন ভারতীয় কৃষকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি লাভজনক সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য বিরোধীদলীয় নেতার ভূমিকা অপরিহার্য রিপাবলিক ডে প্যারেডে অপারেশন সিঁদুর: ভারতের প্রতিরক্ষা ভাবনায় এক নতুন অধ্যায়

তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে ইতিহাস, আলোচনায় সাহস না ঝুঁকি

বিশ্বের নজর এখন তাইওয়ানের দিকে। রাজধানীর প্রতীকী আকাশচুম্বী ভবন তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া উঠে ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড। এই দুঃসাহসিক অভিযানে তাইওয়ান পেয়েছে অভূতপূর্ব বৈশ্বিক প্রচার, তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই ঝুঁকি কি সত্যিই নেওয়া উচিত ছিল।

রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক সাড়া

পঁচিশ জানুয়ারি অভিযানের পরপরই তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি লাই চিং তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্যবাদ জানান আয়োজকদের। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই ঘটনা শুধু তাইপেই এক শূন্য এক নয়, বরং তাইওয়ানের মানুষ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে। অনলাইনে অসংখ্য দর্শক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, কেউ কেউ বলেন, নিজেদের পতাকা পেছনে উড়তে দেখে এই অভিযান তাদের আবেগে ভাসিয়েছে।

কেন এই আয়োজন এত গুরুত্বপূর্ণ

চীনের কূটনৈতিক চাপের মুখে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করার চেষ্টা করছে তাইওয়ান। তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে ওঠার এই সরাসরি সম্প্রচার সেই প্রচেষ্টারই অংশ। একসময় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই ভবন আবারও বিশ্বসংবাদে শিরোনাম হয়।

চোখ ধাঁধানো দৃশ্য, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত

পঁচিশ জানুয়ারির সকালে বিশ্বজুড়ে মানুষ সরাসরি সম্প্রচারে দেখেন, কোনো দড়ি বা সুরক্ষা ছাড়াই ভবনের গায়ে উঠে যাচ্ছেন হনোল্ড। ভবনের নিচে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে হাততালি ও ব্যানারে উৎসাহ দেন। প্রায় নব্বই মিনিট পর পাঁচশ আট মিটার উচ্চতায় পৌঁছে প্রবল বাতাসের মধ্যেই তিনি নিজের ছবি তোলেন। দর্শকদের মধ্যে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

 

ঝুঁকির দিকগুলো কি উপেক্ষিত ছিল

এই সাফল্যের আড়ালে ছিল ভয়াবহ ঝুঁকি। সরাসরি সম্প্রচার সামান্য বিলম্বে দেখানো হয়, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে না দেখাতে হয়। আগের দিন বৃষ্টির কারণে অভিযান পিছিয়েও দেওয়া হয়েছিল। মাঝপথে জুতার নিচের জমে থাকা তেল পরিষ্কার করতে থামতে হয় তাঁকে, রোদের তাপে হাত ঘেমে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। পর্যবেক্ষণ ডেকের কাচে দর্শকদের টোকা ও ক্যামেরার ঝলকানিও বিভ্রান্তিকর হতে পারত।

একটি ভুল মানেই ভয়াবহ পরিণতি

সামান্য ভুল হলেই মৃত্যু অনিবার্য ছিল। হনোল্ডের স্ত্রী পরে জানান, পুরো সময়টায় তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। অতীতে এমন সরাসরি সম্প্রচারে মৃত্যুর ঘটনা মানুষকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে—এই স্মৃতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছিল

An American is climbing Taipei 101 with no ropes, live on TV. It's drawing  excitement — and concern.

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের অনুমতি দিয়ে মূলত নরম শক্তির সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছিল। এত বড় ভবনে দড়িবিহীন আরোহণে সরকারি অনুমতির ঘটনা এটিই প্রথম। হনোল্ড নিজেও স্বীকার করেন, ভবনে ওঠার অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতার তুলনায় এই আরোহণ প্রযুক্তিগতভাবে তুলনামূলক সহজ ছিল।

ভবনের নকশাই বাড়তি সুবিধা

তাইপেই এক শূন্য এক-এর বাঁশের বাক্সের মতো নকশায় প্রতি আট তলায় বারান্দা রয়েছে। এতে প্রয়োজনে থামার বা ভবনের ভেতরে ঢোকার সুযোগ ছিল। আগেও দড়ি ব্যবহার করে এই ভবনে ওঠার নজির রয়েছে। দুই হাজার চার সালে ফরাসি আরোহী আলাঁ রোবে আমন্ত্রণে একই ভবনে আরোহণ করেছিলেন।

শেষ কথা

এই অভিযানে শহুরে কাঠামোয় সবচেয়ে উঁচু দড়িবিহীন আরোহণের ইতিহাস তৈরি হয়েছে। তাইওয়ান বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় এসেছে, এতে সন্দেহ নেই। তবে আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার তাগিদে এমন ঝুঁকি নেওয়া কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নও থেকেই যায়।

Taiwan gains global visibility with Alex Honnold's Taipei 101 climb, but  were the risks justified? - Asia News NetworkAsia News Network

 

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে ট্রেনে কাটা পড়ে নারী ও দুই শিশুর মৃত্যু

তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে ইতিহাস, আলোচনায় সাহস না ঝুঁকি

০৫:২৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বের নজর এখন তাইওয়ানের দিকে। রাজধানীর প্রতীকী আকাশচুম্বী ভবন তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া উঠে ইতিহাস গড়েছেন মার্কিন পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড। এই দুঃসাহসিক অভিযানে তাইওয়ান পেয়েছে অভূতপূর্ব বৈশ্বিক প্রচার, তবে প্রশ্ন উঠেছে—এই ঝুঁকি কি সত্যিই নেওয়া উচিত ছিল।

রাষ্ট্রপতির প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক সাড়া

পঁচিশ জানুয়ারি অভিযানের পরপরই তাইওয়ানের রাষ্ট্রপতি লাই চিং তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধন্যবাদ জানান আয়োজকদের। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, এই ঘটনা শুধু তাইপেই এক শূন্য এক নয়, বরং তাইওয়ানের মানুষ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকেও বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে। অনলাইনে অসংখ্য দর্শক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন, কেউ কেউ বলেন, নিজেদের পতাকা পেছনে উড়তে দেখে এই অভিযান তাদের আবেগে ভাসিয়েছে।

কেন এই আয়োজন এত গুরুত্বপূর্ণ

চীনের কূটনৈতিক চাপের মুখে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের উপস্থিতি জোরালো করার চেষ্টা করছে তাইওয়ান। তাইপেই এক শূন্য এক বেয়ে ওঠার এই সরাসরি সম্প্রচার সেই প্রচেষ্টারই অংশ। একসময় বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু এই ভবন আবারও বিশ্বসংবাদে শিরোনাম হয়।

চোখ ধাঁধানো দৃশ্য, শ্বাসরুদ্ধকর মুহূর্ত

পঁচিশ জানুয়ারির সকালে বিশ্বজুড়ে মানুষ সরাসরি সম্প্রচারে দেখেন, কোনো দড়ি বা সুরক্ষা ছাড়াই ভবনের গায়ে উঠে যাচ্ছেন হনোল্ড। ভবনের নিচে হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে হাততালি ও ব্যানারে উৎসাহ দেন। প্রায় নব্বই মিনিট পর পাঁচশ আট মিটার উচ্চতায় পৌঁছে প্রবল বাতাসের মধ্যেই তিনি নিজের ছবি তোলেন। দর্শকদের মধ্যে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস।

 

ঝুঁকির দিকগুলো কি উপেক্ষিত ছিল

এই সাফল্যের আড়ালে ছিল ভয়াবহ ঝুঁকি। সরাসরি সম্প্রচার সামান্য বিলম্বে দেখানো হয়, যাতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে না দেখাতে হয়। আগের দিন বৃষ্টির কারণে অভিযান পিছিয়েও দেওয়া হয়েছিল। মাঝপথে জুতার নিচের জমে থাকা তেল পরিষ্কার করতে থামতে হয় তাঁকে, রোদের তাপে হাত ঘেমে যাওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। পর্যবেক্ষণ ডেকের কাচে দর্শকদের টোকা ও ক্যামেরার ঝলকানিও বিভ্রান্তিকর হতে পারত।

একটি ভুল মানেই ভয়াবহ পরিণতি

সামান্য ভুল হলেই মৃত্যু অনিবার্য ছিল। হনোল্ডের স্ত্রী পরে জানান, পুরো সময়টায় তিনি চরম আতঙ্কে ছিলেন। অতীতে এমন সরাসরি সম্প্রচারে মৃত্যুর ঘটনা মানুষকে মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে—এই স্মৃতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

কেন অনুমতি দেওয়া হয়েছিল

An American is climbing Taipei 101 with no ropes, live on TV. It's drawing  excitement — and concern.

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের অনুমতি দিয়ে মূলত নরম শক্তির সাফল্য অর্জন করতে চেয়েছিল। এত বড় ভবনে দড়িবিহীন আরোহণে সরকারি অনুমতির ঘটনা এটিই প্রথম। হনোল্ড নিজেও স্বীকার করেন, ভবনে ওঠার অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন, তাই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর অভিজ্ঞতার তুলনায় এই আরোহণ প্রযুক্তিগতভাবে তুলনামূলক সহজ ছিল।

ভবনের নকশাই বাড়তি সুবিধা

তাইপেই এক শূন্য এক-এর বাঁশের বাক্সের মতো নকশায় প্রতি আট তলায় বারান্দা রয়েছে। এতে প্রয়োজনে থামার বা ভবনের ভেতরে ঢোকার সুযোগ ছিল। আগেও দড়ি ব্যবহার করে এই ভবনে ওঠার নজির রয়েছে। দুই হাজার চার সালে ফরাসি আরোহী আলাঁ রোবে আমন্ত্রণে একই ভবনে আরোহণ করেছিলেন।

শেষ কথা

এই অভিযানে শহুরে কাঠামোয় সবচেয়ে উঁচু দড়িবিহীন আরোহণের ইতিহাস তৈরি হয়েছে। তাইওয়ান বিশ্বমঞ্চে আলোচনায় এসেছে, এতে সন্দেহ নেই। তবে আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতার তাগিদে এমন ঝুঁকি নেওয়া কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নও থেকেই যায়।

Taiwan gains global visibility with Alex Honnold's Taipei 101 climb, but  were the risks justified? - Asia News NetworkAsia News Network