৭৭তম রিপাবলিক ডে প্যারেডে অপারেশন সিঁদুর শুধু একটি সামরিক অভিযানের স্মরণ ছিল না। এটি ছিল ভারতের নিরাপত্তা নীতির বদলে যাওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা।
২০২৫ সালের ৭ মে শুরু হওয়া এই অভিযানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে। পহেলগামের বৈসরান উপত্যকায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। দিল্লির কর্তব্যপথে প্রদর্শিত ত্রিসেনা ট্যাবলো সেই অভিযানেরই প্রতিচ্ছবি।
যৌথ অভিযানের বার্তা ও নীতিগত পরিবর্তন
সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা একাধিক সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্য করা হয়। নিহত হয় শতাধিক জঙ্গি। অভিযানের বড় দিক ছিল সীমান্ত না পেরিয়েও নির্ভুল আঘাত হানা।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি ছিল অসম যুদ্ধের নতুন ধরণ মোকাবিলার প্রস্তুত উত্তর। একই সঙ্গে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহারকে সামনে আনা হয়েছে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে।
![]()
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরে বলেন, অপারেশন সিঁদুর ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির নতুন মানদণ্ড।
প্রযুক্তি, পাল্টা আঘাত ও নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা
এই অভিযানে প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয় দেশীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং কমান্ড সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করে।
পাকিস্তানের পাল্টা হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয় ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। এরপর ভারতীয় বাহিনী পাল্টা আঘাতে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে। তীব্রতা সত্ত্বেও সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।
১০ মে দুই দেশের সামরিক যোগাযোগের পর স্থল, নৌ ও আকাশপথে অভিযান বন্ধে সম্মতি হয়।
![]()
প্যারেডে প্রদর্শন, ভবিষ্যতের ইঙ্গিত
রিপাবলিক ডে প্যারেডে ‘অপারেশন সিঁদুর: বিজয় থ্রু জয়েন্টনেস’ শীর্ষক ট্যাবলোতে তুলে ধরা হয় অভিযানে ব্যবহৃত অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম। আকাশে বিভিন্ন ফরমেশনে উড্ডয়ন করে যুদ্ধবিমান।
এই প্রদর্শন শুধু শক্তির জানান নয়। এটি একটি বার্তা—ভারতের প্রতিরক্ষা নীতি এখন আরও সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দৃঢ়।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















