০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সকালে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন বাংলাদেশ ডেইরি বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, দুধ উৎপাদন ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের টালমাটাল ১৮ মাস, বদলে যাচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থার চিত্র বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে আগামী সপ্তাহে বিজিবির অভিযানে ২০২৫ সালে ১৯ হাজার ৮০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ দরপতনের মাঝেও ঘুরে দাঁড়াল ডিএসই, সূচক ঊর্ধ্বমুখী হলেও বেশিরভাগ শেয়ারের দাম কমেছে

সাদ্দামের জামিন: এবার স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবর দেখবে!

স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর তিন দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, কারাগারের ফটকে শেষ দেখা হলেও এবার কি তিনি স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবরের সামনে দাঁড়াতে পারবেন।

স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের নয় মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

কারাগার ফটকে শেষ দেখা
ঘটনার পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে সাদ্দামকে শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পরিবারের ছয় সদস্য কারাগারের ফটকে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় পান তিনি, যা উপস্থিত সবার জন্যই ছিল আবেগঘন মুহূর্ত।

প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে বিতর্ক
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। পরিবারের মৌখিক ইচ্ছার ভিত্তিতেই কেবল কারাগার ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক দিক বিবেচনায় যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

গ্রেপ্তার ও কারাবাসের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বছরের পাঁচ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি জামিন পেলেও এখনো সেই নীরব কবরের সামনে দাঁড়ানোর প্রশ্ন ঘিরে জনমনে কৌতূহল ও আবেগ বিরাজ করছে।

#সাদ্দামের_জামিন #স্ত্রী_সন্তানের_মৃত্যু #কারাগার_ফটকে_শেষ_দেখা #প্যারোল_বিতর্ক #যশোর_কারাগার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা

সাদ্দামের জামিন: এবার স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবর দেখবে!

০৭:০৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুর তিন দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। হাইকোর্ট মানবিক বিবেচনায় তাকে ছয় মাসের জামিন দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, কারাগারের ফটকে শেষ দেখা হলেও এবার কি তিনি স্ত্রী ও সন্তানের নীরব কবরের সামনে দাঁড়াতে পারবেন।

স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই ঘরে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের নয় মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।

কারাগার ফটকে শেষ দেখা
ঘটনার পরদিন শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে সাদ্দামকে শেষবারের মতো তার স্ত্রী ও সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে পরিবারের ছয় সদস্য কারাগারের ফটকে প্রবেশ করেন। সেখানে প্রায় পাঁচ মিনিট সময় পান তিনি, যা উপস্থিত সবার জন্যই ছিল আবেগঘন মুহূর্ত।

প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া নিয়ে বিতর্ক
স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পরও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, সাদ্দামের পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো লিখিত আবেদন করা হয়নি। পরিবারের মৌখিক ইচ্ছার ভিত্তিতেই কেবল কারাগার ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক দিক বিবেচনায় যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়।

গ্রেপ্তার ও কারাবাসের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত বছরের পাঁচ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি জামিন পেলেও এখনো সেই নীরব কবরের সামনে দাঁড়ানোর প্রশ্ন ঘিরে জনমনে কৌতূহল ও আবেগ বিরাজ করছে।

#সাদ্দামের_জামিন #স্ত্রী_সন্তানের_মৃত্যু #কারাগার_ফটকে_শেষ_দেখা #প্যারোল_বিতর্ক #যশোর_কারাগার #সারাক্ষণ_রিপোর্ট