২০২৫ সালে দেশের সীমান্ত এলাকা ও বিভিন্ন অঞ্চলে টানা অভিযানে বিপুল পরিমাণ চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এসব জব্দকৃত পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ১৯ হাজার ৮০ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
এক বছরে বিস্তৃত অভিযান
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এই সময়ের মধ্যে সোনা, রুপা, শাড়ি, তৈরি পোশাক, কাপড়, প্রসাধনী, নকল গহনা ও আতশবাজিসহ বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত উল্লেখযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬০ কেজির বেশি সোনা, ১৬৮ কেজির বেশি রুপা, এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি শাড়ি, বিভিন্ন ধরনের পোশাক ও কাপড়, প্রায় ৬৯ লাখ প্রসাধনী সামগ্রী, প্রায় এক লাখ নকল গহনা এবং দুই কোটির বেশি আতশবাজি।
খাদ্যপণ্য ও শিল্প উপকরণ উদ্ধার
অভিযানকালে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও শিল্পসংশ্লিষ্ট পণ্যও উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৬৫ হাজার কেজি চিনি, ৩৭ হাজার কেজির বেশি চা পাতা, তিন লাখ কেজির বেশি পেঁয়াজ, রসুন ও জিরা, বিপুল পরিমাণ কাঠ, পাথর ও কয়লা। এছাড়া সার, বীজ, জ্বালানি তেল, মোবাইল ফোন ও এর যন্ত্রাংশ, চশমা, চকলেট, গবাদিপশু এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও জব্দ করা হয়েছে।
অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার
২০২৫ সালে বিজিবির অভিযানে বিপজ্জনক অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার হয়। এর মধ্যে রয়েছে পিস্তল, সাবমেশিনগান, রাইফেল, রিভলভার, হ্যান্ড গ্রেনেড, মর্টার শেল, গুলি, বারুদ, মাইন, হাতবোমা, পেট্রোল বোমা ও ককটেলসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র।
মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য
চোরাচালানের পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের কথা জানিয়েছে বিজিবি। জব্দকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে প্রায় দেড় কোটি ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ আইস, ফেনসিডিল, বিদেশি মদ, দেশি মদ, বিয়ার, গাঁজা, হেরোইন, কোকেন, এলএসডি, যৌন উত্তেজক ওষুধ, কাশির সিরাপ, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ এবং বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় ইনজেকশন।
গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা
এই এক বছরে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজার ৩৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশি, ১২৪ জন ভারতীয় এবং ৭ হাজার ৩৬৮ জন মিয়ানমারের নাগরিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং চোরাচালান ও মাদক রোধে এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















