১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যু, শ্বশুরের করা হত্যা মামলা নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে: তারেক রহমান রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার পর সকালে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন বাংলাদেশ ডেইরি বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ, দুধ উৎপাদন ও মান বাড়ানোর লক্ষ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কারের টালমাটাল ১৮ মাস, বদলে যাচ্ছে রাজস্ব ব্যবস্থার চিত্র বড় করপোরেট ঋণে লাগাম, বন্ড বাজারে ঝুঁকতে হবে শিল্পগোষ্ঠীগুলো: গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর পাকিস্তানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত আসছে আগামী সপ্তাহে বিজিবির অভিযানে ২০২৫ সালে ১৯ হাজার ৮০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন

ঢাকা, সোমবার—আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নারী প্রচারকর্মী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নারী কর্মীরা হামলা, অপমান ও বাধার মুখে পড়ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গত কয়েক দিনে তাদের নারী কর্মীরা প্রচারণায় বের হলে বিভিন্ন এলাকায় তাদের ওপর আক্রমণ ও অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে নিকাব পরা নারীদের তা খুলতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকা-১৫সহ কয়েকটি আসনের উদাহরণ টেনে জুবায়ের বলেন, নারী কর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে নারী ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যারা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। তার মতে, নির্বাচনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা এমন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক

এই অভিযোগগুলো নিয়ে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল, জুবায়েরের নেতৃত্বে, রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কমিশন বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

দ্বিতীয় অভিযোগে জামায়াত জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটদের পক্ষ থেকেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। জুবায়ের প্রশ্ন তোলেন, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তবে তিনি কেন প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষককে হয়রানি বা জরিমানা করা হলে তা তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সমাজের সামনে অপমানজনক হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি

বৈঠকে জামায়াত আবারও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানায়। জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একটি নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

নারী প্রার্থী না দেওয়ার ব্যাখ্যা

চলমান নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের চারটি কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে নারী প্রার্থী বিষয়ে যে ৫ শতাংশের প্রস্তাব আছে, তা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পাস হলে কার্যকর হবে এবং এটি এবার বাধ্যতামূলক নয়। এই বিধান পরবর্তী সংসদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দল এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি দলটির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া তৃণমূল থেকে শুরু হয় এবং নারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।

জুবায়েরের দাবি, তৃণমূল থেকে শুরু করে শুরা পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্ব কাঠামোর ৪০ শতাংশের বেশি পদে নারী নেতৃত্ব রয়েছে।

অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতের অবস্থান

বিএনপির পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ—জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল পেমেন্ট নম্বর চেয়েছে—এ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।

জুলাই জাতীয় সনদ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার

উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যাতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ এবং ১৪তম সংসদ নির্বাচনে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে। যদিও এই সমঝোতা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি। মোট ২৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট এতে সম্মতি দিলেও কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করে। তবু ১৩তম সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ দলই এই অঙ্গীকার মানেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআইএমএসের লড়াইয়ে সুপারবাগ, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যর্থ হলে ভরসা গবেষণা ও দ্রুত শনাক্তকরণ

জামায়াতের নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে একাধিক আবেদন

০৯:১২:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা, সোমবার—আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের নারী প্রচারকর্মী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নারী কর্মীরা হামলা, অপমান ও বাধার মুখে পড়ছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের হয়রানির অভিযোগ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গত কয়েক দিনে তাদের নারী কর্মীরা প্রচারণায় বের হলে বিভিন্ন এলাকায় তাদের ওপর আক্রমণ ও অশোভন আচরণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রকাশ্যে নিকাব পরা নারীদের তা খুলতে বাধ্য করার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকা-১৫সহ কয়েকটি আসনের উদাহরণ টেনে জুবায়ের বলেন, নারী কর্মীদের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এতে নারী ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যারা মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক। তার মতে, নির্বাচনে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মীদের দ্বারা এমন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক

এই অভিযোগগুলো নিয়ে জামায়াতের একটি প্রতিনিধিদল, জুবায়েরের নেতৃত্বে, রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কমিশন বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ

দ্বিতীয় অভিযোগে জামায়াত জানায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে গেলে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা, এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটদের পক্ষ থেকেও বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। জুবায়ের প্রশ্ন তোলেন, একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন, তবে তিনি কেন প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না।

তিনি বলেন, কোনো শিক্ষককে হয়রানি বা জরিমানা করা হলে তা তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও সমাজের সামনে অপমানজনক হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

নির্বাচন কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের দাবি

বৈঠকে জামায়াত আবারও ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানায়। জবাবে নির্বাচন কমিশন জানায়, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং একটি নির্দেশনাও জারি করা হয়েছে।

নারী প্রার্থী না দেওয়ার ব্যাখ্যা

চলমান নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের চারটি কারণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে নারী প্রার্থী বিষয়ে যে ৫ শতাংশের প্রস্তাব আছে, তা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে পাস হলে কার্যকর হবে এবং এটি এবার বাধ্যতামূলক নয়। এই বিধান পরবর্তী সংসদের জন্য প্রযোজ্য হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি দল এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি দলটির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া তৃণমূল থেকে শুরু হয় এবং নারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।

জুবায়েরের দাবি, তৃণমূল থেকে শুরু করে শুরা পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্ব কাঠামোর ৪০ শতাংশের বেশি পদে নারী নেতৃত্ব রয়েছে।

অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াতের অবস্থান

বিএনপির পক্ষ থেকে আনা অভিযোগ—জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল পেমেন্ট নম্বর চেয়েছে—এ প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি।

জুলাই জাতীয় সনদ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার

উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা হয়, যাতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে অন্তত ৫ শতাংশ এবং ১৪তম সংসদ নির্বাচনে ১০ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে। যদিও এই সমঝোতা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়নি। মোট ২৭টি রাজনৈতিক দল ও জোট এতে সম্মতি দিলেও কয়েকটি দল ভিন্নমত পোষণ করে। তবু ১৩তম সংসদ নির্বাচনে অধিকাংশ দলই এই অঙ্গীকার মানেনি।