আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহের শুরুতেই জানাবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি জানিয়েছেন, শুক্রবার অথবা আগামী সোমবারের মধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
সোমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মহসিন নাকভি। তিনি জানান, আলোচনা ছিল ফলপ্রসূ। বৈঠকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা এবং বিশ্বকাপ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে।
সব বিকল্প খোলা রাখার নির্দেশ
পিসিবি চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইসিসির সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাতে হবে, তবে একই সঙ্গে সব বিকল্প খোলা রাখতে হবে। এর অর্থ, প্রয়োজনে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
মহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আইসিসি-সংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করেছেন এবং সিদ্ধান্ত হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত অবস্থান নেওয়া হবে।
টুর্নামেন্ট ঘিরে বাড়ছে সংকট
বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এরই মধ্যে টুর্নামেন্ট ঘিরে সংকট ঘনীভূত হয়েছে। পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মূল কারণ হলো সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত টানাপোড়েন।
বাংলাদেশ ইস্যুতে নতুন জটিলতা
গত সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যখন আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারত সফরে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানালে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের আপত্তির পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নিরাপত্তার অজুহাতে ছাড়তে বাধ্য হয়। ঢাকার দৃষ্টিতে এটি ছিল ভারতীয় পরিবেশের ঝুঁকির একটি স্পষ্ট স্বীকারোক্তি।
পাকিস্তানের সম্ভাব্য অবস্থান
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে ভারত ম্যাচ বয়কট করতে পারে কিংবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই সরে দাঁড়াতে পারে—এমন আলোচনা জোরালো হয়েছে। ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আসন্ন সিদ্ধান্ত শুধু তাদের ভবিষ্যৎ নয়, পুরো বিশ্বকাপের গতিপথের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















