দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো এবং মাননিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে সারা দেশে আঞ্চলিক কার্যালয় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড। সোমবার এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।
দুধ উৎপাদনের কেন্দ্র চিহ্নিত করার তাগিদ
ফরিদা আখতার বলেন, দেশের প্রধান দুধ উৎপাদন অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে বোর্ডের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত জনবল কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের প্রথম সভা
বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন ২০২৩-এর আওতায় গঠিত গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদা আখতার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় বোর্ডের দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দুগ্ধশিল্পে বোর্ডের ভূমিকা জোরদারের আহ্বান
সুষম খাদ্য হিসেবে দুধের গুরুত্ব তুলে ধরে ফরিদা আখতার বলেন, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, মান নির্ধারণ ও তদারকি, বিপণন ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডকে শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করতে বোর্ডের কার্যক্রম শুধু প্রধান কার্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। জাতীয় পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে এবং আইনের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত বোর্ড সভা আয়োজন করতে হবে।
সভায় উপস্থিতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
১৫ সদস্যের গভর্নিং বোর্ডের এই সভায় সহসভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। তিনি সভাকে জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শাহিনা ফেরদৌসীকে ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি একই সঙ্গে বোর্ডের সদস্যসচিবের দায়িত্বও পালন করবেন।
আইন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
সভাটি মূলত ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদনের উদ্দেশ্যে ডাকা হয়। পাশাপাশি বোর্ডের কার্যক্রম সম্পর্কে অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়।
বোর্ড সদস্যরা এই উদ্যোগের প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে দেশের দুগ্ধশিল্প আরও সংগঠিত ও গতিশীল হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















